দেশে গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন ৩০ জন, সুস্থ ১,০৬৬

40

দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের ১৪৯তম দিনে ২৪ ঘন্টায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৩০ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। আর সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৬৬ জন।
গতকালের চেয়ে আজ ৮ জন বেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল ২২ জন মৃত্যুবরণ করেছিলেন। এখন পর্যন্ত দেশে এ ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করেছেন ৩ হাজার ১৮৪ জন। করোনা শনাক্তের বিবেচনায় আজ সোমবার মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩২ শতাংশ। গতকাল মৃত্যুর হার ছিল ১ দশমিক ৩২ শতাংশ। গতকালের চেয়ে আজ মৃত্যুর হার দশমিক ০১ শতাংশ বেশি।
আজ (৩ আগস্ট) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান।
অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৬৬ জন। গতকালের চেয়ে ৪৮০ জন বেশি সুস্থ হয়েছেন। গতকাল সুস্থ হয়েছিলেন ৫৮৬ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯০৫ জন।
তিনি জানান, আজ শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ৫৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ সুস্থতার হার দশমিক ১২ শতাংশ বেশি।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ৪ হাজার ২৪৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১ হাজার ৩৫৬ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গতকালের চেয়ে আজ ৪৭০ জন বেশি শনাক্ত হয়েছেন। গতকাল ৩ হাজার ৬৮৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিলেন ৮৮৬ জন।
তিনি জানান, দেশে এ পর্যন্ত মোট ১১ লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ লাখ ৪২ হাজার ১০২ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ২৮ শতাংশ। গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ৯১ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ২৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ শনাক্তের হার ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেশি।
ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ‘করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৪ হাজার ২৩৮ জনের। আগের দিন সংগ্রহ করা হয়েছিল ৩ হাজার ২১৩ জনের। গতকালের চেয়ে আজ ১ হাজার ২৫টি নমুনা বেশি সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশের ৮২টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪ হাজার ২৪৯ জনের। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ৩ হাজার ৬৮৪ জনের। গত ২৪ ঘন্টায় আগের দিনের চেয়ে ৫৬৫টি বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।
তিনি জানান, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে পুরুষ ২৫ জন এবং নারী ৫ জন। এ পর্যন্ত পুরুষ মৃত্যুবরণ করেছেন ২ হাজার ৫০৪ জন এবং নারী ৬৮০ জন। ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ২৭ জন এবং বাড়িতে ৩ জন মারা গেছেন।
অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণকারীদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায় যায়, ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৫ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১৪ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৪ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২ জন রয়েছেন। এ পর্যন্ত বয়স বিভাজনে মৃত্যুর সংখ্যা এবং শতকরা হারে শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১৮ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ৩২ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৮৭ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২০৯ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৪৪২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৯১৩ জন এবং ৬০ বছরের উর্ধ্বে ১ হাজার ৪৮৩ জন, ৪৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
তিনি জানান, ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ জন, খুলনা বিভাগে ৪ জন, রাজশাহী ৩ জন, সিলেট বিভাগে ১ জন, রংপুর বিভাগে ১ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন রয়েছেন। বিভাগ ভিত্তিক মৃত্যু সংখ্যা এবং শতকরা হারে দেখা গেছে ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ৫২০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৭০ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৯৩ জন, খুলনা বিভাগে ২৩৩ জন, বরিশাল বিভাগে ১২৬ জন, সিলেট বিভাগে ১৫৩ জন, রংপুর বিভাগে ১২০ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৯ জন।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, ‘ঢাকা মহানগরীতে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে সাধারণ শয্যায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ১০৩ জন, আইসিইউ শয্যায় ভর্তি আছে ১৯৫ জন। চট্টগ্রাম মহানগরীতে সাধারণ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ২০৭ জন, আইসিইউ শয্যায় ভর্তি আছে ২৪ জন। সারাদেশে অন্যান্য হাসপাতালে সাধারণ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৫৫৭ জন এবং আইসিইউ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৯৭ জন। সারাদেশে হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ১৫ হাজার ২৪০টি, রোগী ভর্তি আছে ৩ হাজার ৮৬৭ জন এবং শয্যা খালি আছে ১১ হাজার ৩৭৩টি। সারাদেশে আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৫৫৫টি, রোগী ভর্তি আছে ৩১৬ জন এবং খালি আছে ২৩৯টি। সারাদেশে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ১২ হাজার ৪৯০টি। সারাদেশে হাই ফ্লো নেজাল ক্যানেলা সংখ্যা ৩২০টি এবং অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ১৫৭টি।
০১৩১৩-৭৯১১৩০, ০১৩১৩-৭৯১১৩৮, ০১৩১৩৭৯১১৩৯ এবং ০১৩১৩৭৯১১৪০ এই নম্বরগুলো থেকে হাসপাতালের সকল তথ্য পাওয়া যাবে। কোন হাসপাতালে কতটি শয্যা খালি আছে। কত রোগী ভর্তি ও কতজন ছাড় পেয়েছেন এবং আইসিইউ শয্যা খালি আছে কি না এই ফোন নম্বরগুলোতে ফোন করে জানা যাবে বলে তিনি জানান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৪৬৮ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৮ হাজার ৮২৫ জন। আইসোলেশন থেকে ২৪ ঘণ্টায় ৩৬৩ জন এবং এখন পর্যন্ত ৩৩ হাজার ৪৪৮ জন ছাড় পেয়েছেন। এখন পর্যন্ত আইসোলেশন করা হয়েছে ৫২ হাজার ২৭৩ জনকে।
তিনি জানান, প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ৯৯৯ জন। এখন পর্যন্ত কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ৪ লাখ ৪০ হাজার ১৩২ জনকে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৫১৪ জন এবং এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৮৫ হাজার ২৭৮ জন ছাড় পেয়েছেন। বর্তমানে মোট কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫৪ হাজার ৮৫৪ জন।
নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘন্টায় স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ হটলাইন নম্বরে ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে ১০ হাজার ১৬২টি, ৩৩৩ এই নম্বরে ২৪ ঘন্টায় ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে ৫৮ হাজার ১৬২টি এবং আইইডিসিআর’র হটলাইনে ফোন এসেছে গত ২৪ ঘন্টায় ৪১৫টি। সব মিলিয়ে ২৪ ঘন্টায় ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে ৬৮ হাজার ৬৩৯। এ পর্যন্ত হটলাইনে ফোনকল এসেছে ১ কোটি ৮১ লাখ ১০ হাজার ৯৩০টি।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, করোনাভাইরাস চিকিৎসা বিষয়ে এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ৪৯৮ জন চিকিৎসক অনলাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এদের মধ্যে ৪ হাজার ২১৭ জন স্বাস্থ্য বাতায়ন ও আইইডিসিয়ার’র হটলাইনগুলোতে স্বেচ্ছাভিত্তিতে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘন্টা জনগণকে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া ২৪ ঘন্টায় কোভিড বিষয়ক টেলিমেডিসিন সেবা গ্রহণ করেছেন ২ হাজার ৩১ জন। এ পর্যন্ত শুধু কোভিড বিষয়ে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করেছেন ১ লাখ ৫৬ হাজার ২৩০ জন। প্রতিদিন ৩৫ জন চিকিৎসক ও ১০ জন স্বাস্থ্য তথ্যকর্মকর্তা দুই শিফটে মোট ৯০ জন টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।
তিনি জানান, দেশের বিমানবন্দর, নৌ, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দর দিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ১ হাজার ৫৬ জনসহ সর্বমোট বাংলাদেশে আগত ৭ লাখ ৯৮ হাজার ৫২৯ জনকে স্কিনিং করা হয়েছে।
সূত্র-বাসস