ঢাকা থেকে ৬৩ জেলায় বিআরটিসি বাস চালুর দাবি

8

গণপরিবহনে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের অন্য ৬৩ জেলার সরাসরি বিআরটিসি বাস সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়েছে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সংগঠনে র সভাপতি হাজী মোহাম্মদ শহীদ মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে এ দাবি জানান।
স্বপ্নের পদ্মা সেতুর সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় সবার আগে এ সেবা চালুর ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে নাগরিক সংগঠনটি। ঈদযাত্রায় সড়কে তীব্র যানবাহন সংকটের কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় এবার সড়কপথে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মাত্রাতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে যানবাহন সংকট দেখা দেয়। অন্যদিকে অনলাইনে ও সরাসরি আগাম ট্রেনের টিকিট না পাওয়া এবং ট্রেনের সীমাহীন শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে সড়কপথে উত্তরবঙ্গগামী মানুষের চাপ অনেক বেড়ে যায়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলগামী যানবাহনের তীব্র সংকটের সুযোগে একশ্রেণির বাসমালিক যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার দেড় থেকে সর্বোচ্চ আড়াইগুণ পর্যন্ত বেশি ভাড়া আদায় করে বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়।
নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি বলছে, প্রত্যেক ঈদের আগে ঘরমুখো ও ঈদ শেষে ফিরতি যাত্রায় লাখ লাখ মানুষকে জিম্মি করে গলাকাটা ভাড়া আদায় করা হলেও এ নৈরাজ্য বন্ধে বিআরটিএ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যত ব্যর্থ। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের টাকায় একশ্রেণির প্রভাবশালী পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের পকেট ভারী হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাড়তি ভাড়া আদায় ও জনদুর্ভোগ শুধু ঈদ মৌসুমেই নয়; সারা বছরই। বিভিন্ন সড়কে বিশেষ করে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার সড়কে যানবাহন সংকট থাকে এবং সেবার মানের চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করা হয়। জাতীয় কমিটি মনে করে, একশ্রেণির অসাধু পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধসহ গণপরিবহন খাতে বিরাজমান বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে ঢাকা থেকে অন্য ৬৩ জেলার সঙ্গে সরাসরি বিআরটিসির বাস সার্ভিস চালু অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। জনস্বার্থে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় কমিটি।