নাইজেরিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় নিহত ৫০০, বাস্তুচ্যুত ১৪ লাখ

2

নাইজেরিয়ার এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ৫০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে আরও ১৪ লাখ মানুষ তাদের বাড়িঘর থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। প্রবল বৃষ্টিপাত এবং দুর্বল অবকাঠামোর কারণে সৃষ্ট বন্যায় নাইজেরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এর প্রভাবে আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশটিতে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নাইজেরিয়ার মানবিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছে যে ১৪ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, প্রায় ৫০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ১ হাজার ৫৪৬ জন আহত হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক রোডা ইশাকু ইলিয়ার বিবৃতিতে যোগ করা হয়েছে, ৪৫ হাজার ২৪৯টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭০ হাজার ৫৬৬ হেক্টর কৃষিজমি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। মানবিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা নাসির সানি-গওয়ারজো বলেছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ আনতে আমরা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিচ্ছি। আবহাওয়া সংস্থা ফেসবুকে বলেছে, আগামী সপ্তাহ এবং মাসগুলিতে আরও প্রচুর বৃষ্টিপাতের প্রত্যাশিত। এছাড়াও আগামী কয়েকে দিন তারাবা, ইবোনি, বেনু এবং ক্রস রিভার স্টেটের কিছু অংশে ভারী বৃষ্টিপাতের ও আলম্বিক বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, দক্ষিণ অ্যানামব্রা রাজ্যে, নাইজার নদীর বন্যার সময় গত শুক্রবার একটি নৌকা ডুবে ৭৬ জন মারা গেছে। এদিকে, প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতে বন্যার কারণে রাস্তাঘাট ভেসে যাওয়ায় পরে এই সপ্তাহে রাজধানী আবুজার পেট্রোল স্টেশনগুলিতে জ¦ালানীর ঘাটতি সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে চাল উৎপাদনকারীরা সতর্ক করেছেন যে বিধ্বংসী বন্যা দেশটিতে চালের দামকে প্রভাবিত করতে পারে যেখানে স্থানীয় উৎপাদনকে উদ্দীপিত করার জন্য চাল আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা গত মাসে বলেছে যে নাইজেরিয়া ছয়টি দেশের মধ্যে ক্ষুধার বিপর্যয়ের উচ্চ ঝুঁকির সম্মুখীন। প্রসঙ্গত, এর আগে, ২০১২ সালে নাইজেরিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় ৩৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সে সময় ঘরছাড়া হয়েছিলেন ২১ লাখেরও বেশি মানুষ। সূত্র: এএফপি, এনডিটিভি