ডেঙ্গু প্রতিরোধ : পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাসহ মশক নিধন অভিযান চলবে

17

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ১ জুলাই থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন ২৪৫ জন রোগী। তাদের মধ্যে সিংহভাগই ঢাকায় আক্রান্ত হন। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জেও এর প্রদুর্ভাব ঘটেছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এমন অবস্থায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আর মশক নিধন অভিযান অব্যাহত রাখাও জরুরি হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে বলে সুশীল সমাজ মনে করছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুলাই থেকে গতকাল বুধবার দুপুর পর্যন্ত ২৪৫ জন ডেঙ্গু রোগী এ হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের মধ্যে ৪০ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতলে ভর্তি রয়েছেন ২২ জন। তাদের মধ্যে বুধবার ভর্তি হয়েছেন ৪ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৮৩ জন।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী বলেন- এডিস মশার সূতিকাগার ছিল ঢাকা কিন্তু বর্তমানে সারাদেশে তা ছড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন- এডিস মশা যতদিন থাকবে ডেঙ্গুও ততদিন পর্যন্ত থাকবে। কারণ, ডেঙ্গু রোগীকে কামড়ানোর পর কোনো সুস্থ মানুষকে যদি কামড়ায় তাহলে তাকেও ডেঙ্গু রোগ হবে। কাজেই এডিস মশা নিধান না হওয়া পর্যন্ত পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ও মশক নিধন অভিযান অব্যাহত রাখতেই হবে।
অফিস আদালত, বাড়ির আঙিনাসহ চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ও ডেঙ্গু সচেতনতা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার গুরুত্ব এখনো রয়েছে। পৌরবাসী মনে করেন, শুধু ডেঙ্গু মশাই নয়, ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগ জীবাণু প্রতিরোধে পৌরসভাগুলোকে আরো উদ্যোগী হতে হবে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক বলেন- ডেঙ্গু পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। অন্যদিনের তুলনায় আজ (গতকাল) বুধবার অনেক কম রোগী ভর্তি হয়েছে। তবে তাই বলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন অভিযান বন্ধ হবে না। জেলা শহরের ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।