দশে ১০ রেডিও মহানন্দার

19


আলি আশরাফ

১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রেডিও মহানন্দাকে অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট সবাই জানেন যে, এই দশ বছর হচ্ছে রেডিও মহানন্দার সাফল্য অর্জনের পথ পরিক্রমা। সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ রেডিও মহানন্দা পেয়েছে অনেক পুরস্কার। চাইল্ড প্রোটেকশন-২০১৩তে ৩য়, মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০১৪তে ২য়, উপজেলা ডিজিটাল মেলাতে ৩য়, সংখ্যালঘুদের অধিকার লঙ্ঘন ও মানবাধিকার রক্ষা-২০১৬তে ৩য়, মীনা অ্যাওয়ার্ড-২০১৭তে ২য়, কমিউনিটি রেডিও তথ্য অধিকার অ্যাওয়ার্ড-২০১৭তে ৩য়, এবিইউ পুরস্কার-২০২১ প্রতিযোগী হিসেবে বাংলাদেশ থেকে এক রেডিও মহানন্দার মনোনয়ন লাভ ইত্যাদি স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি রেডিও মহানন্দা তার নিরলস কাজের মাধ্যমে অর্জন করেছে।
আমি অবশ্য মনে করি, এসব স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার রেডিও মহানন্দার কাজের মুখ্য পুরস্কার নয়। রেডিও মহানন্দার কাজের মুখ্য এবং প্রধান পুরস্কার হচ্ছে শ্রোতাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা। রেডিও মহানন্দা শ্রোতাদের ভালোবাসাতে প্রতিদিন অবগাহিত হয়ে আসছে। আমরা শ্রোতারা প্রতি দিন অপেক্ষা করি দুপুর ৩টার জন্য, আমাদের অপেক্ষায় থাকে দৌড় প্রতিযোগীদের টানটান উত্তেজনা কথাবন্ধুদের কণ্ঠে নিজের নাম প্রিয় রেডিওতে শোনার জন্য কমেন্ট বা এসএমএস প্রেরণে প্রথম দিকে থাকার তীব্র প্রতিযোগিতা।
দেশে-বিদেশের অসংখ্য শ্রোতা আমরা রেডিও মহানন্দাকে ভালোবাসায় সিক্ত করে গৌরবের সাথে বলে থাকি “আমি রেডিও মহানন্দার একজন শ্রোতা”। অসংখ্য শ্রোতার পরিচয়পত্রে রেডিও মহানন্দার নাম অন্তর্ভুক্তিই হচ্ছে রেডিও মহানন্দার আসল পুরস্কার।
শ্রোতাদের প্রতিদিনের এই আগ্রহ এবং অপেক্ষা এসেছে রেডিও মহানন্দার কলাকুশলীদের মেধা এবং নিপুণ কর্মদক্ষতার কারণে। কলাকুশলীরা যেমন ব্যস্ত থাকেন প্রতিদিনের সংবাদ সংগ্রহ এবং পরিবেশনে, তেমন তারা দায়িত্বনিষ্ঠ থাকেন সাপ্তাহিক, মাসের নানান আয়োজন বিনির্মাণে। আমরা শ্রোতা নিয়মিতই তাকিউর রহমান, রেজাউল করিম, নয়ন আলী, রাজিয়া সুলতানা, শাহরিয়ার হোসেন, মোমেনা ফেরদৌস, মৌটুসি চৌধুরী, সোনিয়া শীল, আয়েশা সিদ্দিকা, মৌসুমী খাতুন, ফাতেমা তুজ জোহরা, রীতা খাতুন প্রমুখের কণ্ঠে স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদের আয়োজন “আজকের চাঁপাইনবাবগঞ্জ” শুনি।
প্রতিদিন সুপরিকল্পিত আয়োজন নিয়ে শ্রোতাদের সাথে সরাসরি লাইভ কথোপকথনে থাকেন কথাবন্ধুরা। নানান পরিবর্তনের পথ ধরে এখন আমরা লাইভ আয়োজনগুলো যেভাবে পাচ্ছি সে আয়োজনগুলো সংক্ষেপে উল্লেখ করা দরকার। কারণ এই লাইভ আয়োজনেই ঘটে রেডিও মহানন্দার সাথে শ্রোতাদের দৈনন্দিন নিয়মিত সংযোগ।
শনিবারে ডুয়েট গানের আয়োজন ‘জোড়া শালিকে’ থাকেন নীলিমা এবং অয়ন; সন্ধ্যায় স্বপ্নিল থাকেন একক শিল্পীর গানের আয়োজন ‘সান্ধ্য প্রদীপে’। চমৎকার সব গানের সাথে শ্রোতারা নীলিমা-অয়নের কাছে পান শীত, গরম, বন্যা ইত্যাদিতে সময়োপযোগী করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ, কথাবন্ধু স্বপ্নিলের বুদ্ধিদীপ্ত আলোচনা সব সময় সম্প্রসারিত করে শ্রোতাদের জ্ঞানের দিগন্ত। রবিবার দুপুরে ‘রসের হাঁড়ি’ আয়োজনে থাকেন রিতিকা ও মেঘলা, সন্ধ্যায় পুরাতন দিনের গানের আয়োজন ‘চিরদিনের সুরে’ থাকেন অরণী। অরণীর সঙ্গ সবসময় শ্রোতাদেরকে দেয় চিন্তা করার অনুপ্রেরণা। সোমবারে ‘সুরের তারা’ আয়োজনে কথাবন্ধু প্রিয়া পরিবেশন করে রবীন্দ্রসংগীত-নজরুল গীতি, সন্ধ্যায় ‘লগড়া পাঁচ ফোড়ং’ আয়োজনে মাহাবুব নানার সাথে মানি, রিতা, মৌসুমী হাসি কৌতুকের ছলে জীবন সম্পর্কে গভীর বিশ্লেষণে শ্রোতাদের আনন্দের মাধ্যমে গভীর চিন্তার খোরাক দেন। মঙ্গলবার দুপুরে ‘নিক্কন’ আয়োজন লোকগীতির অনুষ্ঠান, সন্ধ্যায় কথাবন্ধু রূপক ‘সিনেমালা’ আয়োজনে পরিবেশন করেন সিনেমার গান। বুধবার দুপুরে ‘ব্যান্ড আওয়ারে’ পরিবেশিত হয় ব্যান্ডসংগীত, সন্ধ্যায় ‘ওয়ার্ল্ড মিউজিক এক্সপ্রেস’ আয়োজনে শুভ্র বিভিন্ন ভাষার বিশ্বসংগীত পরিবেশন করেন। কথাবন্ধু শুভ্র অনলাইন, রাস্তাঘাটে দরকারি সতর্কতার বিষয়ে আমাদেরকে সজাগ এবং সচেতন রাখেন। বৃহস্পতিবারে কথাবন্ধু তিথি আমাদের ‘বিকেলের ট্রেনে’ সব ধরনের গান শোনান, সন্ধ্যায় কথাবন্ধু জিনিয়া ‘আমাদের গান গল্প’ আয়োজনে পরিবেশন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিল্পী, সুরকার, গীতিকারদের গান। শুক্রবার দুপুরে কথাবন্ধু অধরা থাকেন ‘মনমাঝি’ আয়োজনে নিয়ে, সন্ধ্যায় ‘মিউজিক ক্লাব ৯৮.৮’-এ নতুন অ্যালবামের গান পরিবেশন করেন কথাবন্ধু জয়।
এই আয়োজনগুলোতে প্রতিদিন বলার মতো অনেক ঘটনা ঘটে। শ্রোতাদের মজার মজার মন্তব্য, আলোচনা, গানে ভরপুর হয়ে আছে এই আয়োজনগুলো। সংক্ষিপ্ত পরিসরে বিভিন্ন শ্রোতার কাছে ক্ষমা চেয়ে অন্য প্রসঙ্গে যেতে হচ্ছে।
রেডিও মহানন্দার আকর্ষণের আরেকটি দিক হচ্ছে রেকর্ডেড অনুষ্ঠানগুলো। শ্রোতাদের একটি প্রধান প্রিয় অনুষ্ঠান হচ্ছে ‘ইচ্ছে দুয়ার’। এই অনুষ্ঠানে শ্রোতাদের চিঠির প্রতিক্রিয়া দেন রেডিও মহানন্দার প্রধান নির্বাহী হাসিব হোসেন, স্টেশন ম্যানেজার আলেয়া ফেরদৌস এবং অন্য সব শীর্ষ কর্মকর্তা। ‘ক্যাফে মহানন্দা’তে আমরা নবাবগঞ্জ-রাজশাহীর শিল্পীদের গান শুনতে পাই। সম্ভবত রেডিও মহানন্দার ‘হাঁরঘে গ্রাম’ এবং ‘বাহা সান্দীস’ ছাড়া আমরা শ্রোতারা জেলার বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ধারণ করা প্রান্তিক মানুষদের সম্পর্কে অজ্ঞই থেকে যেতাম। শিশুদের জন্য ‘চাঁদের হাসি’, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘স্বপ্নের ঠিকানা’ ইসলামিক বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘আলোর সন্ধানে’ শ্রোতারা পায় নানান দিকনির্দেশনা। ‘প্রযুক্তি ডট কম’, ‘গামছা মাথল’, ‘কৃষি ও জীবন’, ‘আমাদের ক্যাম্পাস’, খোলা চিরকুট হচ্ছে রেডিও মহানন্দার জনপ্রিয় অনুষ্ঠান। সাধারণ এবং অসাধারণ সবাই রেডিও মহানন্দাতে সমাদৃত। সাধারণ মানুষদের জীবন এবং তাদের সংগ্রামের কথা প্রচারিত হয় ‘খোলা চিরকুটে’ আর অসাধারণ স্মরণীয় বরণীয় মনীষী এবং ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে শ্রোতাদের পরিচয় ঘটে ‘মনীষীদের কথা’ এবং ‘ফিরে দেখা’ আয়োজনে।
এবার আসি রেডিও মহানন্দার আরেক গুরুত্বপূর্ণ দিকে। সিনেমার অভিনেতা-অভিনেত্রী যেমন থাকে, তেমন থাকে স্ক্রিপ্ট রচয়িতা, পরিচালক। রেডিও মহানন্দারও আছেন পরিচালকম-লী। সিনেমার পরিচালক-প্রযোজকদের যেমন পর্দায় দেখা যায় না, রেডিও মহানন্দার পরিচালকম-লীদের কণ্ঠ অধিকাংশ সময় রেডিওতে শোনা যায় না।
স্টেশনের প্রতি দিনের দায়িত্বে থাকেন রেজাউল করিম। যারা জানার তারা জানেন যে, মানুষকে কাজ বুঝিয়ে দেয়া এবং আদায় করা অত্যন্ত জটিল, অপ্রিয় এবং কঠিন দায়িত্ব। কিন্তু কোনো সমস্যা ছাড়াই রেডিও মহানন্দাতে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রেজাউল করিমের অমায়িক ব্যবহারে বিমুগ্ধ থেকে সবাই নিজের নিজের অর্পিত দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করে আসছেন।
স্টেশন ম্যানেজার আলেয়া ফেরদৌস একজন কবি। আর কবিরা হলেন সত্যদ্রষ্টা। কবিরা সেই সব দিক আমাদের সামনে তুলে ধরেন, যেসব দরকারি সত্য সম্পর্কে আমরা উদাসীন থাকতে ভালোবাসি। স্টেশন ম্যানেজার আলেয়া ফেরদৌস ইদানীংকালে অধিকাংশ সময় আড়ালে থেকে রেডিও মহানন্দার অনুষ্ঠানমালা দিয়ে রচনা করে চলেছেন শ্রোতাদের প্রিয় অন্য ধরনের ‘কবিতা’। রেডিও মহানন্দার নন্দিত সব সেগমেন্ট তো তার রচিত একেকটি কবিতা।
রেডিও মহানন্দার সব ধরনের দায়-দায়িত্ব বহন করে চলেছেন রেডিও মহানন্দার প্রধান কর্ণধার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিব হোসেন। তাঁর বিচক্ষণ এবং সাহসী উদ্যোগের কারণেই রেডিও মহানন্দার অনুষ্ঠানমালা এতটা বৈচিত্র্যময় এবং শ্রোতা নন্দন।
রেডিও মহানন্দার অর্জন বিশাল। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি না যে, রেডিও মহানন্দা সাফল্যের শীর্ষ শৃঙ্গে বিজয়ের পতাকা উড়িয়ে দিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি না যে, রেডিও মহানন্দার আর কোনো বিজয় অভিযানের চ্যালেঞ্জ নেবার দরকার নাই। আমি মনে করি রেডিও মহানন্দার সামগ্রিক পরিপূর্ণতার জন্য এখনো অনেক কিছুই করার অপেক্ষায় আছে। নিচে রেডিও মহানন্দার কাছে এ রকম আমার ৩টি প্রত্যাশা সংক্ষেপে উল্লেখ করলাম।
এক. লোকগীতির আয়োজন নিক্কনের কোনো একক কথাবন্ধু নাই। একেক দিন একেক কথাবন্ধু নিক্কন আয়োজন সঞ্চালনে থাকেন। ফলে অতিপরিচিত কিছু গান বারবার পরিবেশিত হয়। বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, উড়িষ্যা, ত্রিপুরা, আরাকান বিশাল এলাকাজুড়ে বাংলা লোকগান ছড়িয়ে আছে। এই বিশাল এলাকা বাদ দিয়ে যদি শুধু বাংলাদেশের জেলাভিত্তিক লোকগীতির একেকটি ধরন ধরি তা হলেও তালিকাটা এত বিশাল হবে যে নবাবগঞ্জের গম্ভীরা, আলকাপ, মেয়েলী গীত বছরে একবারের বেশি পরিবেশন করা সম্ভব হবে না। এক মঙ্গলবারের কথাবন্ধুর জানার কথা নয় যে, আগের সপ্তাহগুলোতে কী কী গান পরিবেশিত হয়েছে। ফলে বহুল শ্রুত জনপ্রিয় কয়েকটি লোকগীতি বারবার পরিবেশিত হচ্ছে। একই গান বারবার পরিবেশন রোধের জন্য দরকার একজন কথাবন্ধুকে সঞ্চালনের দায়িত্বে রাখা।
লোকগীতি ভাবপ্রধান। নিক্কন আয়োজনে তাই দরকার গান নিয়ে আলোচনার। লালন, বাউল, শ্যামাসংগীত, কীর্তন, সুফি, হামদ-নাথ, ভজন, সূফি গান ভাবপ্রধান। সমস্যা হচ্ছে আলোচনা ছাড়া একদিকে একজন মুসলমান শ্যামাসংগীতের ভাব বুঝতে অক্ষম, অন্যদিকে হামদ-নাথের কথা একজন হিন্দুর যথেষ্ট দুর্বোধ্য মনে হতেই পারে। রেডিও মহানন্দা বলে যে, রেডিও মহানন্দা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে গড়ে তুলতে চায় সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ব। ভালো কথা। আশা করি, এটা বাতকা বাত টক শোতে বলার জন্য বলা শুধু ভালো কথা নয়, বাস্তব কাজের দিকনির্দেশনাও বটে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ব গঠনের জন্য দরকার একজন কথাবন্ধুকে সঞ্চালকের দায়িত্ব দেয়া, যাতে ভাব বিষয়ে শ্রোতাদের সাথে মতবিনিময়ের ধারাবাহিকতা রক্ষিত থাকে। এই মতবিনিময়ের ধারাবাহিকতা আবার বিভিন্ন ধর্ম-মতের শ্রোতাদের জানা-বোঝার মাধ্যমে গড়ে তুলবে তাদের মধ্যে মৈত্রী, বন্ধুত্ব এবং ভ্রাতৃত্ব।
আমরা শ্রোতারা নিজেরা কোনো দায়িত্ব না নিয়ে শুধু ‘পরামর্শ’ দিচ্ছি না। একই সাথে দিচ্ছি সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও। পরিবেশিত গানের তালিকা, আগামীতে প্রচারের জন্য নানান ধরনের লোকগীতির সংগ্রহ, ভাব বিশ্লেষণ ইত্যাদি সহযোগিতা আমরা শ্রোতারা রেডিও মহানন্দার ফেসবুক পাতার মাধ্যমে দিয়ে আসছি এবং ভবিষ্যতেও দিব।
দুই. নদী পলি বহন করে। নদীবাহিত পলি গড়ে তুলে নানান দ্বীপ, স্থলভাগ। বাংলাদেশটাই গড়ে উঠেছে পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র নদবাহিত পলিতে। রেডিও মহানন্দা শুনতে শুনতে আমার মনে হয়েছে রেডিও মহানন্দাও বহন করছে আব্রাহাম লিঙ্কনের গেটিসবার্গ অ্যাড্রেস, ৭ মার্চের ভাষণের মতো অনেক মৌলিক আলোচনা-বক্তৃতা যা নানান ভবিষ্যৎ গবেষণাকর্মে সহায়ক হতে পারে। তাই রেডিও মহানন্দার এইসব মৌলিক আলোচনা-বক্তৃতা গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে থাকা গান-ছড়া-বচন সর্বসাধারণের জন্য সহজলভ্য এবং উন্মুক্ত থাকা দরকার। এ জন্য দরকার উইকিপিডিয়ার মতো একটি ‘মহানন্দাপিডিয়া’।
তিন. রেডিও মহানন্দাতে নানান গানের আয়োজন থাকলেও যন্ত্রসংগীত-উচ্চাঙ্গ সংগীতের কোনো অনুষ্ঠান এখনো নাই।
আশা করব, অদূর ভবিষ্যতে রেডিও মহানন্দাতে নিক্কনের একজন কথাবন্ধু, মহানন্দা-পিডিয়া এবং উচ্চাঙ্গ সংগীতের আয়োজন সংযুক্ত হবে।
আমার এই প্রত্যাশায় বলতে যেয়ে নিজের মনেই একটি বাধা অনুভব করছি। কয়েক বছর আগে এই বাধাটি অনুভব করতাম না। কারণ তখন আমার জানা ছিল না যে, কত অল্প লোকবল নিয়ে রেডিও মহানন্দা কী অপরিমেয় অসাধ্য সাধন করে চলেছে। রেডিও মহানন্দার অনুষ্ঠান প্রকৗশলীদের জ্ঞান, দক্ষতা, আন্তরিকতা জানা এবং বোঝার পর কেউ বুক টানটান করে “পরামর্শ” দিবে না। আমিও কোনো পরামর্শ দিচ্ছি না। পরামর্শ নয়; আমি আমার কিছু আশার কথা বলেছি, শ্রোতা হিসেবে দাবি এবং অধিকার নিয়ে। রেডিও মহানন্দার প্রিয় ব্যক্তিদের কাছে আশা এবং দাবি করব না তো কার কাছে করব?!
আমার আংশিক এবং সংক্ষিপ্ত লেখাতে যাদের কাজ উল্লেখিত হলো না তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আর গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি তাঁদের যাঁরা এক সময়ে তাঁদের শ্রম-মেধা দিয়ে রেডিও মহানন্দাকে গড়ে তুলেছেন। তাঁরা সশরীরে এখন না থাকলেও রেডিও মহানন্দার অস্তিত্বের সাথেই তাঁরা সজীব আছেন, থাকবেন।
সব শেষে রেডিও মহানন্দার আরো আরো অনেক উন্নতি এবং সমৃদ্ধি কামনা করছি।

আলি আশরাফ : শিক্ষক