ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পোশাক উৎপাদনে খরচ বাড়বে : সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ

7

সম্প্রতি জ্বালানি তেল ডিজেলের দাম ২৩ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার। সেই অনুপাতে পণ্য পরিবহন, জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ও আনুষঙ্গিক কাঁচামাল এবং সেবার মূল্য বেড়েছে। এসব বিবেচনায় পোশাক উৎপাদন খরচ ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। শনিবার রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান তৈরি পোশাক মালিক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে দেশের তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদন খরচ ৪-৫ শতাংশ বাড়বে। করোনার কারণে প্রায় দুই বছরে তেমন কোনো কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি। এ অবস্থায় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে ব্যবসা সহজীকরণ এবং নীতি স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতে তেলের দাম বৃদ্ধি নয় বরং কমানোর বিষয়ে সরকারকে বিবেচনায় নেয়া দরকার। তিনি বলেন, বৈশ্বিক মহামারিকালে বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থা থমকে গিয়েছিল। পোশাক শিল্পে আমাদের অর্ডার কমেছিল। বর্তমানে ক্রেতারা আসছেন, প্রচুর অর্ডার দিচ্ছেন তারা। তবে কাজের অর্ডার বাড়লেও পণ্যের দাম তেমন বাড়েনি। পোশাকের মূল্য বাড়াতে কাজ করছি। পাশাপাশি আমাদের সদস্যদের বলছি তারা যেন কোনোভাবেই উৎপাদনের চেয়ে কম দামে পণ্যের অর্ডার না নেন। আমরা আগের চেয়ে কিছুটা বাড়তি মূল্য পাচ্ছি, তবে তা উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির তুলনায় খুবই সামান্য।
ইন্টারন্যাশনাল অ্যাপারেল ফেডারেশনের (আইএএফ) ৩৭তম সম্মেলন ঢাকায় হবে জানিয়ে ফারুক হাসান বলেন, একক খাতের আন্তর্জাতিক সম্মেলন এটাই প্রথম হবে দেশে। ওই সম্মেলনে ‘মেড ইন ব্যাংলাদেশ উইক’ ব্র্যান্ডিং তুলে ধরে সপ্তাহব্যাপী একটি আয়োজনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। আগামী বছরের নভেম্বরে এ সম্মেলন হতে পারে বলে জানান তিনি।
বিজিএমইএ জানিয়েছে, পোশাক শিল্পের প্রসার, প্রচার এবং উন্নয়নে বিজিএমইএর প্রাণান্ত প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ সর্বদা অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ সফর করেন। সফরকালে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত সম্মেলনের (কপ২৬) ২৬তম অধিবেশনে যোগদান করেন। অধিবেশনে যোগদান নিয়ে তিনি বলেন, যদিওবা এই সফরের কেন্দ্রবিন্দুতে কপ২৬ ও জলবায়ু পরিবর্তন। তবে আমরা সফরকালীন ফ্যাশন সাপ্লাই চেইনের সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বেশ কিছু বিষয়ে সভা করেছি। শিল্পের স্বার্থ রক্ষায় এবং দেশ ও অর্থনীতি, বিশেষ করে বিদেশী বিনিয়োগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনে ম্যানুফ্যাকচারারদের দায়িত্বের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইন পার্টনারদের দায়িত্বশীলতা নিয়েও কথা বলেছি। আলোচনায় স্টেকহোল্ডারদেরকে আমাদের শিল্পে বিগত দশকে অর্জিত অগ্রগতি ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
বিজিএমইএ সভাপতি আরো বলেন, কপ২৬ এর আনুষ্ঠানিক ভেন্যুতে বাংলাদেশের একটি প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হয়, যেখানে আমরা বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বেশকিছু প্রমোশনাল ম্যাটেরিয়াল উপস্থাপন করি। বিশেষ করে ৪৭টি সদস্য কারখানার এসডিজি রিপোর্টিংসহ গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভের (জিআরআই) ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা সাসটেইনিবিলিটি রিপোর্ট ২০২০ উপস্থাপন করি। এছাড়া বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের টেকসই অগ্রগতির ওপর নির্মিত একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। বিপুল সংখ্যক ব্র্যান্ড এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়াসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দর্শক বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করেন। তারা টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএর পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।