ডাবল সেঞ্চুরিতে উইলিয়ামসনের নতুন রেকর্ড

4

আবরার আহমেদের বল ইনসাইড আউট শটে লং-অফ দিয়ে বাউন্ডারি মেরে ১৯৯ রানে পৌঁছে গেলেন কেন উইলিয়ামসন। পরের বল স্কয়ার লেগে পাঠিয়ে সিঙ্গেল নিয়ে ব্যাট-হেলমেট উঁচিয়ে ধরলেন তিনি। ডাগআউটে সতীর্থরা দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে তাকে জানালেন অভিনন্দন। দারুণ এক কীর্তি যে গড়ে ফেলেছেন সময়ের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন উইলিয়ামসন। নিউ জিল্যান্ডের হয়ে টেস্টে সবচেয়ে বেশি ডাবল সেঞ্চুরি এখন তার। সাদা পোশাকে চারটি দ্বিশতক করে এতদিন কিউইদের হয়ে যৌথভাবে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সঙ্গে শীর্ষে ছিলেন উইলিয়ামসন। পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে নেমে এবার উত্তরসূরিকে ছাড়িয়ে রেকর্ডটি নিজের করে নিলেন তিনি। নিউ জিল্যান্ডের হয়ে তিনটি করে ডাবল সেঞ্চুরি আছে স্টিভেন ফ্লেমিং ও রস টেইলরের।

উইলিয়ামসন তার পঞ্চম ডাবল সেঞ্চুরি ছুঁতেই ইনিংস ঘোষণা করে দেন নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক টিম সাউদি। সবার অভিবাদনে মাঠ ছাড়ার সময় উইলিয়ামসনের নামের পাশে জ¦লজ¦ল করছিল ঠিক ২০০ রান। ৩৯৫ বলের চমৎকার ইনিংসটি ১ ছক্কা ও ২১ চারে সাজান উইলিয়ামসন। পাকিস্তানে প্রথমবার টেস্ট খেলতে নেমে তৃতীয় দিনই ক্যারিয়ারের ২৫তম সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ডটি আরও সমৃদ্ধ করেন তিনি। বৃহস্পতিবার এসে পা রাখলেন দ্বিশতকে। ১০৫ রান নিয়ে এ দিনের খেলা শুরু করেন উইলিয়ামসন। দ্রুতই ফিরতে পারতেন তিনি। নুমান আলির বলে এলবিডব্লিউর আবেদনে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। পরে রিভিউ নিয়ে টিকে যান ওই সময় ১১৬ রানে থাকা উইলিয়ামসন।

এরপর আর কোনো সুযোগ দেননি তিনি। নিজের মতো খেলে বাড়াতে থাকেন রান। দেড়শতে পা রাখেন ৩২৮ বলে। চার উইকেট হাতে নিয়ে খেলতে নামা নিউ জিল্যান্ড কিছুক্ষণ পর টানা তিন ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে ফেলে। শঙ্কা জাগে উইলিয়ামসনের ডাবল সেঞ্চুরি হওয়া নিয়ে। শেষ ব্যাটসম্যান এজাজ প্যাটেলকে নিয়ে কাক্সিক্ষত ঠিকানায় পৌঁছান তিনি। টেস্টে পাঁচটি ডাবল সেঞ্চুরি আছে আর কেবল চার জনের। এই সংস্করণে সবচেয়ে বেশি ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড কিংবদন্তি স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের, ১২টি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১টি দ্বিশতক কুমার সাঙ্গাকারার। ১০টি নেই আর কারো। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটিং গ্রেট ব্রায়ান লারা ৯টি নিয়ে আছেন তালিকায় তৃতীয় স্থানে। বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ডাবল সেঞ্চুরি মুশফিকুর রহিমের, তিনটি। একটি করে দ্বিশতক করতে পেরেছেন আর কেবল সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল।