তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় শি জিনপিং

5

তৃতীয়বারের মতো চীনের প্রেসিডেন্ট হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন শি জিনপিং। একই সঙ্গে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতাসীন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) শীর্ষ নেতা থাকছেন তিনি। এর মাধ্যমে মাও সে-তুংয়ের পর দেশটির সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন শি। গতকাল রবিবার রাজধানী বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব পিপলসে সিসিপির সম্মেলন (কংগ্রেস) শেষে, আগামী পাঁচ বছরের জন্য চীনকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য শিকে নির্বাচিত করা হয়। এরপর গতকাল রোববার সিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির ২০তম অধিবেশনে সাত সদস্যের পলিটবুরো স্ট্যান্ডিং (কার্যনির্বাহী) কমিটি ঘোষণা করেন শি, যেখানে তিনি রয়েছেন সাধারণ সম্পাদকের ভূমিকায়।

চীনের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কমিটি হলো পলিটবুরো স্ট্যান্ডিং কমিটি। তাই প্রত্যাশিতভাবেই এ কমিটিতে নিজের সবচেয়ে কাছের ও অনুগতদের রেখেছেন শি। পার্টির কার্যনির্বাহী কমিটির অন্য ছয় নেতা হলেন- লি কিয়াং, শাও লেজি, ওয়াং হানিং, কাই কি, ডিং শুয়েশিয়াং এবং লি শি। তাদের মধ্যে দেশটির প্রিমিয়ার বা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে সিপিসি’র নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাননি সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং ও চাইনিজ পিপলস পলিটিক্যাল কনসালটেটিভ কনফারেন্সের প্রধান ওয়াং ইয়াংকে। সম্মেলনের আগে ওয়াংকে পরবর্তী সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী ভাবা হয়েছিল। এ কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন আরও দুজন। তারা হলেন ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের চেয়ারম্যান লি ঝানশু (৭২) ও চাইনিজ পিপলস পলিটিক্যাল কনসালটেটিভ কনফারেন্সের ভাইস-প্রিমিয়ার হান জেং (৬৮)।

কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে আরও বাদ পড়েছেন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ইয়াং জেচি ও ভাইস প্রিমিয়ার লিউ হে। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই (৬৯) নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সম্ভবত তিনি ইয়াং জেইচির স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন পলিটব্যুরোতে। এদিকে, ৭২ বছর বয়সেও কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান ঝাং ইউক্সিয়াও কেন্দ্রীয় কমিটিতে রয়ে গেছেন। কিন্তু জিনজিয়াং দলের সাবেক প্রধান চেন গুয়ানগু (৬৬) কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধারণাতীত এ রদবদলের মাধ্যমে শি তার অনুসারী নন, এমন চার প্রবীন নেতাকে অবসরে পাঠিয়ে নিজের পছন্দের নেতাদের সুযোগ করে দিয়েছেন। এর আগে ২০১৮ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কোনো ব্যক্তি কেবল দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন, সংবিধান থেকে এমন নিয়ম বিলুপ্ত করেন শি জিনপিং। এ সংশোধীনই তাকে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।