দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হচ্ছে ‘কায়ান্ট’

58

gourbangla logoপশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘কায়ান্ট’ দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। কায়ান্টের প্রভাবে বৃষ্টি ঝরছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে তিন ঘণ্টায় ঢাকায় ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে জানিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, কায়ান্টের প্রভাবে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আরও বৃষ্টি ঝরতে পারে। পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি শুরুতে পানির উষ্ণতা থেকে শক্তি সঞ্চয় করে মিয়ানমারের দিকে এগোলেও সোমবার তা উল্টো ঘুরে উত্তর-পশ্চিম দিকে ভারতের বিশাখাপত্তম উপকূলের দিকে এগোতে শুরু করে। এরপর মঙ্গলবার সকালে নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়। শুরু থেকেই বিচিত্র আচরণ করতে থাকা এই ঘূর্ণিঝড় দক্ষিণ পশ্চিমে সরে গিয়ে শুক্র বা শনিবার নাগাদ অন্ধ্র উপকূলের কাছকাছি পৌঁছাতে পারেন বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন আবহাওয়াবিদরা। তারা বলেছিলেন, উপকূলে আঘাত হানার আগেই ঝড়টি দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকলেও এর প্রভাবে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ, তামিলনাড়ু ও উড়িষ্যা রাজ্েযর উপকূলে এবং পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে ভারি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার দাপট চলতে পারে আগামী দুদিন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে ঘূর্ণিঝড় ‘কায়ান্ট’ দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার কথা জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, সকাল ৯টায় নিম্নচাপটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৩০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৮৫০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড় দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় সমুদ্রবন্দরগুলোকে দুই নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সঙ্কেত নামিয়ে এক নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সঙ্কেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে পরামর্শ দেওয়া রয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অস্থায়ী দমকাসহ বৃষ্টি অথবা বজ্র বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্য স্থানে আকাশ আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। গত বুধবার ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের কয়েক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। এসময় দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।