‘ডিজিটাল সেন্টার’ বিষয়ক অবহিতকরণ কর্মশালা : অংশ নিলেন পৌর মেয়র ও ইউপি চেয়ারম্যানগণ

13

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৌরসভার মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানগণের অংশগ্রহণে ‘ডিজিটাল সেন্টার’ বিষয়ক অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অুনষ্ঠিত হয়।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রদের ডিজিটাল সেন্টার বিষয়ে ওরিয়েন্টেশন ও সেন্টারসমূহকে আরো যুগোপযোগী, অধিক ব্যবসাবান্ধব, টেকসই ও শক্তিশালীকরণের লক্ষে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এটুআই প্রোগ্রাম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এ কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় জেলার ৪টি পৌরসভার মেয়র ও ৪৫টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সরকারের যুগ্ম সচিব ও এটুআই প্রোগ্রামের পরিচালক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর। তিনি সরকারের সেবাসমূহ জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও। উদ্যোক্তাদের চুক্তি সম্পাদন বিষয়ে কথা বলেন জেলা প্রশাসনের স্থানের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকিউল ইসলাম এবং কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন হেড অব ডিজিটাল সেন্টার ও ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস স্পেশালিস্ট এটুআই মো. তহুরুল হাসান টুটুল।
এছাড়াও নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল সেন্টার সম্পর্কে পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন শিবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র সৈয়দ মনিরুল ইসলাম ও ঝিলিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম লুৎফুল হাসান।
উল্লেখ্য, উদ্ভাবনী বাংলাদেশ বিনির্মাণে জনগণের দোরগোড়ায় সহজে, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা, ফাইন্যান্সিয়াল সেবা, প্রশিক্ষণ, ই-কমার্স সেবাসহ সকল প্রকার সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষে ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ৪ হাজার ৫০১টি ইউনিয়নে একযোগে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র উদ্বোধন করেন, যা বর্তমানে ‘ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার’ নামে সর্বত্র পরিচিত।
বর্তমানে দেশব্যাপী ৮ হাজার ৭০৪টি ডিজিটাল সেন্টারে কর্মরত ১৭ হাজার ২০০ জন উদ্যোক্তা ব্যাংকিং এবং ই-কমার্স সেবাসহ ৩৫০টির অধিক সরকারি-বেসরকারি সেবা প্রদান করছে। ২০২০ সাল পর্যন্ত ডিজিটাল সেন্টার হতে মোট ৫৫.৪ কোটি সেবা প্রদান করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে নাগরিকদের ১.৬৮ বিলিয়ন সমপরিমাণ কর্মঘণ্টা ও ৭৬৭.৭৫ বিলিয়ন টাকা ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে। নাগরিকদের জীবনমান পরিবর্তনে ইতিবাচক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ডিজিটাল সেন্টার ২০১৪ সালে ই-গভর্নমেন্ট ক্যাটাগরিতে জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের ওয়ার্ল্ড সামিট অন ইনফরমেশন সোসাইটি অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছে।