দৈনিক ভোরের পাতা’র যুগপদার্পণ অনুষ্ঠানের আলোচনা

92

DSC05166 (Small)

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পরিচয় সেই সাথে অর্থনীতির একটা বড় অংশ জুড়েই আছে আম। আমের জন্য গণমাধ্যমকে রাখতে হবে আরো জোরালো ভুমিকা। আম পাড়ার সময় নিয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত, সেই সাথে অন্য জেলার নিম্নমানের আম চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম পরিচয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিক্রি হওয়া নিয়ে শঙ্কার কথা উঠে এসেছে বুধবার এক আলোচনায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবে ভোরের পাতার যুগপদার্পণ অনুষ্ঠানে আলোচকরা এই শঙ্কার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমকে ঘিরে কোন ষড়যন্ত্র হচ্ছে কি না তাও আমাদের ভেবে দেখতে হবে। এই সময় আলোচকরা বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের স্থানীয় গণমাধ্যমসহ এখানে সাংবাদিকদের এই বিষয়ে আরো বেশি ভুমিকা রাখার সুযোগ আছে। কোন ভুল সিদ্ধান্তের কারণে জেলার পরিচয় আবারো গত বছরের মত পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে কি না, সেই সাথে অর্থনীতির একটা বড় অংশ জুড়েই আছে আম, তাই বিষয়গুলো গণমাধ্যমে আরো জোরালোভাবে তুলে আনার পক্ষে মত দেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের স্থানীয় দৈনিকের সম্পাদকসহ সাংবাদিকরা।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (অবঃ) প্রফেসর সুলতানা রাজিয়া বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের যে গণমাধ্যম গুলো আছে, কিংবা আপনারা যারা জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন গণমাধ্যমের হয়ে এখানে দায়িত্ব পালন করছেন, আপনাাদের শক্তি অনেক বলিষ্ঠ, আপনারা অনেক কিছুর গভীরে যেতে পারেন, যে কোন বিষয় সবার সামনে তুলে ধরতে পারেন। তিনি বলেন, বিদেশীরা দুইটি বিষয়ে কোন ছাড় দেয় না, একটা নিরাপদ খাদ্য ও দুই শিক্ষা। আম-এ যে ব্যবসায়ী রাসায়নিক মেশাচ্ছে তাকে বাধ্য করতে হবে যাতে সে এই কাজটি আর কখনো করতে না পারে। রাসায়নিক মেশানো ঠেকাতে গিয়ে প্রশাসন সময় সীমা বেঁধে দিয়েছে, অথচ আমি আমার কয়েক জন আত্মিয়-পরিজনকে দেখেছি তারা তাদের গোপালভোগ আম গাছ থেকে পেড়ে নিয়েছে, তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেছে, আম পেকে গেছে, পড়ে নষ্ট হবে তাই পেড়ে নিয়েছি। যেমন সময় সীমা বেঁধে দেয়ার বিষয়টিতে আপনারা সবাই সমালোচনা করছেন, সেই সাথে আমরা যাতে নিরাপদ আম খেতে পারি সেই লক্ষ্যে গণসচেতনতাও সৃষ্টি করতে হবে। সংবাদ কর্মীদের অনেক বেশি ভুমিকা রাখার সুয়োগ রয়েছে এইসব ক্ষেত্রে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তফা মন্টু বলেন, আমাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমকে ঘিরে আমাদের যে পরিচয় তা ধরে রাখতে, সেই সাথে আমের বাণিজ্যকে ঘিরে কোন সমস্যা থাকলে সেগেুলো আমাদের লেখনিতে আরো বেশি উঠে আসবে বলে আমি আশা করি।
অনুষ্ঠানে চাঁপাই দৃষ্টির সম্পাদক এমরান ফারুক মাসুম বলেন, আমাদের এখানে আম পাড়ার বিষয়ে প্রশাসন সময় সীমা বেঁধে দিয়েছে, অথচ অন্য কোন জেলায় এটা করা হয়নি। তিনি বলেন, সাতক্ষিরাসহ অন্য জেলার আম চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম পরিচয়ে বিক্রি হচ্ছে অথচ আমাদের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে গৌড় বাংলার সম্পাদক হাসিব হোসেন বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে অর্থনীতির অনেক অংশ জুড়ে থাকা আমকে ঘিরে সংশ্লিষ্টদের আরো ভেবে চিন্তে যেকোন সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। তিনি বলেন, আম নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গণমাধ্যমসহ সাংবাদিকদের আরো বেশি কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক সংবাদের জেলা প্রতিনিধি, শামসুল ইসলাম টুকু বলেন, প্রশাসন সময় বেঁধে দিলো, সেই অনুষ্ঠানে আম ব্যবসায়ীরাও ছিলো, তারা কেন এটা মেনে নিলো। তিনি বলেন এখানে শুনলাম সবধরনের আমের ক্ষেত্রেই এই সময় সীমা আছে, প্রাকৃতিক নিয়মের উপর এই ধরনের সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডাবলু কুমার ঘোষ ও সাপ্তাহিক সীমান্তের কাগজের সম্পাদক জাফরুল আলমও আম নিয়ে প্রশাসনের এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া সঠিক হয়নি বলে মত দেন।
ভোরের পাতার জেলা প্রতিনিধি, সাজেদুল হক সাজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান আরমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জিটিভির জেলা প্রতিনিধি ইমতিয়ার ফেরদৌস সুইট। পরে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ কেক কেটে বর্ষপূর্তি উদযাপন করেন।