জেলা পুলিশের নারী ও শিশু সহায়তা ডেস্ক : ২৬ মাসে স্বামীর ঘরে ফিরেছেন ৩৭৫ নারী

12

চাঁপইনবাবগঞ্জে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঘটে যাওয়া ছোটখাটো ঝগড়া-বিবাদ নিরসনে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে জেলা পুলিশের নারী ও শিশু সহায়তা ডেস্ক। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে স্থাপিত এই ডেস্কে কোনো দম্পতি বা কোনো নারী কিংবা পুরুষ অভিযোগ করলে উভয়পক্ষকে হাজির করে তাদের বিষয়গুলো শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি করা হয়। এখন পর্যন্ত এমন ঘটনায় ৩৭৫ জন নারী তাদের স্বামীর ঘরে ফিরে গেছেন বলে নারী ও শিশু সহায়তা ডেস্ক সূত্রে জানা গেছে।
জেলা পুলিশের নারী ও শিশু সহায়তা ডেস্কের ইনচার্জ এসআই ইসমাত আরা জানান, ২০১৭ সালের ১ জুলাই চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম বিপিএম-পিপিএমের উদ্যোগে স্থাপন করা হয় নারী ও শিশু সহয়তা ডেস্ক। এই ডেস্কে কোনো দম্পতি অভিযোগ দায়ের করলে তার সমাধানে প্রথমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং উভয়ের বাবা-মা বা অভিভাবকদের ডেস্কে হাজির করে তাদের বক্তব্য শুনে দম্পতিদের উপস্থিতিতে সমাধান করা হয়। অনেক দম্পতি তাদের ভুল বুঝতে পেরে সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসছেন এবং ফিরে পাচ্ছেন তাদের ভালোবাসর ঘর। নিরাপদে করছেন সংসার। তিনি বলেন- স্বামী ও স্ত্রীর এ ধরনের সমস্যা সমাধান করে দিয়ে পুলিশ বসে থাকে না। পরবর্তীতে কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা তা জানার জন্য মাঝে মাঝেই ফোন করে খোঁজখবর নেয়া হয়।
এসআই ইসমাত আরা আরো জানান, ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে চালু হওয়া নারী ও শিশু সহায়তা ডেস্কে চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৭৮৫টি অভিযোগ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২৩টি মামলা হয় এবং ৩৭৫ জন স্বামীগৃহে ফিরে যায়। এছাড়া ৩৮৭টি অভিযোগের শান্তিপূর্ণভাবে আপোস-মীমাংসা করা হয়। এর মধ্যে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৩৫২টি অভিযোগ পাওয়া যায়। এর মধ্যে মামলা হয়েছে ৫টি, স্বামীগৃহে ফিরেছে ১৫৫ জন এবং শান্তিপূর্ণভাবে আপোস-মীমাংসা হয়েছে ১৯২টি অভিযোগের।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টি.এম. মোজাহিদুল ইসলাম বলেন- অনেক সময় দেখা যায়, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সামান্য কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে পড়ে। কখনোবা তাদের মধ্যে তালাকও হয়ে যায়। ফলে ভালোবাসার সংসার করার যে ইচ্ছা নিয়ে বিয়ে হয় তা সামান্য কারণে ভেঙে যায়। গত ৮ মাসে ৩৫২টি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। তার মধ্যে ১৫৫ জনই স্বামীর ঘরে ফিরে গেছে এবং ১৯২টি অভিযোগ শান্তিপূর্ণভাবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আপোস-মীমাংসা হয়েছে। তবে যেসব অভিযোগে নির্যাতনের ঘটনা থাকে সেগুলো তদন্তসাপেক্ষে মামলা হয়। এমন ঘটনায় এ সময়ের মধ্যে ৫টি মামলা হয়েছে।
জেলা পুলিশের শীর্ষ এ কর্মকর্তা বলেন- মামলাযোগ্য অভিযোগগুলো আপোস-মীমাংসা করা হয় না, শুধুমাত্র ছোটখাটো বিষয়গুলো নিয়ে জেলা পুলিশের নারী ও শিশু সহায়তা ডেস্ক কাজ করে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় নারী ও শিশু সহায়তা ডেস্কের কার্যক্রম দিন দিন প্রশংসিত হচ্ছে। প্রতি বছর অভিযোগের সংখ্যাও বাড়ছে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঘটে যাওয়া সামান্য বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষ শরণাপন্ন হচ্ছে এই ডেস্কের। সঠিকভাবে এ দায়িত্ব পালনের জন্য এসআই ইসমাত আরা এর আগে দুইবার পুরস্কৃতও হয়েছেন। জেলা পুলিশের এ নারী কর্মকর্তা নারী ও শিশু সহায়তা ডেস্কের কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ বাংলাদেশ ওম্যান পুলিশ অ্যাওয়ার্ড ২০১৮ এর ক্যাটাগরি-(৫) কমিউনিটি সার্ভিসের পদক অর্জন করেন এবং নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশু অধিকার সুরক্ষা (ভিকটিম সাপোর্ট) এবং সমাজসেবামূলক কাজে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রফেসর অনামিকা হক লিলি ও ড. এম. এনামুল হক অ্যাওয়ার্ড ফান্ড-২০১৮ পদক লাভ করেন।