দৈনিক তেল উৎপাদন ১১ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করেছে লিবিয়া

1

গৃহযুদ্ধে জর্জরিত লিবিয়া তিন মাস পর ফের তেল রফতানি শুরু করেছে। দেশটি তেলের উৎপাদনও বাড়িয়েছে। লিবিয়া এখন দৈনিক ১১ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে। মঙ্গলবার ত্রিপলিভিত্তিক সরকারের তেলমন্ত্রী বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।লিবিয়ার ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে জড়িয়েছে দেশটির বিভিন্ন গোষ্ঠী। এদের দ্বন্দ্বে লিবিয়ার প্রধান তেলক্ষেত্রগুলো অচল হয়ে পড়ে। এতে গত এপ্রিলে তেল রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। তবে গত সপ্তা থেকে লিবিয়া ফের তেল রফতানি শুরু করেছে। তিন মাস পর গতকাল বুধবার একটি ট্যাংকার তেল নিতে লিবিয়ায় পৌঁছেছে।বর্তমানে লিবিয়ায় দু’টি কর্তৃপক্ষ দেশটির পূর্ণ কর্তৃত্ব লাভের জন্য সংঘর্ষে জড়িয়েছে। গত বছর জাতিসংঘের সমর্থনে আবদুল হামিদ বেইবাকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে এ বছরের শুরুতে দেশটির পূর্বাঞ্চলভিত্তিক একটি পার্লামেন্ট ফাতি বাশাগাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়। এ পার্লামেন্ট এখন পূর্ব লিবিয়ার সিরতে শহর থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু হামিদ বেইবা প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। তবে বেইবার সরকার লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলি থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

স্পষ্টত, গোটা দেশে কোনো প্রধানমন্ত্রীর পূর্ণ কর্তৃত্ব নেই। লিবিয়ার একক ক্ষমতা নিতে দুই প্রধানমন্ত্রীর সমর্থক মিলিশিয়া বাহিনীগুলো লড়াই করছে।গত সপ্তায় ত্রিপলিভিত্তিক সরকার লিবিয়ার ন্যাশনাল ওয়েল করপোরেশন (এনওসি) নতুন প্রধান হিসেবে ফারহাত বেংদারাকে নিয়োগ দেয়। নিয়োগ পেয়েই ফারহাত বেংদারা জানিয়েছেন, তার লক্ষ্য হলো আগামী ২ সপ্তার মধ্যে লিবিয়ার তেল উৎপাদন দৈনিক ১২ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করা।তবে লিবিয়ায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এখনও চলমান। মিলিশিয়াদের সংঘর্ষ ফের তেলক্ষেত্রগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তবে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যাপক প্রভাবিত তেলের বাজারে এই মুহূর্তে লিবিয়ার তেলের সরবরাহ ভোক্তা দেশগুলোর জন্য স্বস্তির খবর।