দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা শুরু : কথা বলার ফুরসত নেই প্রতিমা কারিগরদের

21

মৌটুসী চৌধুরী
দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা শুরু হয়ে গেছে। আর কদিন পরই দেবী দুর্গা আসছেন মর্তলোকে। আগামী ৪ অক্টোবর যষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা কারিগররা। কথা বলার ফুরসত নেই তাদের। প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি এরই মধ্যে মন্দিরগুলোয় পরিষ্কার করে আলোকসজ্জা ও তোরণ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। কোনো কোনো জায়গায় রঙ করা হচ্ছে মন্দির।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় এবার ১৩৬টি ম-পে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৫৫টি, শিবগঞ্জে ৩৭টি, গোমস্তাপুরে ২৯টি, নাচোলে ১২টি এবং ভোলাহাটে ৩টি ম-পে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ।
এদিকে শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যস্ততা বেড়ে গেছে জেলার প্রতিমা কারিগরদের। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রতিমা সরবরাহ করতে হবে তাই রাতদিন কাজ করতে হচ্ছে তাদের। প্রতিমা তৈরির কাজে সহযোগিতা করছেন পরিবারের অন্য সদস্যরাও। এই মুহূর্তে কথা বলার ফুরসতটুকুও নেই তাদের।
সদর উপজেলার বারঘরিয়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার হুজরাপুর, হাসপাতাল মোড়, শিবতলা, জোড়ামঠ, মেথরপাড়ার মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এখন প্রতিমাগুলোকে মনের মাধুরী মিশিয়ে রাঙানোর পালা। আর কয়েক দিন পরই কারিগরদের নিপুণ রঙতুলিতে ফুটে উঠবে দেবী দুর্গার প্রতিমা।
জেলা শহরের ওয়ালটন মোড়ে অবস্থিত সুরেন্দ্র নাথ সিংহের ছোট ঠাকুরবাড়ির সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে দেখা যায় প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগর অসিত কুমার পালকে। এই বছর ১২টি প্রতিমা তৈরি করছেন তিনি। অন্যান্যবারের থেকে এবার প্রতিমা তৈরির কাজ কম নিয়েছেন। অসিত কুমার পাল বলেন, প্রতিমার কাঠামো ও ডিজাইনের ওপর এর খরচ নির্ভর করে। তাছাড়া প্রতিমা তৈরিতে আরো ৩-৪ জনের শ্রম লাগে। এবার একটি প্রতিমা তৈরিতে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পেয়েছেন। একেকটি প্রতিমাতে খরচ বাদ দিয়ে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত টিকে বলে জানান তিনি। অসিত কুমার পাল বলেন, নিজের বাড়িতেও প্রতিমা বানায়। কেউ চাইলে মন্দিরে গিয়েও বানিয়ে দিয়ে আসি।
প্রতিমা কখনো নিজেদের ডিজাইনে, কখনো ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী বানিয়ে থাকেন। একটি প্রতিমা তৈরিতে রঙ করা বাদে ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগে। রঙের কাজটাই সময়সাপেক্ষ। এজন্য পূজা শুরুর ৭ থেকে ৮ দিন আগে রঙ করার কাজ শুরু করেন বলে জানান অসিত কুমার পাল। তিনি বলেন, প্রতিমার সাজসজ্জার বিষয়টি অনেক সময় মাটি দিয়েই করা হয়। কেউ আবার রেডিমেট অলঙ্কার দিয়ে যান।
শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা বিষয়ে কথা হয় পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, জনসমাগম একটু বেশি এরকম ৩৯টি ম-প রয়েছে, এগুলোকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি। তবে সব ম-পেই সার্বক্ষণিক পুলিশের নিরাপত্তা দেয়া হবে। এছাড়া আনসার ভিডিপির সদস্যরা দায়িত্বে থাকবে। আমরা বেশ কয়েকটি পূজাম-পকে ক্লাস্টারে ভাগ করেছি। ক্লাস্টার অনুযায়ী যে টহল দল থাকবে, সেই টহল দলের অধীনে থাকবে একাধিক পূজাম-প নিরাপত্তার দায়িত্ব। পুলিশ সুপার আরো জানান, প্রতিটি ম-পে জেলা পুলিশের মোবাইল নম্বরসহ ‘৯৯৯’ এর নম্বর সংবলিত ব্যানার দেয়া হয়েছে। আমাদের কন্ট্রোল রুম খোলা থাকছে, যাতে কোনো সমস্যা হলে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করতে পারে।
পুলিশ সুপার জানান, পূজাম-পের আশপাশে কোনো প্রকার মাদক ব্যবহার একবারে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই সাথে কোনো প্রকার পটকা ফুটানো থেকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী ৮ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা শেষ হবে।