জেসি এমপির অবদান ইলামিত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

19

একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন মহিলা-৩৮, চাঁপাইনবাবগঞ্জ’র সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর অনেকগুলো উন্নয়নমূলক কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ফেরদৌসী ইসলাম জেসি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, ভাষা সৈনিক ও সাবেক সংসদ সদস্য, গভর্নর ডা.আ.আ.ম. মেসবাহুল হক বাচ্ছু ডাক্তারের জ্যেষ্ঠ কন্যা জেসি গত ৫ বছরে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে উঠান বৈঠক করে সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- প্রচার করেছেন। পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষে কাজ করেছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি তিনি গত ৫ বছরের উল্লেখযোগ্য কিছু কাজ করেছেন। কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে জেলার নাচোল উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত কার্তিকপুর বাসুগ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন। যার ভবন নির্মাণ কাজ চলছে। তিনতলা বিশিষ্ট এই ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ হতে সময় লাগবে আগামী জুন পর্যন্ত এবং হস্তান্তর করা হবে জুলাইয়ে। এই গ্রামের আশপাশে রয়েছে আরো ৫টি গ্রাম- ধরইল দিঘীপাড়া, ধরইল শ্যামপুর, গোপীনাথাপুর, জমিনকমিন ও কার্তিকপুর। এ গ্রামগুলোও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত। গ্রামগুলোর অবস্থান প্রায় ৭ কিলোমিটারের মধ্যে। ৬টি গ্রামে সবমিলিয়ে দুই শতাধিক পরিবারের বসবাস। গ্রামগুলোতে যোগাযোগের জন্য ছিলনা কোনো পাকা সড়ক ও কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়। জেসির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আজ রাস্তাসহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পেয়েছে এলাকাবাসী।
এছাড়াও তিনি আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে অসহায় দুস্থ মহিলাদের সাবলম্বী করার জন্য ২০০ সেলাই মেশিন, অসহায় দুস্থ প্রতবিন্ধী মাঝে ৫০টি হুই চেয়ার, আওয়ামী লীগের বিদেতি প্রাণ, ত্যাগী কর্মী ও অসুস্থ কর্মী সমর্থকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল হতে ৪০০ জন পুরুষ ও মহিলাকে বিভিন্ন পর্যায়ে ২ কোটি টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে নিবেদিত ত্যাগী একজন দুস্থ অসহায় কর্মীকে ২ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি বাড়ি করে দিয়েছেন। করোনার সময় ৮ লক্ষ টাকার ত্রাণ অসহায় দুস্থ কর্মহীন পরিবারের মাঝে বিতরণ করেছেন। ফেরদৌসী ইসলাম জেসি তাঁর ঐচ্ছিক তহবিলের বরাদ্দকৃত অর্থ অসহায় দুস্থ পুরুষ ও মহিলাদের মাঝে বিতরণ করেছেন।
এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ফাজিল মাদ্রাসা, সোনাইচন্ডি হাইস্কুল, সোনাইচন্ডি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, পলশা হাইস্কুল, আলিনগর বালিকা বিদ্যালয় ইত্যাদিতে ভবন প্রাপ্তিতে সহযোগিতা, পদ্মা নদীর ভাঙ্গন রোধে হাকিমপুর হতে চরবাগডাঙ্গা পর্যন্ত সাত কিলোমিটার প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ৫৬০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনে তদারকি করেছেন। বাঁধ নির্মাণ এখন শেষ পর্যায়ে।
অন্যদিকে ভোলাহাট উপজলোর আম ফাউন্ডেশনের আমের হাট হতে শতশত ট্রাক আম নিয়ে চলাচলের যে অসুবিধা ছিল তা নিরসনে ৪ কিলোমিটার আরসিসি রাস্তা তৈরিতে প্রায় ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রাপ্তিতে সহযোগিতা এবং কাজ সম্পাদন করতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁরই অনুপ্রেরণায় সদর উপজলোর বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের দুটি রাস্তা উন্নয়নসহ সংস্কার করা প্রায় ১ কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে আসা এবং কাজ সম্পাদন করা হয়।
এছাড়াও শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবশেন সেন্টার স্থাপনের ব্যাপারে ইতোমধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীর সাথে আলোচনা হয়েছে বলে জেসি জানিয়েছেন।
ফেরদৌসী ইসলাম একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত হবার পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য, দলিত ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্পর্কিত সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপ (এপিপিজি)’র সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি বেসরকারি পরিদর্শক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগার।
সহ সভাপতি, ব্যবস্থাপনা কমিটি, ২৫০ শয্যাবিশেষ্ট জেলা হাসপাতাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা কমিটির উপদেষ্টা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা “জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতি” (নাটাব)’র উপদেষ্টা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ডায়াবেটিক সমিতির আজীবন সদস্য, জেলা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য মনোনীত হন।
ফেরদৌসী ইসলাম জেসি তাঁর বাবার আদর্শ ধরে রাখতে রাজনীনিতে আসেন। পারিবারিক ও ছাত্রজীবন থেকে তিনি আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িয়ে রয়েছেন।
জেসি ১৯৮১ সালে এসএসসি ও ১৯৮৩ সালে এইচএসসি পাস করে ১৯৮৪-১৯৮৫ সালে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজে বিএসসি পড়াশোনা করাকালীন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করাসহ বিভিন্ন সময়ে ক্রীড়া সম্পাদক ও সমাজসেবা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ফেরদৌসি ইসলাম বলেন, আমার রাজনীতির হাতেখড়ি আমার বাবা, তিনি আমাকে রাজনীতি শিখিয়েছেন। আজ বাবা নেই কিন্তু বাবার কথাগুলো মনে আছে। বুকে ধারণ করে আছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার আদর্শ। বঙ্গবন্ধু কন্যা মানবতার মা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে চলেছে। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়েছি এখন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশে^র দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।