দাতারা অর্থায়ন থেকে সরে পড়ায় রেলওয়ের তিন প্রকল্প বাতিল

64

rail-logoবাংলাদেশ রেলওয়ের একাধিক প্রকল্পের অর্থায়ন থেকেই সরে গেছে দাতা গোষ্ঠি। রেলওয়ে বিগত ২০০৯ সালে ‘রফতানি অবকাঠামো উন্নয়ন’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। সাড়ে ১১ কোটি টাকার ওই প্রকল্পে দাতা গোষ্ঠি বিশ্বব্যাংক সাড়ে ৮ কোটি টাকা দেয়ার প্রাথমিক প্রতিশ্রুতি দেয়। চার বছর মেয়াদি প্রকল্পের জন্য সংস্থাটি সরকারের সাথে ঋণ চুক্তির আলোচনা করে। এমনকি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বৈঠকেও ওই প্রকল্প অনুমোদন পায়। কিন্তু পরবর্তীতে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন থেকে সরে যায়। এমনভাবে প্রথমে আগ্রহ দেখিয়ে পরবর্তীতে অর্থায়ন থেকে বিশ্বব্যাংকের সরে যাওয়ায় রেলের তিনটি প্রকল্প বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে বাদ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তার মধ্যে অন্য দুটি প্রকল্পের একটি হচ্ছে রফতানি উন্নয়ন অবকাঠামো প্রকল্পের কারিগরি সহায়তা সংক্রান্ত আর অপরটি রেলওয়েতে বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রকৌশল ও দরপত্র সংক্রান্ত। তাছাড়া ভারতীয় ঋণের আওতায় থাকা রেলওয়ের ২৬৪টি মিটার গেজ ও ২টি ব্রড গেজ ইন্সপেকশন কার সংগ্রহ প্রকল্পও বাতিল করা হচ্ছে। বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দাতা সংস্থা রেলের যেসব প্রকল্পে অর্থায়ন থেকে সরে গেছে ওসব প্রকল্প বাতিল করার জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে। মূলত অর্থ না পাওয়ার কারণেই ওসব প্রকল্প বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে রেলওয়ে। ইতিমধ্যে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ওসব প্রকল্প বাতিলের সারসংক্ষেপও প্রস্তুত করেছে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ। এখন পরিকল্পনামন্ত্রী স্বাক্ষর করলেই এডিপি থেকে ওসব প্রকল্প বাতিল হয়ে যাবে। তাছাড়া ভারতীয় প্রথম দফা ঋণের ২৬৪ মিটার গেজ ও দুটি ব্রড গেজ ইন্সপেকশন কার সংগ্রহ প্রকল্প ওবাতিল হচ্ছে। ৯৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ের ওই প্রকল্পে কয়েক দফা দরপত্র আহ্বান করা হলেও যোগ্য ঠিকাদার পাওয়া যায়নি। ভারতের কোনো কোম্পানিই এখন মিটার গেজ যাত্রীবাহী কোচ উৎপাদন করে না। সেজন্য একনেকে অনুমোদন পেলেও প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে প্রকল্পটি বাদ দেয়া হচ্ছে।
সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংক সাত থেকে আট বছর আগেই রেলপথ ব্যবহার করে রফতানি বাড়ানোর একাধিক বড় প্রকল্পে অর্থায়নের পরিকল্পনা করেছিল। দাতা সংস্থাটি জয়দেবপুরে বিশেষ কনটেইনার ইয়ার্ড নির্মাণের প্রস্তাব দেয়। কারিগরি সহায়তামূলক ওসব প্রকল্পের মাধ্যমে বড় প্রকল্প প্রস্তুত করার কথা থাকলেও তা আর হয়ে ওঠেনি। ২০০৮ সালের মে মাসে বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রকৌশল ও দরপত্র সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু হয়।  আর প্রকল্পটি একনেক অনুমোদন করে ২০১০ সালের মার্চ মেয়াদে। মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের কোনো কাজ না হলেও কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের বেতন দিতে নভেম্বর পর্যন্ত দুই লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। প্রকল্পটিতে ১২ কোটি ২১ লাখ টাকা পেতে বিশ্বব্যাংককে কয়েক দফা চিঠি লিখেও সাড়া পাওয়া যায়নি। অর্থায়ন অনিশ্চয়তায় সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের কাছে প্রকল্পটি বাতিলের প্রস্তাব করে রেলপথ মন্ত্রণালয়। বাকি দুটি প্রকল্পও বাদ দেয়ার কারণও একই।
এ প্রসঙ্গে রেল সচিব ফিরোজ সালাহউদ্দিন জানান, অর্থায়ন অনিশ্চয়তায় রেলের প্রকল্পগুলো বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। অহেতুক তালিকা ভারি করে এসব প্রকল্প এডিপিতে রাখা ঠিক হবে না। প্রকল্পের যে পর্যন্ত কাজ হয়েছে ওই পর্যন্ত রেখেই সমাপ্ত ঘোষণা করা হবে। পরে অর্থায়ন পাওয়া গেলে প্রকল্পগুলো আবার শুরু করা হবে।