তিন বেলা নুডলস খেতে দেয়ায় ডিভোর্স দিলেন স্বামী!

16

ব্যস্তময় জীবনে এখন অনেক তরুণ দম্পতিই সংসার সামলানোর মতো দায়িত্ব নিতে হিমশিম খেয়ে যান। সংসারে যে বড় সমস্যাটি হয়, তা হলো রান্নাঘরের চাপ সামলানো। আর এ চাপ সামলাতে না পারায় বিয়ের মাত্র এক দিনের মাথায় বিচ্ছেদ হয়েছে ভারতের এক দম্পতির। প্রিন্সিপাল জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক এমএল রঘুনাথ এ বিষয়ে বলেন, বর্তমানে দম্পতিরা তুচ্ছ বিষয়ে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য মামলা করেন। স্বামীর দাবি, তার স্ত্রী নুডলস বানানো ছাড়া আর কোনো খাবারই তৈরি করতে জানেন না। ইনস্ট্যান্ট নুডলস তিন বেলা খেয়ে থাকা সম্ভব নয় বলে ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। দাম্পত্যবিরোধ নিষ্পত্তি করা একটু কঠিন বলে মনে করেন ভারতীয় এ বিচারক। অনেক দম্পতিই সন্তানের কথা চিন্তা করে ডিভোর্সের পথ থেকে সরে দাঁড়ান। তবে বিচারক রঘুনাথ জানান, প্রায় ৯০০টি ডিভোর্সের কেস থেকে মাত্র ৩০টি দম্পতির ক্ষেত্রে ডিভোর্স না করানোর সফলতা পেয়েছেন তারা। সারা বিশ্বেই ডিভোর্সের সংখ্যা বাড়ছে। তবে দ্রুত বিবাহবিচ্ছেদের পথে হাঁটা উচিত নয় বলে মনে করছেন তিনি। এর জন্য অন্তত এক বছর সময় নেওয়ার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। দীর্ঘসময় পেশাগত জীবনের অভিজ্ঞতায় বিচারক এমএল রঘুনাথ মনে করেন, বিবাহবিচ্ছেদ গ্রামের তুলনায় শহরে বেশি হতে দেখা যায়। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, গ্রামের নারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং আর্থিক অবস্থার নিম্নমুখিতা একটি বড় কারণ। নারীর পরাধীনতাও অনেক সময় তাকে বাধ্য করে ডিভোর্সের পথে না হাঁটতে। তবে সামান্য নুডলসের জন্য, খাবারে লবণ না দেওয়ার জন্য, বিয়েতে ভুল রঙের কাপড় পরার জন্য, অনেক সময় স্ত্রীকে বাইরে ঘুরতে না নেয়ার জন্য বিবাহবিচ্ছেদ-সমাজের জন্য একই সঙ্গে বেদনাদায়ক এবং হতাশাজনক। এসব কারণে তিনি বিবাহবিচ্ছেদ আর বিবাহকে এককথায় সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বলেন, প্রথমটি ইচ্ছে ছাড়াই সাপে কামড়ানোর মতো। আর পরেরটি ইচ্ছাকৃতভাবে সাপের কামড় খাওয়ার প্রবণতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
সূত্র: দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস