নওগাঁয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর শো-ডাউনে হামলা গ্রেফতার ৭

65

gourbangla logo

নওগাঁর আত্রাইয়ে দলীয় প্রার্থী বাছাই নিয়ে আওয়ামী লীগে উত্তেজনা বেরেই চলেছে। শুক্রবার রাতে বিশা ইউনিয়নে একজন প্রার্থীর শো-ডাউনে হামলা ও গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। থানা পুলিশ ওই ইউনিয়নের মনোনয়ন প্রত্যাশীসহ ৭জনকে গ্রেফতার করে মাদক মামলায় আদালতে সোর্পদ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আত্রাই উপজেলার বিশা ইউনিয়নে গতকাল (শনিবার) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য দলীয় একক প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য এক বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। সেই মোতাবেক শুক্রবার রাতে ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মোল্লার পক্ষে একটি শোডাউন বের করে। শো-ডাউন শেষে উপজেলার বৈঠাখালি এলাকায় রাত অনুমান পৌনে ১০ টায় বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ চলছিল। এসময় একজন প্রার্থীর পক্ষে আত্রাই থেকে কিছু লোকজন মটরসাইকেল যোগে এসে তাদের সাথে যোগ দেয়। একপর্যায়ে আগত একজন এসে বিশা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক সোহেল রানাকে পাশে ডেকে নিয়ে রিভলভার বের করে গুলি করে। এসময় সোহেল রানা হাত দিয়ে অস্ত্রধারীর হাতে আঘাত করলে গুলি তার দেহে না লেগে বাহিরে চলে যায়। গুলির শব্দে লোকজন ছুটে আসলে অস্ত্রধারীসহ কয়েকজন মটরসাইকেল যোগে পালিয়ে গেলেও স্থানীয়রা কয়েকজনকে আটক করে পুলিশকে সংবাদ দেয়। পুলিশ এসে পাঁচুপুর গ্রামের হিরন দাসের ছেলে রঞ্জিতদাস (৪০), সাহেবগঞ্জ মোল্লা পাড়া গ্রামের মৃত জানবক্স এর ছেলে আলতাব হোসেন বাবু (৪০) ও একই গ্রামের খয়ের আলীর ছেলে মহিদুল ইসলাম (৪০), সাহেবগঞ্জ পালপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বার শেখ এর ছেলে আব্দুর রশিদ (৩৫), ইসলামগাথী গ্রামের ফয়েজ আলীর ছেলে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী ও বিশা ইউনিয়নে মনোনয়ন প্রত্যাশী আজিজুর রহমান (৪৫), ভরতেতুলিয়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে রহিদুল ইসলাম (৩৯) ও একই গ্রামের নাছির উদ্দীনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৩৫) সহ ৭ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার আত্রাই উপজেলার হাটকালু পাড়া ইউনিয়নে প্রার্থী বাছাইয়ের সময় ভাংচুর ও হট্রগোলের কারনে বর্ধিত সভা স্থগিত হয়ে যায়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল মান্নান মোল্লা জানান, আমরা শো-ডাউন শেষে বৈঠাখালিতে এসে বিভিন্ন আলাপ করছিলাম। এসময় সোটরসাইকেল যোগে কয়েকজন এসে আমাদের সাথে মিলিত হয়ে প্রচার সম্পাদক সোহেল কে ডেকে নিয়ে গুলি করে । আমার সাথে লোকজন না থাকলে হয়তো আমাকেই তারা হত্যা করতো ।
বিশা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক সোহেল রানা জানান, আমরা বৈঠাখালী বাজারে এসে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ করছিলাম। এসময় উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের ছেলে অস্ত্রধারী রাব্বী এসে আমাকে পাশে ডেকে নিয়ে রিভলভার বের করে গুলি করার সময় আমি তাকে হাত দিয়ে ধাক্কা দিলে গুলি আমার দেহে না লেগে বাহিরে যায়।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আলমাসউদ চৌধুরী জানান, গুলি করার কোন ঘটনা সেখানে ঘটেনি। তারা নেশা করে মাতলামি করছিল। এসময় খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একজন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী ও চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী আজিজুর রহমানসহ সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে । গ্রেফতারকৃতদের মাদকমামলায় আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে।