তিন যুবলীগকর্মীর লাশ উদ্ধার

46

gourbangla logoপ্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে একের পর এক খুনের মতো ভয়াবহ ঘটনা। অথচ খুনসহ যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপনের পরিপন্থী। আমরা মনে করি, এ রকম ভয়ানক বাস্তবতায় কঠোর পদক্ষেপ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প থাকতে পারে না। মনে রাখতে হবে, এর অন্যথা হলে সর্বস্তরেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা অত্যন্ত আতঙ্কজনক। বলার অপেক্ষা রাখে না, বর্তমান সময়ের দিকে দৃষ্টি দিলে যে চিত্র পরিলক্ষিত হয়, তা উদ্বেগের। পত্রপত্রিকার পাতা উল্টালেই দেখা যাচ্ছে একের পর এক হত্যাকান্ডের মতো ঘটনা ঘটেই চলেছে। বন্ধ হচ্ছে না ধর্ষণ, রাহাজানি, ছিনতাইসহ নানারকম অপ্রীতিকর ঘটনাও। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একদিকে যেমন জনজীবনের স্বাভাবিক গতিধারার জন্য হয়ে উঠেছে বিপজ্জনকথ অন্যদিকে বিঘিœত হচ্ছে মানুষের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি।
সম্প্রতি জাতীয় দৈনিক প্রকাশিত খবরে জানা গেল, এবারে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে নাটোরের তিন যুবলীগকর্মীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে থানার পুলিশ। তথ্যমতে, সোমবার সকালে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কের পাশে উপজেলার কলাপাড়া নামক স্থানে পুলিশ বক্সের পূর্ব দিকে একটি আমবাগান থেকে লাশ তিনটি উদ্ধার করা হয়। আর র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের পরিচয়ে ওই তিন যুবককে শনিবার সন্ধ্যায় নাটোরের তকেয়া বাজার এলাকা থেকে তুলে নেয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন নিহত এক যুবকের মা। রোববার রাতে নাটোর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন নিহত রেদোয়ান সাব্বিরের মা। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, র‌্যাব পরিচয় দিয়ে কয়েকজন তার ছেলেসহ তিনজনকে তকেয়া বাজার থেকে তুলে নিয়ে গেছে। তবে র‌্যাব নাটোর ক্যাম্পের এএসপি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, র‌্যাব কাউকে তুলে নিয়ে আসেনি। এ ছাড়া এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গুলিবিদ্ধ নিহত তিন যুবককে নিজেদের কর্মী বলে দাবি করেছে নাটোর যুবলীগ। তাদের অভিযোগ, সংগঠনের তিন নেতাকর্মীকে দুষ্কৃতকারীরা নাটোর থেকে অপহরণ করে হত্যা করার পর দিনাজপুরে ফেলে রেখে গেছে।
আমরা মনে করি, যত দ্রুত সম্ভব এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এইভাবে গুলিবিদ্ধ তিনটি লাশ উদ্ধারের ঘটনা সহজ করে দেখার মতো বিষয় নয়। নিহত একজনের মায়ের অভিযোগ যেমন খতিয়ে দেখতে হবে, তেমনিভাবে এটাও আমলে নিতে হবে যে, এর আগে নানা সময়ে দুর্বৃত্তরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়েও অপরাধ করেছে এমন অভিযোগ আছে। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের মতো একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে এভাবে লাশ উদ্ধার হবে, অপহৃত হয়ে মানুষ নিহত হবে, এটা হতে পারে না, বিচারবহির্ভূত হত্যকা- যেমন কাম্য নয়, তেমনিভাবে যদি দুর্বৃত্তরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে মানুষ খুন করার মতো দুঃসাহস দেখায়, তবে তাও রোধ করতে হবে শক্ত হাতে। আমরা বলতে চাই, যখন একের পর এক অপহৃত হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে, কোথাও কোথাও চাঁদা চেয়ে খুনের ঘটনা ঘটছে, এমনকি বাদ যাচ্ছে না নিরপরাধ শিশুও, তখন এর ভয়াবহতা বিবেচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য। এটা মনে রাখতে হবে, যদি অপরাধ না কমে, যদি খুনের ঘটনা ঘটতে থাকে, তবে মানুষের বসবাসই ক্রমাগত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে থাকবে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সর্বত্র। এই অভিযোগও অনেক পুরনো যে, একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটতে থাকলেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হয় না। বরং আসামিরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সর্বোপরি আমরা সরকারকে বলতে চাই, দেশে যেভাবে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রত্যেকটি হত্যাকান্ডের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করুন। আমরা মনে করি, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করলে অপরাধ কমবে না। তায় সার্বিকভাবে এমন পদক্ষেপই কাম্য যেন হত্যাকান্ডের মতো ভয়ানক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ হয়।