দেশে কোটিপতি আমানতকারী ৯৪ হাজার ২৭২ জন

27

করোনা মহামারির মধ্যে আয় কমেনি বিত্তশালীদের। ফলে নানা সংকটের মধ্যেও দেশে বাড়ছে কোটিপতি আমনতকারীর হিসাব। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এক কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে এমন হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজার ২৭২টি।
দেশে মহামারির শুরুর আগে কোটি টাকার আমানতের হিসাব ছিল ৮২ হাজার ৬২৫টি। এক বছরে কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব বেড়েছে ১১ হাজার ৬৪৭টি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২০২১ সালের মার্চভিত্তিক হালনাগাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
করোনা মহামারির কারণে গোটা বিশ্বের মতো দেশের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অনেকে কাজ হারিয়েছেন আবার অনেকে কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতেও আমানতকারীর সঙ্গে কোটি টাকা জমার হিসাবের সংখ্যা বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে আমানতকারীদের হিসাবে জমা ছিল ১৩ লাখ ৮৪ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। ২০২০ সালের মার্চে এই ব্যাংকগুলোতে আমানত ছিল ১২ লাখ ১০ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা। সেই হিসাবে গত বছরে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে আমানত বেড়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী, আমানতকারীদের জমানো অর্থের প্রায় ৪৩ দশমিক ৯ শতাংশই কোটিপতিদের দখলে। চলতি বছরের মার্চে তাদের হিসাবে জমা ৫ লাখ ৯৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। গত বছরের মার্চে কোটিপতি ব্যাংক হিসাবে জমা ছিল ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরে কোটিপতি ব্যাংক হিসাবগুলোর জমানো টাকা বেড়েছে ৮০ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা।
কোটি টাকার আমানত বাড়ার বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, একটা শ্রেণির আয় বেড়েছে কিন্তু করোনায় তাদের বিলাসবহুল খরচ কম হচ্ছে। বিদেশ ভ্রমণে যেতে পারছে না। এখন হুন্ডি বা অবৈধ চ্যানেলে আগের মতো বিদেশে টাকা পাঠানোর সুযোগ কমে গেছে। পাশাপাশি বিনিয়োগ মন্দার কারণে পুঁজি খাটাতে পারছে না। এসব কারণে আমানত বাড়ছে। এতে একটি ভালো আমানত বাড়ায় ব্যাংকগুলোতে নগদ তারল্যের সংকট হচ্ছে না। তবে শঙ্কার বিষয় ব্যাংকগুলোর বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়ছে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০২১ সালের মার্চ মাস শেষে ১ কোটি ১ টাকা থেকে ৫ কোটি টাকার আমানতকারীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৪ হাজার ২২৯টি। ৫ কোটি ১ টাকা থেকে ১০ কোটি পর্যন্ত জমা হিসাবের সংখ্যা ১০ হাজার ৪৯৯টি, ১০ কোটি ১ টাকা থেকে ১৫ কোটির টাকার হিসাব রয়েছে ৩ হাজার ৪৪৬টি, ১৫ কোটি ১ টাকা থেকে ২০ কোটির মধ্যে ১ হাজার ৬৯৩টি, ২০ কোটি ১ টাকা থেকে ২৫ কোটির মধ্যে ১ হাজার ৮১টি, ২৫ কোটি ১ টাকা থেকে ৩০ কোটির মধ্যে হিসাব রয়েছে ৭৬৬টি, ৩০ কোটি ১ টাকা থেকে ৩৫ কোটি টাকার মধ্যে ৩৮৮টি এবং ৩৫ কোটি ১ টাকা থেকে ৪০ কোটির মধ্যে ২৯৬টি আমানতকারী হিসাব রয়েছে। গত এক বছরে ৪০ কোটি ১ টাকা থেকে ৫০ কোটি টাকার অ্যাকাউন্ট সংখ্যা দাঁড়ায় ৫০৪টি। আলোচিত সময়ে ৫০ কোটি টাকার বেশি আমানত রাখা ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৭০টিতে দাঁড়িয়েছে।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারী ছিল ৫ জন, ১৯৭৫ সালে তা ৪৭ জনে উন্নীত হয়। ১৯৮০ সালে কোটিপতিদের হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ৯৮টি। এরপর ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪টি, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭টি এবং ২০০৮ সালে ছিল ১৯ হাজার ১৬৩টি। ২০২০ সালে ডিসেম্বর শেষে দাঁড়ায় ৯৩ হাজার ৮৯০টিতে। খবর এফএনএস।