দেশের সব অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করতে হাইকোর্টের নির্দেশ

6

বাংলাদেশের সব জেলার অবৈধ ইটভাটা ও ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহার আগামী ৭ দিনের মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশনা জারি করতে বলেছেন হাইকোর্ট। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসনের সিনিয়র সচিব এবং পরিবেশ সচিবকে এ নির্দেশনা জারি করতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম এবং বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দী সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ রবিবার এ আদেশ দেন।
রিটকারী আইনজীবী সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের জানান, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুসারে লাইসেন্স ব্যতীত কোনো ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনা করা যায় না এবং জ্বালানি হিসেবে ইটভাটায় কাঠের ব্যবহার নিষিদ্ধ এমন বিধান থাকলেও বাংলাদেশের বেশির ভাগ জেলায় শীত মৌসুমকে সামনে রেখে অবৈধ ইটভাটাগুলো কার্যক্রম শুরু করছে।
তিনি বলেন, জ্বালানি হিসেবে ইটভাটায় কাঠ ব্যবহারের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এই মর্মে রিপোর্ট প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে গত ১৩ নভেম্বর পরিবেশবাদী ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) হাইকোর্টে রিট করে। রিটের শুনানি শেষে আদালত সংশ্লিষ্টদের প্রতি ৪ সপ্তাহের রুল জারি করেন। বাংলাদেশের সকল জেলার অবৈধ ইটভাটা বন্ধে ও জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহার বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং অবৈধ ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন ও ভাটায় কাঠ ব্যবহার বন্ধে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না রুলে তা জানাতে বলা হয়েছে।
তিনি জানান, আদালত এক অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসনের সিনিয়র সচিব এবং পরিবেশ সচিবকে বাংলাদেশের সকল জেলার জেলা প্রশাসকদের কার্যকরী নির্দেশনা দিতে বলেছেন, যাতে ৭ দিনের মধ্যে যেন স্ব স্ব এলাকায় অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম ও জ্বালানি হিসেবে ইটভাটায় কাঠের ব্যবহার বন্ধ হয়। দুই সপ্তাহের মধ্যে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।
আদালত অপর এক আদেশে পরিবেশের মহাপরিচালক (ডিজি), পরিচালক ও বিভাগীয় কমিশনারদের ১ সপ্তাহের মধ্যে তাদের নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় মনিটরিং টিম গঠন করে অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম ও জ্বালানি হিসেবে ইটভাটায় কাঠের ব্যবহার স্থগিতকরণের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। আদালতে ২ সপ্তাহের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।