নওগাঁয় র‌্যাবের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে নিহতের স্ত্রীর মামলা দায়ের

85

নওগাঁর মান্দায় যুবদল নেতা মাজহারুল ইসলাম ওরফে জিএসকে (৩০) আটকের পর হত্যার অভিযোগে র‌্যাবের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছে নিহতের স্ত্রী শামীমা আকতার স্বপ্না। এতে র‌্যাব-৫ এর জয়পুরহাট ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সাঈদ আব্দুল্লাহ আল মুরাদ, স্থানীয় ৯ জন ব্যক্তিসহ অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জন র‌্যাব সদস্যের বিরুদ্ধে মাজহারুলকে হত্যার অভিযোগ আনা এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার মুখ্য বিচারিক হাকিম নওগাঁ-২ আদালতে মাজহারুলের স্ত্রী শামিমা আক্তার এই মামলার দায়ের করেন। স্থানীয় ৯ ব্যক্তির যোগসাজশে র‌্যাব সদস্যেরা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছেন বলে মামলাতে অভিযোগ করা হয়। মামলার অপর আসামি স্থানীয় ৯ জন ব্যক্তি হলেন, উপজেলার কাঁশোপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম, জহুরুল ইসলাম, আবদুল মজিদ, আবদুস সাত্তার, সেলিম উদ্দিন ও রাজ্জাক হোসেন, ভরট্টো কাঠেরডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা সাইদুর রহমান মোল্লা এবং পার কুলিহার গ্রামের রফিকুল ইসলাম। স্থানীয় এসব ব্যক্তির সঙ্গে মাজহারুলের পূর্ব শত্রুতার জেরে তাঁদের যোগসাজশে জয়পুরহাট র‌্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডারসহ অজ্ঞাত ২০-২৫ জন র‌্যাব সদস্যেরা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছেন বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়। মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টম্বর সন্ধ্যায় কাঁশোপাড়া গ্রামের শহিদুলের সঙ্গে উপজেলার সিংগী বাজারে যান। সন্ধ্যা ৭টার দিকে সিংগী বাজারের পঁচা সরদার মোড় থেকে ৭-৮টি মোটরসাইকেলে করে আসা সাদা পোশাকধারী ২০-২৫ জন ব্যক্তি র‌্যাব পরিচয় দিয়ে মাজহারুলকে আটক করে। সেখানে তাঁরা মাজহারুলকে মারধর করে। পরে তাকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দোতলায় একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। রাত প্রায় ২ টা পর্যন্ত তার ওপর নির্যাতন চলে। রাত ২টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাজহারুলকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান তারা। ওইদিন ভোরে র‌্যাব সদস্যরা মাজহারুলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পর দিন সকালে খোঁজ নিয়ে মাজহারুলের মৃত্যুর খবর পান স্বজনেরা। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মান্দা থানায় মামলা করতে চাইলে মান্দা থানা পুলিশ মামলা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। এ ঘটনায় গতকাল মুখ্য বিচাররিক হাকিম নওগাঁ-২ আদালতে মামলা করেন। সোমবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো: আবদুল মালেক আমলী আদালত নং ০২ নওগাঁয় র‌্যাব-৫ জয়পুরহাট কোম্পানি কমান্ডার সাঈদ আব্দুল্লাহ আল মুরাদসহ ৯জনের বিরুদ্ধে শামিমা আক্তার স্বাপ্না বাদী হয়ে মামলা করেন। আদালত ওই মামলা গ্রহন করে আগামি ২১ সেপ্টেম্বর আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। মুঠোফোনে র‌্যাব-৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম জানান, র‌্যাব সদস্যরা জানতে পারেন মান্দার একটি জায়গায় অস্ত্র কেনাবেচা করা হবে। এর ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে মাজাহারুল ইসলাম জিয়াস আলী নামক একজনকে আটক করা হয়। তার কাছে থাকা ৮টি গুলি পাওয়া যায়। অস্ত্র কোথায় আছে জানতে চাইলে মাজাহারুল বলেন বাড়িতে আছে। তাকে বাড়িতে নিয়ে তল্লাশি করে অস্ত্র পাওয়া যায়নি। এরপর অন্য জায়গায় আছে বলে ৮-১০টি স্থানে র‌্যাব সদস্যদের ঘুরিয়ে সে জায়গা গুলোতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র পাওয়া যায়নি। পরে তাকে অস্ত্র পাওয়া না গেলে গুলিসহ গ্রেফতার করে দাপ্তিরিক কাজে রাজশাহী র‌্যাব কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দেয়া হয়। পথে সে অসুস্থ হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বাদীর আইনজীবী শহিদুল ইসলাম বেলাল বলেন, মুখ্য বিচারিক হাকিম আবদুল মালেক আবেদন শুনেছেন। বিষয়টি আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে।