নাচোলে আশ্রয়হীনদের জীবন বদলে দিয়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্প

22

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় আশ্রয়হীনদের জীবন-মান বদলে দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্প।
সরজমিনে উপজেলার নাচোল সদর ইউনিয়নের হুলাশপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, সময়ের সঙ্গে বদলেছে ছিন্নমূল মানুষের জীবনমান। তারা এখন বসবাস করছে রঙিন ঢেউটিন আর পাকা দেয়ালের আধা পাকা বাড়িতে। সেই বাড়ির আশেপাশে করেছে শাকসবজির আবাদ। কেউ পালন করছে হাঁস, মুরগি, ছাগল ও গরু।
সন্তানদের পাঠাচ্ছে স্কুলে বসতির দুশ্চিন্তা ছেড়ে নিশ্চিন্ত মনে কাজ করে এগিয়ে নিচ্ছে সংসার। সংসারে এসেছে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রকল্পের বাসিন্দারা গঠন করছে সমবায় সমিতি। নিয়মিতভাবে দিচ্ছেন প্রশিক্ষণ। অনেকের একাডেমিক শিক্ষা না থাকলেও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা হয়ে উঠছে স্বশিক্ষিত।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ নিয়মিত তদারকি করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের।
উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল হোসেন জানান, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সারা দেশের ন্যায় নাচোল উপজেলাতে যেসব ভূমিহীন ও গ্রহহীনদের বসবাসের কোন ঠিকানা ছিল না পর্যায়ক্রমে তাদের তালিকা করে স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছেন। মানুষগুলো তাদের ভাগ্যের চাকা নতুন ভাবে ঘোরাতে শুরু করেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাইমেনা শারমীন বলেন, প্রথম পর্যায় থেকে শুরু করে চতুর্থ পর্যায়ে প্রায় ৯৯৬ জন ভূমিহীন ও গৃহীনদের জন্য জমি ও গৃহ প্রদান করা হয়েছে। চতুর্থ পর্যায়ের কিছু কাজ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও জন প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে যোগ্যদের চিহ্নিত করে ঘর দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন, গৃহহীন, হতদরিদ্র ও উৎপাটিত পরিবারের স্বামী- স্ত্রী যৌথ নামে জমি ও বাড়ির মালিকানা দেয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিটে দুটি কক্ষ, একটি রান্নাঘর, একটি টয়লেট এবং একটি বারান্দা রয়েছে। পুনর্বাসিত পরিবার গুলোর জন্য বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে এবং প্রকল্পের জায়গায় নিরাপদ পানির জন্য নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন উৎপাদনশীল এবং আয়বর্দ্ধনমূলক কর্মকান্ডে নিয়োজিত করার জন্য ব্যবহারিক এবং প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বর্তমানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা তাদের জীবনমান উন্নয়নে নিজেরাই এগিয়ে এসেছে। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা করছি। এই প্রকল্প একটি রোল মডেল কারণ এভাবে কোন দেশে আশ্রয়হীনদের জন্য সরকারিভাবে নিরাপদ ছাদ তৈরির ব্যবস্থা হয়নি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিথিলা দাস বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়েছে। এই প্রকল্পের বাসিন্দাদের সচ্ছলতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ এবং সরকারি পুকুর পাড়ের বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পবাসীদের সমিতির মাধ্যমে দেওয়ার ব্যবস্থা চলছে।
হুলাসপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ইসমাইল হোসেন, ফিরোজা বেগম, মৌসুমী খাতুন, মোশারফ হোসেনসহ আরো অনেকেই বলেন, আমরা কোনদিন ভাবিনি নিজের ভালো একটা বসবাসের ঠিকানা করতে পারব। এখন সেটি হয়েছে। সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারছি নিজের হাঁস-মুরগি, ছাগল, গরু পালন সহ নানা কাজ করার সুযোগ হয়েছে। সত্যিই এটা স্বপ্নের আশ্রয়ণ প্রকল্প। আল্লাহ তা-আলার নিকট বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের সদস্যদের জন্য দোয়া করি।
মোশারফ হোসেন বলেন, আমার এক ছেলে, এক মেয়ে। মেয়েটি এবার মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণীতে বার্ষিক পরীক্ষা দিয়েছে। ছেলেটির বয়স পাঁচ বছর। একসময় মাথা গোঁজার কোন ঠাঁই ছিল না, রোদ বৃষ্টির মধ্যে কোন রকমে খড়ের চালা ঘরে জীবন যাপন করতাম।
বর্তমানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া স্বপ্নের বাড়িতে জীবনের অন্ধকার কেটে আলোর মুখ দেখতে পেয়েছি। এখন নিশ্চিন্তে মাথা গোঁজার ঠাই হয়েছে হাঁস মুরগির পাশাপাশি গরু পালন করতে শুরু করেছি।