দক্ষিণ আফ্রিকায় পরীক্ষা ওয়ালশেরওদক্ষিণ আফ্রিকায় পরীক্ষা ওয়ালশেরও

59

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কাল থেকে শুরু হচ্ছে মুশফিকদের অগ্নিপরীক্ষা। শুধু খেলোয়াড় কেন, পরীক্ষাটা এবার কোর্টনি ওয়ালশেরও। গত সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্যারিবীয় কিংবদন্তির বড় সাফল্য কী, সেটি বলা কঠিনই। ওয়ালশের খেরোখাতাটা যদি খোলা হয়, সেখানে তাঁর ছাত্রদের ব্যর্থতার চিত্রই বেশি।গত তিন বছরে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশের বোলিং সাফল্য এসেছে পেসারদের হাত ধরে। ওয়ালশ বোলিং কোচ হওয়ার পরও সেটির ব্যতিক্রম হয়নি। গত সেপ্টেম্বর থেকে যে ২০টি ওয়ানডে খেলেছে, তাতে বাংলাদেশের বোলাররা প্রতিপক্ষের উইকেট নিতে পেরেছেন ১২৩টি। এর মধ্যে ৮০টিই পেসারদের। বাকি ৪৩টি নিয়েছেন স্পিনাররা। ৬৫ শতাংশ উইকেট এনে দিয়েছেন পেসাররা। বোলারদের শীর্ষ তিনজনই পেসার। ১৯ ওয়ানডেতে ২৮ উইকেট নিয়ে সবার ওপরে মাশরাফি বিন মুর্তজা। ইকোনমিতে যদিও স্পিনাররা (৫.২৩) কিছুটা এগিয়ে পেসারদের (৫.৪২) চেয়ে। তবে একটি জায়গায় মিল উভয়েরÑ৫ উইকেট পাননি কেউই।টি-টোয়েন্টিতেও একই দৃশ্য। গত এক বছরে খেলা ৫ টি-টোয়েন্টিতে যে ২৬ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের বোলারার, এর ১৮টিই পেসারদের। ৬৯ শতাংশ উইকেট এনে দিয়েছেন মাশরাফি-মোস্তাফিজরা। তবে যতই সীমিত ওভারের ক্রিকেটে স্পিনারদের তুলনায় পেসাররা বেশি উইকেট পান; টেস্টে যেভাবে স্পিনাররা ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় এনে দিয়েছেন, ওয়ানডেতে পেসাররা সেটি পেরেছেন কোথায়! গত অক্টোবরে মিরপুরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাশরাফির ২৯ রানে ৪ উইকেট। আর গত মে মাসে ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মোস্তাফিজের ২৩ রানে ৪ উইকেটÑএই দুটি ছাড়া ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো পেসারদের পারফরম্যান্স কোথায়?সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তবুও কিছু সাফল্য আছে পেসারদের। টেস্টে একেবারে বিপরীত ছবি। ওয়ালশ আসার পর যে ৯ টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ, সাতটিই উপমহাদেশে। স্বাভাবিকভাবেই এখানে স্পিনারদের দাপট। বাংলাদেশের বোলাররা যে ১৩৭টি উইকেট পেয়েছেন, এর মধ্যে ১০৪টিই স্পিনারদের। বাকি ৩৩টি পেসারদের। ৭৫ শতাংশ উইকেট এনে দিয়েছেন মিরাজ-সাকিবরা। স্পিনারদের গড় যেখানে ৩২.৩৪, পেসারদের সেটি ৫৪.৬৩। স্পিনারদের ইকোনমি ৩.২১, পেসারদের ৩.৮৬। স্পিনাররা ইনিংসে ৫ উইকেট পেয়েছেন ছয়বার, ১০ উইকেট দুবার। পেসাররা সেখানে একবারও পাননি ৫ উইকেট।ওয়ালশ বাংলাদেশের বোলিং কোচ হওয়ার পর টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার মেহেদী হাসান মিরাজ। ৪১ উইকেট নিয়ে সাকিব আল হাসান দুইয়ে আর ১৮ উইকেট নিয়ে তাইজুল ইসলাম তিনে। প্রথম তিনটি নাম পেরিয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে একজন পেসারের নামÑ১৩ উইকেট নিয়ে মোস্তাফিজ চারে।উপমহাদেশে পেসারদের সাফল্য দেখানোর সুযোগও ছিল কম। বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ডের পেস-সহায়ক কন্ডিশনে খুব একটা খারাপ করেননি বাংলাদেশের পেসাররা। কিউইদের বিপক্ষে ২ টেস্টে ৬ উইকেট নিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন কামরুল ইসলাম রাব্বী। তবে কিউইদের বিপক্ষে ‘আরও ভালো হতে পারত’Ñএমন একটা আফসোস থেকেই গেছে।এবার দক্ষিণ আফ্রিকার গতিময় ও বাউন্সি উইকেটে সাফল্য পেতে পেসারদের দিকে তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। ওয়ালশের ক্লাসে কতটা শিখেছেন মোস্তাফিজ-রুবেলরা, সেটির দারুণ পরীক্ষা হয়ে যাবে এবার। এই পরীক্ষায় উতরে যেতে পেসারদের প্রতি ক্যারিবীয় কিংবদন্তির টোটকা, ‘ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। এটাই সাফল্যের চাবিকাঠি। যদি ধারাবাহিক ভালো জায়গায় বোলিং করতে পারেন, সাফল্য পাবেন। দল হিসেবে ছেলেরা ভালো ক্রিকেট খেলতে আশাবাদী। সেটি করতে হলে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে হবেÑএটাই আমরা চাচ্ছি।’
চাওয়াটা কি পূরণ করতে পারবেন মোস্তাফিজ-তাসকিনরা?ওয়ালশ আসার পর বাংলাদেশের বোলিংমোট উইকেট পেসারদের স্পিনারদেরটেস্ট (৯) ১৩৭ ৩৩ ১০৪ওয়ানডে (২০) ১২৩ ৮০ ৪৩টি-টোয়েন্টি (৫) ২৬ ১৮ ৮