টলটল্যা দেখতে পাব খাল ডোভায় পা পড়বে না

129

img_0278চাঁপাইনবাবগঞ্জে নামোশংকরবাটি নতুন হাটের নওশাদ আলী, বয়স ৭৯ বছর। ছেলে মেয়ে নাতি নাতনী নিয়ে সুখের সংসার। কিন্তু নওশাদ আলীর এত সুখের মাঝেও একটু কষ্ট হচ্ছে তিনি বাঁ চোখে কিছুই দেখতে পাননা। অন্য চোখটিতেও আবছা দেখেন। ‘‘নাত জামাইরা যখন বাড়িতে আসে তখন, আমাকে সালাম দেয়, তখন আমি বলি কে ? চিনতে পারি না, কেউ তখন বলে দেয় তোমার লাতিনের জামাই।”
চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের ৪র্থ তালায় অপারেশনের অপেক্ষায় থাকা নওশাদ আলীর সাথে কথা হলে তিনি তার কষ্টের কথা গুলো এভাবেই বলছিলেন। তিনি বলেন মাসখানেক আগে মাইকিং করেছিল দুই দিন তখন এখানে এসে চোখ পরিক্ষা করে গেছি, পরে চোখ অপারেশনের জন্য চারদিন আগে মোবাইল করেছিল, তাই আজকে এসেছি অপারেশনের জন্য। ‘আল্লাহর রহমতে আমার চোখটা যদি ভালো হয়ে যায় তাহলে রাস্তা ঘাট টলটলা দেখতে পাব, নিজেই চলতে পারব, খাল ডোবাতে পা পড়বে না, সুবিধা হবে।’ ‘সবাই কে চিনতে পারব, নাতী নাতনীদের সাথে হাসি মজাক করতে পারব। নাতি জামাইকে দুটা মজার কথা আগেই কহিতে পারব’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের ৪র্থ তালায় শুধু নওশাদ আলীই নয়,চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আরো অন্তত ৬০ জন এসেছেন চোখের অপারেশনের জন্য। img_0284
একটু এগিয়ে গিয়ে কথা হয়, আসমা বেগম নামে আরো একজনের সাথে। বয়স কত জানতে চাইলে তিনি বলতে পারলেন না। বলেন কে জানি বাবা। আসমা বেগমের দুই চোখেই ছানি পড়েছে, এখন কারো সহযোগিতা ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না। তিনি জানান‘‘ ডাক্তাররা যদি চোখটা ভালো করে দেয় তাহলে, বাড়ি ঘরে একলাই চলাফেরাটা করতে পারব। পাশেই থাকা মিনি বেগম জানান, তিনি এসেছেন কালুপুর থেকে, তিনি বলেন, তিনি কাছের জিনিস দেখতে পান কিন্তু দূরের জিনিস দেখতে পাননা। তিনি বলেন চান (চাঁদ) তো একটা কিন্তু তার কাছে মনে হয় চানটা তিনি ছয়টা দেখেন। গত একবছর থেকে এই রকম সমস্যা হলেও ডাক্তার দেখানো হয়নি, অপারেশন করতে ৪-৫ হাজার টাকা লাগবে, গরিবের সংসারে এতো টাকা একবারে জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু কোন টাকা ছাড়ায় চোখটা অপারেশন করার সুযোগ পাওয়ায় ভালোই লাগছে। হামারঘে মত গরিবের ঘে ল্যাগা এটা খুবই ভালো হয়্যাছে।
মানুষের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়ার চিন্তা থেকে ঢাকাস্থ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমিতির উদ্যোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৭৫০ জন দরিদ্র ও দুস্থ রোগীর বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন করা হচ্ছে।

# ছবি তুলেছেন নাইম ইসলাম জয়