নতুন প্রজন্ম দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে : ডা. শিমুল এমপি

15

উদ্যোমী সৃষ্টিশীল ও দেশপ্রেমিক নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বুধবার শুরু হয়েছে দুই দিনের ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা। ‘উদ্ভাবনী জয়োল্লাসে স্মার্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ মেলার আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন।

সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। পরে জেলা প্রশাসন পরিচালিত কালেক্টরেট ইংলিশ স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত মেলায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল। তিনি তার বক্তব্যে বলেন- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন তাঁরই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ করেছেন, ২০৩১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত স্মার্ট বাংলাদেশ হবে। প্রধানমন্ত্রী এখানেই থেমে থাকেননি। তিনি ২১০০ সালের জন্য ডেল্টা প্ল্যান তৈরি করে এগোচ্ছেন। সেদিন আমরা হয়ত থাকব না। তবে যারা থাকবে তারা হয়তো দেখতে পাবে। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মই এদেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে ডিজিটাল ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন।
জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খাঁনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেনÑ স্থানীয় সরকার, চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপপরিচালক দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস.এ.এম. ফজল-ই-খুদা, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মোজাহার আলী প্রামানিক, জেলা প্রাণিসম্পদ কমকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আনিছুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন- গোমস্তাপুর সোলেমান মিঞা ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মু. আব্দুর রাকিব। বক্তারা সরকারের ডিজিটাল সেবার পাশপাশি স্মার্ট বাংলাদেশের পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খাঁন সভাপতির বক্তব্যে সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেনÑ এই জেলার সিংহভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান পড়ে। এই জেলার মানুষ বিজ্ঞানমনস্ক। এখানে একটি হাইটেক পার্ক থাকা প্রয়োজন। সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের জন্য তিনে সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুলকে অনুরোধ করেন।
এর আগে র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি মো. আব্দুল ওদুদ। কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভা শেষে শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রশ্ন উত্তরের মাধ্যমে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন- নামোশংকরবাটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম ফারুক মিথুন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের শিক্ষক ড. ইমদাদুল হক মামুন।
মেলায় ৪টি প্যাভিলিয়নের অধীনে সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে মোট ৭০টি স্টল অংশগ্রহণ করছে। প্যাভিলিয়ন-১ এ উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও স্টার্টআপ, প্যাভিলিয়ন-২ এ ডিজিটাল সেবা, প্যাভিলিয়ন-৩ এ হাতের মুঠোয় সেবা এবং প্যাভিলিয়ন-৪ এ শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান প্রদর্শিত হচ্ছে। এই মেলার মাধ্যমে সরকারি দপ্তরগুলোয় বিদ্যমান ডিজিটাল সেবা এবং বর্তমান সরকারের আমলে সাধিত প্রযুক্তিগত অগ্রগতিসমূহ প্রদর্শন করা হচ্ছে।