দৈনিক গৌড় বাংলা

মঙ্গলবার, ২৫শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে জিআই পণ্য ক্ষিরসাপাত আম

আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম নেই, তাই ক্রেতাও কম। যেটুকু আছে, তা দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। আর তাই আমের ভরা মৌসুমেও খাঁ খাঁ করছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদরঘাট আমবাজার।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সদরঘাট আমবাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবছরের মতো এবারো ছোট ছোট আম ব্যবসায়ীরা আড়ত খুলে বসে আছেন। হাতেগোনা কয়েকজনের আড়তে সামান্য ক্ষিরসাপাত আম থাকলেও অধিকাংশই ফাঁকা বসে আছেন। আমের পরিমাণ খুবই কম লক্ষ করা গছে। সেই সঙ্গে ক্রেতাও তেমন চোখে পড়েনি। অথচ অন্য বছরগুলোতে এই সময়ে আমবাজারটি ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে গমগম করত।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার আমের উৎপাদন কম হওয়ায় এমন দশা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ক্ষিরসাপাত আমের আকারও গতবারের তুলনায় কিছুটা ছোট। কিন্তু দাম গতবারের তুলনায় দ্বিগুণ।
মো. মিলন, রাসেল এবং আম ব্যবসায়ী একই সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাসদুল হক নিখিল জানান, গতবছর এই সময়ে ক্ষিরসাপাত আম বিক্রি শুরু হয়েছিল ১ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে। এবার শুরুতেই ৩ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। অন্যদিকে গতবছর মে মাসের শেষে গোপালভোগ আম ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা মণ দরে বেচাকেনা শুরু হলেও এবার ২ হাজার টাকার উপরে শুরু হয়। এরই মধ্যে গোপালভোগ আম শেষ হয়ে গেছে। যেটুকু আছে, তার দাম প্রতি মণ ২ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা। তারা বলেন- এবার ২৬ মে থেকে গোপালভোগ আম বাজারজাত শুরু হয় এবং বর্তমানে এই আম বাজারে নেই বললেই চলে।
অন্যদিকে জেলার হাটবাজারগুলোতে অন্যবছর এতদিনে সুমিষ্ট গোপালভোগসহ দেশী নানা জাতের টকমিষ্টি রসালো গুটি আম পাওয়া যেত। কিন্তু এবার গাছে আম না থাকায় তেমনটি চোখে পড়ছে না।
মঙ্গলবার জেলা শহরের নিউমার্কেটের সামনে ফুটপাতে একজন আম বিক্রেতার ৩টি আম দেখিয়ে এক মহিলা ক্রেতা বললেনÑ এই ৩টা আমের দাম ১০০ টাকা! এবার আর আম খাওয়া হবে না।
এদিকে বেলেপুকুরের বাসিন্দা এক নারী বললেন, আমের সিজনে আম দিয়ে ছাতু খাই, কিন্তু এবার ছাতু করা থাকলেও আমের অভাবে তা আর বোধহয় খাওয়া হবে না।

About The Author