‘নতুন করে’ সংলাপের প্রস্তাব বিএনপির

116

bnpআগামী নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের শান্তিপূর্ণ উপায় খুঁজে বের করতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ জরুরি বলে মনে করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ব্যারিস্টার ফর চেঞ্জ’স নামে একটি সংগঠন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সরকারের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আসুন, আমরা নতুন করে একটা আলোচনা করি। একটা সংলাপ করি। সেই সংলাপের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে কীভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা যায়, আমরা সেই পথ বের করি। এই দাম্ভিকতা, এই অসহনশীলতা, দেশকে বিভক্ত করবার যে চক্রান্ত তার থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে এটা নিয়ে আলোচনা করি। পথ বের করি। নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করুন এবং একটি সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিন। মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীনরা তাদের অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মতো গণমাধ্যমকে শৃঙ্খলিত করে রেখেছে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সাংবিধানিক অধিকার সভা-সমাবেশ করতে পারে না, গণমাধ্যমও সত্য কথা প্রকাশ করতে পারে না। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে এই শৃঙ্খল ভেঙে বের হতে হবে। এ ছাড়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধি সরানোর ষড়যন্ত্র সফল হবে না বলেও সতর্ক করে দেন বিএনপির মহাসচিব। ফখরুল বলেন, ৫০ বছর জনগণের সেবা করে চলে গেছেন ফিদেল কাস্ত্রো। তার জন্য আজ কান্না করছে কোটি কোটি মানুষ। জিয়াউর রহমানও একজন নেতা ছিলেন। তার জন্য দেশের জনগণ কান্না করে। ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহেমানের মাজার তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছেন আপনারা (সরকার)। আপনাদের ক্ষমতা আছে। ক্ষমতার বলে আপনারা সব করতে পারেন। কিন্তু আপনাদের এই ষড়যন্ত্র টিকিয়ে রাখতে পারবেন না। জনগণের মন থেকে জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলতে পারবেন না। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছেন, তাকে ঠেকানো যাবে না। কারণ তার চাওয়া একটাই জনগণের মাঝে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। মির্জা ফখরুল বলেন, আজ দেশে যে আইনের শাসন চলছে এটা কিসের আইন, কার আইন, কার জন্য আইন, কার স্বার্থে এ আইন পরিচালনা হচ্ছে এসব প্রশ্নের জবাব আমরা জানতে চাই। বক্তব্যের সময় আইনজীবীদের রাজপথে নামার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সাদা কোর্ট আর কালো কোর্টের মধ্যে বিশাল পার্থক্য আছে। আজ যদি এ স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ১০ হাজার কালো কোর্ট রাস্তায় নামেন তাহলে দেশব্যাপী সবার টনক নড়ে যাবে। আপনারা আরও কর্মসূচির আয়োজন করেন। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদিন, বার কাউন্সিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. সানাউল্লাহ মিয়া। সভায় জয়নুল আবেদিন বলেন, যে দেশে সরকারের মন্ত্রীরা মঞ্চে উঠলেই বিএনপি নেতাদের গালাগাল করেন সে দেশে আর যাই থাকুক গণতন্ত্রের শাসন নেই। আসলে গণতন্ত্র শেখ হাসিনার হাতের মুঠোয়। তাই আগে ওই হাত ভাঙতে হবে। তারপর গণতন্ত্র উদ্ধার করতে হবে। ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, শেখ হাসিনা বলেছেন খালেদা জিয়া নাকি গণতন্ত্র বানান জানেন না। ঠিকই বলেছেন, যে গণতন্ত্র জনগনের ভোটাধিকার কেড়ে নেয় তিনি সেই বানান জানেন না। আমরা এমন গণতন্ত্র বানান জানতেও চাই না। এসময় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচারক নীতিমালা না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টে বিচারপতি নিয়োগ না দেওয়ার দাবিও জানান বিএনপির এ নেতা। অনুষ্ঠানে বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, হাইকোর্টে গেলে আমরা দু’একটি মামলার জামিন পাই। যত্রতত্র মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের আটক করা হচ্ছে। রিমান্ডে নিয়ে তাদের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে। দেশে কি আদৌ আইনের শাসন আছে? এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতেই হবে। আয়োজক সংগঠনের চিফ কো-অর্ডিনেটর ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশারফ হোসেন, অ্যাড. নিতাই চন্দ্র রায়সহ নির্বাহী কমিটির সদস্যরা।