দেশের স্থলবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে বিশেষ উদ্যোগ

133

78c514f4afca092ae74194a83d2d6854-56dbf20859195নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের সবগুলো স্থলবন্দর। এমন পরিস্থিতিতে স্থলবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। মূলত চোরাচালানিদের দৌরাত্ম, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অনিয়ম-দুর্নীতি, প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সদস্যদের দাপটে স্থলবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া এবং অবৈধ পাসের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশের নাগরিকদের দেশে প্রবেশের সুযোগ দেয়ার কারণে বিঘিœত হচ্ছে স্থলবন্দরগুলোর নিরাপত্তা। এমন পরিস্থিতিতে দেশের স্থলবন্দরগুলোর নিরাপত্তা সমস্যা সমাধানে অতিসম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে ৭টি সুপারিশ করা হয়েয়ে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে দেশের অনেক স্থলবন্দরেই চলছে জমজমাট চোরাচালান ও মাদকের ব্যবসা। আর টেকনাফ স্থলবন্দরে রোহিঙ্গাদের প্রবেশে অবৈধ বর্ডার পাস দেয়া হচ্ছে।  তাছাড়া বিবিরবাজার স্থলবন্দর দিয়ে পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই বাংলাদেশ ও ভারতের জনসাধারণের অবাধ যাতায়াত ও মাদকসহ অবৈধ পণ্যের চোরাচালান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতায় মাদক চোরাচালানের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে এবং ভোমরা ও বেনাপোল বন্দরে শুল্ক বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় আমদানি-রপ্তানিতে অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে। এসব বিষয় গুরুত্বেও সাথে বিবেচনায় নিয়েছে সরকার। সেজন্য স্থলবন্দরগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে বিজিবি, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কড়া নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সাথে বন্দরগুলোতে দুর্নীতি ও অনিয়ম ঠেকাতে শুল্ক বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। সূত্র জানায়, দেশের স্থলবন্দরগুলোর নিরাপত্তাসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে অতিসম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সভা হয়। ওই সভায় স্থলবন্দরগুলোর নিরাপত্তা জোরদারসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানে অবকাঠামোর উন্নয়ন, সিসি টিভি স্থাপনসহ ৭টি সুপারিশ করা হয়েছে। তাছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি মনিটরিং টিম গঠনেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে স্বরাষ্ট্র সচিব, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে দেশে স্থলবন্দরের সংখ্যা ২৩টি। তার মধ্যে ১০টি স্থলবন্দর সক্রিয়। তার মধ্যে ৫টি স্থলবন্দর সরকার নিয়ন্ত্রিত এবং বাকি ৫টি পিপিপি ভিত্তিতে চলছে। সূত্র আরো জানায়, স্থলবন্দরগুলোতে শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিন ধরে একই স্থানে পোস্টিং নিয়ে রয়েছেন। পিওন থেকে শুরু করে কর্মকর্তাদের একই কর্মস্থলে ২০-২৫ বছর কর্মরত থাকার কারণে অনিয়ম ও দুর্নীতি বেশি হচ্ছে। ফলে স্থলবন্দরগুলোতে দুর্নীতি ও অনিয়ম শিকড় গেড়েছে। সোনামসজিদ স্থলবন্দরে বিভিন্ন সংস্থার অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত মালামালের ওজন কম দেখিয়ে আন্ডার ইনভয়েজের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুড়িমারী স্থলবন্দরে চলছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। আর টেকনাফ বন্দরে রাজস্ব সংগ্রহে কাস্টমস কর্মকর্তাদের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সভায় স্থলবন্দরগুলোর নিরাপত্তায় যেসব সুপারিশ করা হয় তার মধ্যে রয়েছে- স্থলবন্দরের সার্বিক বিষয়ে নজরদারি বৃদ্ধি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয়ভাবে বন্দর সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সৎ দায়িত্বশীল সদস্যদের সমন্বয়ে যৌথ মনিটরিং সেল গঠন করা, স্থলবন্দরে তালিকাভুক্ত সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে প্রকৃত লাইসেন্সধারীদের সমন্বয়ে একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠন, বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানিকারক ও বাংলাদেশ-ভারতে যাতায়াতকারী যাত্রীদের হয়রানি বন্ধে নজরদারি বৃদ্ধি করা, বন্দরগুলোতে ইতিপূর্বে একই স্টেশনে একাধিকবার বা দীর্ঘদিন দায়িত্বপালনকারী কাস্টমস, ইমিগ্রেশন ও উদ্ভিদ সংগ নিরোধ এবং নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাতে পোস্টিং না পায় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজর দেয়া।