দুই শ্রমবাজারে সুখবর দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির ওপর জোর দিন

57

gourbangla logoজনশক্তি রপ্তানিতে দুই শ্রমবাজার থেকে সুখবর এসেছে। মালয়েশিয়ায় অবৈধ হয়ে পড়া সাড়ে তিন লাখ বাংলাদেশির মধ্যে আড়াই লাখ বৈধতার সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। বৈধ হওয়ার অপেক্ষায় আছে আরো এক লাখ। এরইমধ্যে ঘোষণা এসেছে, আগামি তিন বছরে দেশটি বাংলাদেশ থেকে আরো ১০ লাখ কর্মী নেবে। একই সঙ্গে প্রসারিত হতে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার। নবম অভিবাসন ও উন্নয়ন ফোরামের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এসে সে দেশের মানবসম্পদমন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত শিগশিরই বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেবে।
মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জনশক্তির একটি বড় বাজার। বৈদেশিক মুদ্রার একটি বড় আয় এখান থেকে এসে থাকে। ২০০৯ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ থাকলেও অবৈধভাবে অনেক বাংলাদেশি সেখানে গেছে। সমুদ্রপথে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও অনেকে মালয়েশিয়া পাড়ি জমিয়েছে। গত সাত-আট বছরে যারা মালয়েশিয়া গেছে, তাদের কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। অনেকের কাছে ছিল না পাসপোর্ট। এ অবস্থায় মালয়েশিয়া সরকার বৈধ হওয়ার সুযোগ দিলে সবাই সে সুযোগ নিয়েছে। নিবন্ধনের মাধ্যমে অবৈধদের বৈধ করার সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন চেষ্টা করা হচ্ছিল। চলতি মাস থেকেই মালয়েশিয়ায় নতুন করে জনশক্তি রপ্তানি শুরু হতে পারে। ভবিষ্যতে আরো বড় সুযোগ আসতে পারে বাংলাদেশের জন্য। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। মিয়ানমার সেখান থেকে তাদের জনশক্তি প্রত্যাহার করে নিতে চায়। তেমনটি হলে আরো জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ আসবে বাংলাদেশের সামনে। তবে পুরো বিষয়টি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার অনেক বড়। সেখানে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। জনশক্তির চাহিদা বাড়ছে। চাহিদা অনুযায়ী জনশক্তি তৈরি করে সেখানে পাঠানো গেলে বাংলাদেশেরই লাভ। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। মন্ত্রী পর্যায়ের এই বৈঠকে মালয়েশিয়া যাওয়ার খরচও নির্ধারণ করা হয়েছে। মালয়েশিয়া সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে ৭৪৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা, যা থেকে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান বেছে নিতে পারবে মালয়েশিয়া।
আমরা আশা করব, মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনশক্তি রপ্তানির বাজার আমাদের জন্য যে সুযোগ এনে দিচ্ছে তা কাজে লাগিয়ে এবং নতুন বাজার খুঁজে বৈধ পথে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ অনেক বেড়ে যাবে।