দায়িত্বভার গ্রহণের ৩ঘন্টা পর কারাগারে মেয়র নজরুল

168

captureদায়িত্বভার গ্রহণের ৩ ঘন্টা পর কারাগারে গেলেন জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম। রবিবার সকাল ১০টায় পৌরসভার মেয়র হিসেবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে দুপুর ১টার দিকে পৌরসভা থেকে বের হয়ে একটি বিষ্ফোরক মামলায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমলী আদালত ’ক’ অঞ্চলের বিচারক জুয়েল অধিকারীর আদালতে আত্মসমার্পন করে জামিন আবেদন করলে আদালত আবেদন না মুঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।
গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সামিউল হক লিটনকে ১ হাজার ভোটে পরাজিত করে নজরুল ইসলাম মেয়র নির্বাচিত হন। কিন্তু নাশকতাসহ কয়েকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র গৃহিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে নজরুল ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। নজরুল ইসলাম ওই প্রজ্ঞাপনের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট বিভাগে রীট পিটিশন দায়ের করেন। রীট পিটিশনে বরখাস্ত আদেশের উপর স্থগিতাদেশ প্রদান করা হয়। এরপর উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ বাস্তবায়নের জন্য কনটেম্পট পিটিশন দায়ের করা হয়। কনটেম্পট প্রসিডিং না হওয়ায় সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত মেয়র নজরুল ইসলামকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ১৬ নভেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ সচিব আব্দুর রউফ মিয়া স্বাক্ষরিত এক পত্রে জেলা প্রশাসকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় নজরুল ইসলাম রবিবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তাঁকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন ভারপ্রাপ্ত মেয়র (প্যানেল মেয়র-১) সাইদুর রহমান। এ সময় প্যানেল মেয়র-২ মতিউর রহমান, প্যানেল মেয়র-৩ মোসলেমা বেগম মুসি, কাউন্সিলরবৃন্দ, নির্বাহী প্রকৌশলী সাদেকুল ইসলাম, পৌর সচিব মামুনুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।
দায়িত্বভার প্রদান শেষে প্যানেল মেয়র-১ সাইদুর রহমান ভারপ্রাপ্ত মেয়র থাকাকালীন ঋণের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন-পৌরসভার স্বার্থে প্রায় সাড়ে কোটি টাকা ঋণ করা হয়েছে। সেই ঋণ কীভাবে শোধ করা হবে মেয়র নজরুল ইসলামকে দায়িত্বভার গ্রহণ অনুষ্ঠানেই বলার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি বলেন-আমরা আপনাকে সবধরণের সাহায্য সহযোগিতা করবো। পরে তাৎক্ষণিক বক্তব্যে মেয়র নজরুল ইসলাম বলেন-স্থানীয় সংসদ সদস্য হচ্ছে পৌরসভা তথা স্থানীয় সরকারের অভিভাবক। তাঁর পরামর্শে আমরা কাজ করবো। পৌরকর সম্পর্কে তিনি বলেন-আমি আজ মেয়র। কিন্তু কালাই আমি সাধারণ নাগরিক। সুতরাং পৌর কর সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করবো। পৌরবাসীর উপর অসহনীয় করের বোঝা চাপিয়ে দেয়া ঠিক হবে না। প্রয়োজনে বকেয়া কর বেশি পরিমাণে আদায় করে পৌরসভা চালানো হবে। তিনি বলেন ভারপ্রাপ্ত মেয়র তথা পৌর পরিষদ যে ঋণ গ্রহণ করেছেন তা পৌরসভার স্বার্থেই করা হয়েছে। কাজেই ঋণ পরিশোধ করা নিয়ে দ্বিমত নেই।
এদিকে সকাল থেকে পৌর ফটকে অবস্থান নেয় পুলিশ। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান দূপুর ১টার দিকে মেয়র নজরুল ইসলাম পৌরসভা থেকে বের হবার সময় একটি বিস্ফোরক মামলার এজাহারভুক্ত আসামী হিসেবে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় মেয়র নজরুল ও তাঁর আইনজীবীরা গ্রেপ্তার এড়াতে ঐ মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণের জন্য যাবার কথা জানান এবং কাগজপত্র দেখান। নজরুল ইসলামের আইনজীবী এ্যাড.আব্দুর ওদুদ ও এ্যাড.শফিক এনায়েতুল্লাহ জানান, এ অবস্থায় কঠোর পুলিশী পাহারায় মেয়র নজরুল চলতি বছরের ২ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় দায়ের হওয়া একটি বিস্ফোরক মামলায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমলী আদালত ’ক’ অঞ্চলের বিচারক জুয়েল অধিকারীর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তার আবেদন না মুঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।