জেলা প্রশাসক যখন শিক্ষক

424

IMG_1801 (Custom)

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষ্ণগোবিন্দপুর ডিগ্রী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এক ভিন্ন অনুভুতি নিয়ে বৃহস্পতিবার বাংলা ক্লাস করেছেন। কারণ, এদিন তাদের বাংলা বিষয়টি পড়িয়েছেন সয়ং চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবীর।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টার দিকে জেলার অন্যতম বিদ্যাপিঠ কৃষ্ণগোবিন্দপুর ডিগ্রী কলেজ পরিদর্শনে যান চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবীর। এ সময় তিনি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা বিষয়ের একটি ক্লাসও নেন। চকপেন্সিল ও ডাস্টার নিয়ে ব্ল্যাক বোর্ডে লিখে বাংলার বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের বোঝান তিনি। জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পেরে এদিন কৃষ্ণগোবিন্দ্রপুর ডিগ্রী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের উচ্ছাস ছিল চোখে মুখে। শিক্ষার্থীদের অনেকেই বলেন আমরা ভেবেছিলাম আর অন্য দিনের মত শুধু জেলা প্রশাসক আমাদের ক্লাস পরিদর্শন করেই চলে যাবেন। কিন্তু বাংলা বিষয়ে একটি পুরো ক্লাস নিয়ে তিনি আমাদের একরকম সারপ্রাইজ দিয়েই দিলেন।
শিক্ষার্থীদের কয়েকজন বলেন, তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থাপনা আমাদের অনেক ভালো লেগেছে। আমাদের কখনোই মনে হয়নি আমাদের যিনি পড়াচ্ছেন তিনি আমাদের একজন অথিতি, জেলার কর্তা ব্যক্তি মাননীয় জেলা প্রশাসক, তিনি কিছু সময়ের জন্য হলেও আমাদের শিক্ষকই ছিলেন। ছাত্ররা বলেন পড়ালেখা শেষ করে আমরা যখন বিভিন্ন চাকুরীর জন্য মৌখিক পরীক্ষা দিব সেই সময় কি ধরনের প্রশ্ন হয়, সে বিষয়েও আমাদের শিক্ষক জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর কবীর বুঝিয়েছেন। যা আমাদের পরবর্তীতে অনেক কাজে লাগবে।
কৃষ্ণগোবিন্দ্রপুর ডিগ্রী কলেজের ক্লাস নেয়া শেষে জেলা প্রশাসক কলেজের পাশেই কৃষ্ণগোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এরপর যান কৃষ্ণগোবিন্দপুর-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তখন দুপুর হয়ে গেছে, হয়েছে শিক্ষার্থীদের ছুটি। জেলা প্রশাসককে দেখে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা ছুটে আসে। এ সময় তিনি তাদের লেখাপড়ার খোঁজ খবর নেন।
জানতে চান আমাদের বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস কবে, প্রধান মন্ত্রীর নাম কি, এসময় ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসকের প্রশ্নের উত্তর দেয়। পরে জেলা প্রশাসক ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সাথে ছবি তোলেন।
এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন এখানে কোন দুরত্ব ছাড়ায় এতোগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেখে আমি সত্যি অবাক হয়েছি। এখানকার ছেলে মেয়েদের শিক্ষার জন্য দুরে কোথাও যেতে হয়না। কিন্তু আমরা যখন বিদ্যালয়ে গিয়েছি তখন আমাদের বাসে চড়ে যেতে হয়েছে।