নাপোলির বিপক্ষে ড্র করল বার্সা

4

বল দখলের পাশাপাশি আক্রমণেও আধিপত্য করল বার্সেলোনা। সুযোগও মিলল অনেক। তবে দিন শেষে আরও একবার তাদের ফিনিশিংয়ে বিবর্ণতার চিত্রটাই বড় হয়ে উঠল। নাপোলির বিপক্ষে ঘরের মাঠে ড্র করে ইউরোপা লিগে টিকে থাকার লড়াইয়েও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে গেল শাভি এরনান্দেসের দল। কাম্প নউয়ে বৃহস্পতিবার রাতে শেষ ষোলোয় ওঠার প্লে-অফে স্বাগতিকদের ১-১ গোলে রুখে দিয়েছে নাপোলি। পিওতর জিয়েলিন্সকির গোলে পিছিয়ে পড়া বার্সেলোনা সমতায় ফেরে ফেররান তরেসের স্পট কিকে।

এ মাসের প্রথম সপ্তাহে লা লিগায় আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ৪-২ গোলে জিতে নতুন শুরুর আভাস দিয়েছিল বার্সেলোনা। কিন্তু তা মিলিয়ে যেতে সময় লাগেনি। গত রোববার দুর্বল এস্পানিওলের মাঠে হারের মুখ থেকে কোনোমতে ড্র করে তারা। এখানেও পিছিয়ে পড়ে ড্র করল দলটি। ধারহীন আক্রমণ, ফিনিশিংয়ে দুর্বলতা এবং সর্বোপরি অধারাবাহিকতা-মৌসুমের শুরু থেকে ধুঁকতে থাকা বার্সেলোনার পারফরম্যান্স দেখলে এগুলোই ফুটে ওঠে। এদিনও শুরুতে দলটির ঠিক এই রূপই দেখা যায়। বল দখলে আধিপত্য করে বার্সেলোনা প্রথম ২০ মিনিটে তিনটি ভালো সুযোগ পায়।

এর মধ্যে একবারই কেবল লক্ষ্যে শট রাখতে পারে তারা। পঞ্চদশ মিনিটে নিকো গনসালেসের শট দারুণ নৈপুণ্যে ফেরান গোলরক্ষক আলেক্স মেরেত। এর আগে-পরে লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে হতাশ করেন পেদ্রি ও অবামেয়াং। ২৮তম মিনিটে ব্যর্থতার মিছিলে যোগ দেন ফেররান তরেস। অবামেয়াংয়ের পাস ডি-বক্সের মুখে ফাঁকায় পেয়ে যান স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। সামনে একমাত্র বাধা গোলরক্ষক। তবে তার বুলেট গতির শট লক্ষ্যে ধারেকাছে ছিল না। পরের মিনিটেই কাম্প নউয়ের গ্যালারিকে স্তব্ধ করে দিয়ে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। ডি-বক্সে এলমাস একজনকে কাটিয়ে খুঁজে নেন পিওতর জিয়েলিন্সকিকে। তার প্রথম শট পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন। তবে ফিরতি বল পাল্টা শটে জালে পাঠাতে ভুল করেননি পোলিশ ফরোয়ার্ড।

গোল খেয়ে যেন আরও তাল কেটে যায় বার্সেলোনার। বারবার গুছিয়ে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও শেষ ধাপে খেই হারিয়ে ফেলছিল তারা। এলোপাতাড়ি কয়েকটি শটও নেয়; কিন্তু প্রতিপক্ষকে ভাবানোর মতো এই অর্ধে আর কিছু করতে পারেনি দলটি। প্রথমার্ধে তাদের আট শটের কেবল একটিই ছিল লক্ষ্যে। দ্বিতীয়ার্ধেও একইভাবে শুরু করা বার্সেলোনা ৫৯তম মিনিটে অবশেষে পায় কাক্সিক্ষত গোলের দেখা। নাপোলির ডি-বক্সে তাদের ডিফেন্ডার জুয়ান জেসুসের হাতে বল লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। নিখুঁত স্পট কিকে সমতা টানেন তরেস। ত্রাওরের বদলি নামা উসমান দেম্বেলে ৭২তম মিনিটে ভালো একটি আক্রমণ শানান। কিন্তু তার ডি-বক্সে অবামেয়াংকে খুঁজে নেওয়ার প্রচেষ্টা যায় ভেস্তে।

৮৭তম মিনিটে ব্যবধান গড়ে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি তরেস। ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন তরুণ এই ফরোয়ার্ড। ছয় মিনিট যোগ করা সময়েও দুবার ভীতি ছড়ায় বার্সেলোনা। কিন্তু ব্যর্থতার জাল ছিড়তে পারেননি তরেস ও পেদ্রি। পুরো ম্যাচে দুই-তৃতীয়াংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের উদ্দেশ্যে ২১টি শট নেয় দলটি, এর কেবল পাঁচটিই ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে নাপোলির চার শটের চারটিই লক্ষ্যে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে ইউরোপা লিগে নেমে আসা বার্সেলোনার জন্য ঘরের মাঠের এই ফল হতে পারে বড় বিপদের। ইউরোপের দ্বিতীয় সেরা এই প্রতিযোগিতার মূল লড়াইয়ে জায়গা করে নেওয়ার অভিযানে আগামী বৃহস্পতিবার নাপোলির মাঠে মুখোমুখি হবে দল দুটি।