ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া আর নেই

5

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলে রাব্বী মিয়া ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। সেখানে তিনি দীর্ঘ ৯ মাস ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টার দিকে ফজলে রাব্বী মিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এসময় হাসপাতালে তার বড় মেয়ে ফাহিমা রাব্বী রিটা এবং একান্ত সচিব তৌফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
ডেপুটি স্পিকারের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তার মৃত্যুতে আরো অনেকেই গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও তার মৃত্যুতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনাসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যগণের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করে জেলা প্রশাসন।
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও গাইবান্ধা-৫ আসনের এই সংসদ সদস্য দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি তিন মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার পরিবার দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে।
তিনি গাইবান্ধা-৫ আসন থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের হুইপ, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং দ্বিতীয় মেয়াদে জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন।
ফজলে রাব্বী মিয়া ১৯৪৬ সালের ১৫ এপ্রিল গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার গটিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ফয়জার রহমান এবং মাতার নাম হামিদুন নেছা। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ফজলে রাব্বী মিয়া মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন। তিনি ১১নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন। এছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বৈশ্বিক জনমত গড়ে তুলতেও তিনি কাজ করেছেন।