দুর্দান্ত জয় পেল রিয়াল

0

শুরুতে এগিয়ে যাওয়ার পর পথ হারাতে বসেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তাদের মাঠ থেকে পয়েন্ট নিয়ে ফেরার আশা জাগাল সেভিয়া। তবে শেষ দিকে তিন মিনিটে দুই গোল করে অসাধারণ এক জয় তুলে নিল কার্লো আনচেলত্তির দল। সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে শনিবার রাতে লা লিগার ম্যাচটি ৩-১ গোলে জিতেছে গত আসরের চ্যাম্পিয়নরা। লুকা মদ্রিচের গোলে স্বাগতিকরা এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরান এরিক লামেলা। বদলি নামার পরপরই লুকাস ভাসকেস আবার রিয়ালকে এগিয়ে নেওয়ার পর চমৎকার গোলে ব্যবধান বাড়ান ফেদে ভালভেরদে। ১১ ম্যাচে ১০ জয় ও এক ড্রয়ে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে রিয়াল। এক ম্যাচ কম খেলে ৬ পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে আছে বার্সেলোনা। পায়ের পেশির চোটে এই ম্যাচে খেলতে পারেননি করিম বেনজেমা। তবে বের্নাবেউয়ের সবুজ গালিচায় ঠিকই হাজির হন ফরাসি তারকা। গত সপ্তাহে জেতা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার ব্যালন ডি’অর ট্রফি তার হাতে তুলে দেওয়া হয় ঘরের মাঠের দর্শকদের সামনে।

ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে বর্ষসেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার জেতা থিবো কোর্তোয়ার হাতে ‘ইয়াশিন ট্রফি’ তুলে দেন কিংবদন্তি ইকের কাসিয়াস। বেলজিয়ান গোলরক্ষক কোর্তোয়া চোট কাটিয়ে এই ম্যাচ দিয়ে মাঠেও ফেরেন। রিয়াল এগিয়ে যায় পঞ্চম মিনিটেই। বাঁ দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে একজনের বাধা এড়িয়ে ভিনিসিউস জুনিয়র পাস দেন দূরের পোস্টে, আর প্রথম ছোঁয়ায় জালে পাঠান ৩৭ বছর বয়সী মদ্রিচ। এরপর অবশ্য পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না স্বাগতিকরা। ১৯তম মিনিটে ডাভিড আলাবার ফ্রি-কিক পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে যায়। প্রথমার্ধের শেষ দিকে দারুণ একটি সুযোগ আসে ভিনিসিউসের সামনে। ভালভেরদের পাস ধরে গোলরক্ষককে কাটাতে যান তিনি, সফলও হন, কিন্তু পরে আর বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে লক্ষ্যে প্রথম শট নিতে পারে সেভিয়া। হেসুস নাভাসের সেই শট কোর্তোয়াকে তেমন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। বিরতির পর যেন জেগে ওঠে সফরকারীরা। ৫৪তম মিনিটে সমতা ফেরায় তারা।

ডিফেন্ডার গনসালো মনতিয়েলের রক্ষণ চেরা পাস ডি-বক্সে পেয়ে দুরূহ কোণ থেকে শটে গোলটি করেন লামেলা। কোর্তোয়া বলে হাত ছোঁয়ালেও রুখতে পারেননি। পরের ৬ মিনিটে আরও দুটি ভালো সুযোগ পায় সেভিয়া। বাঁ দিক থেকে পাশের জালে বল মারেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার ইসকো। আর মনতিয়েলের আরেকটি পাসে বাইরে শট নেন লামেলা। ৭২তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ হারান ভিনিসিউস। বক্সের সামনে থেকে ব্যাকহিল ফ্লিকে বল বাড়ান রদ্রিগো। গোলরক্ষক এগিয়ে এসে বল নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি, শেষ মুহূর্তে দুরূহ কোণ থেকে বাইরে মারেন ভিনিসিউস। রিয়াল শিবিরে তখন আসরে দ্বিতীয়বার পয়েন্ট হারানোর চোখ রাঙানি। এরপরই দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। ৭৯ থেকে ৮১, এই তিন মিনিটে করে দুই গোল। ৭৭তম মিনিটে মদ্রিচ ও দানি কারভাহালকে তুলে মার্কো আসেনসিও ও ভাসকেসকে নামান আনচেলত্তি।

দারুণ কাজে দেয় এই পরিবর্তন। বদলি নামা দুজনই অবদান রাখেন ওই দুই গোলে। প্রথমে মাঝমাঠ থেকে আসেনসিও বল বাড়ান ভিনিসিউসের উদ্দেশ্যে। গোলরক্ষক এগিয়ে আসায় ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড বল দেন পাশে ফাঁকায় থাকা ভাসকেসকে আর ফাঁকা জালে বল পাঠান এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। একটু পর আসেনসিওর পাসে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শটে দূরের পোস্টের ওপরের কোনা দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন ভালভেরদে। লিগে এই নিয়ে টানা তিন ম্যাচে জালের দেখা পেলেন উরুগুয়ের এই মিডফিল্ডার। আসরে ১১ ম্যাচে তার গোল হলো ৬টি। এমন একটি জয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আগামী বুধবার লাইপজিগের বিপক্ষে ম্যাচের আগে রিয়ালের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে নিশ্চিতভাবে।