তৃণমূলের গণমাধ্যম কমিউনিটি বেতার চাই আরও সহযোগিতা

111

gourbangla logo

বাংলাদেশে জনগোষ্ঠিভিত্তিক বেতারের প্রাথমিক যাত্রা শুরু নীতিমালা প্রনয়ন ও আবেদন প্রক্রিয়াকরণের মধ্য দিয়ে ২০০৮ এ। তারও ১০/১২ বাছর আগে থেকে এ বিষয়ে এ্যাডভোকেসি-লবিং এর কাজ শুরু হয়েছিল উন্নয়ন সংগঠনসমূহের হাত ধরে। ধিরে ধিরে ২০১১ সালের মাঝা মাঝি সময়ে এসে এই জনগোষ্ঠিভিত্তিক বেতার অর্থাৎ কমিউনিটি রেডিও এ দেশে সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু করে। অথচ আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে এর যাত্রা শুরু হয় এখন থেকে প্রায় ৭০ বছর আগে। গণযোগাযোগের ক্ষেত্রে এই মাধ্যমটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় উপযোগী তৃণমূলের গণমাধ্যম। উন্নয়নের ক্ষেত্রে যোগাযোগের এ মাধ্যমটি বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেও দক্ষিণ এশিয়াতে ১৯৯৭ সালে প্রথম নেপাল, এরপর ২০০৪ সালে ভারত, তারপর বাংলাদেশে ২০১১ সালে কমিউনিটি বেতারের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে দেশে ১৬ টি কমিউনিটি রেডিও অনএয়ার হচ্ছে, যা ১৩ জেলার ৬৭ টি উপজেলায় প্রায় ৫১,৩৯,০০০ শ্রোতার মাঝে তথ্য ও বিনোদন পৌঁছে দিচ্ছে। এ কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে যেমন গঠিত হয়েছে সরকারী তত্ত্বাবধানে উপদেষ্টা কমিটি, তেমনি তৃণমূল গণমাধ্যগুলো গঠন করেছে ব্যবস্থাপনা কমিটি ও শ্রোতাদের নিয়ে শ্রোতা ফোরাম বা ক্লাব, যার সংখ্যা সারাদেশে ২১১৫টি।

জনগোষ্ঠিভিত্তিক বেতারগুলো অল্পসময়ের মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন/ক্লাইমেট চেঞ্জ, দূর্যোগ ঝুকি হ্রাস, স্বজাতীয়/দেশীয় জ্ঞান, মানব পাচার প্রতিরোধ, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, যুবা-শিশু-কিশোর-নারী বিষয়ক, মানবাধিকার, পণ্যের বাজার মূল্য, বেসিক ইংরেজি শিক্ষা, স্থানীয় সংবাদ ও তথ্য, মুক্তিযুদ্ধ, বিশেষ দিবস উদযাপন, স্থানীয় উন্নয়ন, আরটিআই, জ্ঞানভিত্তিক তথ্য, জীব-বৈচিত্র, স্থানীয় অনাগ্রসর জাতিগোষ্ঠি বিষয়ক, স্থানীয় সাংস্কৃতিক ঐতিয্য সহ নানান বিষয়ে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। এছাড়াও গান ও বিনোদন বিষয়ক অনুষ্ঠানতো আছেই। এর ফলে প্রত্যন্ত্য গ্রাম অঞ্চলেও তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত হচ্ছে, উন্নয়ন ধারা হচ্ছে গতিময়। শুরু থেকেই নতুন এবং ভঙ্গুর পথ পাড়িদিয়ে এগিয়ে চলেছে সম্মুখ পানে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ সহ উত্তরাঞ্চলে এখন পর্যন্ত ৫টি কমিউনিটি বেতার স্থাপিত হয়েছে। বলা যায় মহানন্দা নদির বুক চিরে যেমন চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ সভ্যতা গড়ে তুলেছে, একইভাবে অত্র এলাকায় রেডিও মহানন্দাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে মনন। বেতারগুলো ইতিমধ্যে পেয়েছে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার। এইগুলো যেন অবারিত দুয়ার, যে যখন পেরেছেন এসেছেন নতুনের আবাহন নিয়ে; কথা বলেছেন সম্ভাবনার। কমিউনিটি বেতারগুলো প্রতিদিন মোট ১২০ ঘন্টা সম্প্রচারিত হচ্ছে, এগুলোতে কাজ করছে প্রায় ১০০০ এর মতো যুবা নারী-পরুষ। বলে রাখা দরকার নেপাল ও ভারতে কমিউনিটি বেতার চালুর এক বছরের মাথায় বেশ কিছু বেতার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু শুরু থেকে এই সাড়ে চার বছরে বাংলাদেশে একটি বেতারও বন্ধ হয়নি। অথচ এই কমিউনিটি রেডিওগুলোর অধিকাংশের অর্থনৈতিক ভিত নড়বড়ে, দক্ষ জনবলের অভাব এবং স্বেচ্ছাসেবক নির্ভর। পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠান গড়তে এ অন্তরায়গুলো অবশ্যই দূর করতে হবে। এজন্য তাঁদের গড়ে তুলতে হবে টেকসই অর্থনৈতিক ভিত।
কমিউনিটি রেডিওর বিভিন্ন ফোরমের আলোচনাতে এজন্য দাবিও উঠেছে, এর নীতিমালাকে করতে হবে যুগ-উপোযোগী। ভারতের ন্যায় কমিউনিটি রেডিওগুলোকে দিতে হবে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ। নীতিমালার আলোকে গঠন করতে হবে ট্রাস্ট ফান্ড। অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনীতিবিদ, সহযোগী বা দাতা সংস্থা, শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতি কর্মী, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বসহ আপামর জনসাধারনকে আরও সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। তবেই সহ¯্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০১৫ এর পর নতুনভাবে গৃহীত ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নাধিন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বা ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাসহ মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বাংলাদেশের কমিউনিটি বেতারগুলো।