জেলা পর্যায়ে দুই দিনের ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা শুরু হচ্ছে

20

উদ্যোমী সৃষ্টিশীল ও দেশপ্রেমিক নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে শুরু হচ্ছে দুই দিনের ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আগামীকাল বুধবার ও  বৃহস্পতিবার কালেক্টরেট ইংলিশ স্কুল প্রাঙ্গণে এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘উদ্ভাবনী জয়োল্লাসে স্মার্ট বাংলাদেশ’। মেলায় ৪টি প্যাভিলিয়ন থাকবে। চারটি প্যাভিলিয়নের অধীনে সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে মোট ৭০টি স্টল থাকবে। প্যাভিলিয়ন-১ এ উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও স্টার্টআপ, প্যাভিলিয়ন-২ এ ডিজিটাল সেবা, প্যাভিলিয়ন-৩ এ হাতের মুঠোয় সেবা এবং প্যাভিলিয়ন-৪ এ শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান প্রদর্শিত হবে। এই মেলার মাধ্যমে সরকারি দপ্তরগুলোয় বিদ্যমান ডিজিটাল সেবা এবং বর্তমান সরকারের আমলে সাধিত প্রযুক্তিগত অগ্রগতিসমূহ প্রদর্শন করা হবে।
মেলা উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে মেলার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরা হয়। মেলা বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খাঁন।
তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন- একবিংশ শতাব্দীতে তথ্যপ্রযুক্তির ওপর ভর করে সারা বিশ্বে বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় নাগরিক জীবনে এসেছে সমৃদ্ধি। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে গৌরবান্বিত স্থান করে নেয় বাংলাদেশ। বিপুল জনসমষ্টি ও সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক জনগণের জন্য আধুনিক জীবনমান নিশ্চিত করে চলেছে।
জেলা প্রশাসক বলেন- বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবং তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সুপরিকল্পনায় ২০০৮ সালে যাত্রা শুরু করা ডিজিটাল বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশে পরিণত হওয়ার লক্ষে এগিয়ে চলেছে। বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলা এবং নাগরিক জীবনকে সহজতর ও অধিক সমৃদ্ধ করতে হলে নানামুখী উদ্ভাবনী কার্যক্রম গ্রহণ করা প্রয়োজন। উদ্ভাবনী এই কর্মযজ্ঞ এককেন্দ্রিকতার পরিবর্তে বহুমাত্রিক করার আবশ্যকতা থাকায় সরকারি সকল দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সংস্থার সমন্বিত অংশগ্রহণের বিকল্প নেই।
গালিভ খাঁন বলেনÑ বাংলাদেশকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ সকল স্তরে উদ্ভাবনী চিন্তার প্রসার ও নানাবিধ উদ্ভাবনে উৎসাহিত করার জন্য উপজেলা পর্যায়ে ১ থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে এক দিনের এবং জেলাপর্যায়ে ২ দিনব্যাপী ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা করার নির্দেশনা রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এই জেলার ৫ উপজেলায় ইতোমধ্যে মেলা করা হয়েছে এবং জেলা পর্যায়ে ১৬ ও ১৭ নভেম্বর মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন- শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ কা-ারিদের মধ্যে উদ্ভাবনের প্রতি স্পৃহা ও জ্ঞানগত সমৃদ্ধি বিস্তার লাভ করবে। প্রযুক্তির নানা উদ্ভাবনের মাধ্যমে নাগরিক জীবনকে আরো সহজ, সমৃদ্ধ এবং স্মার্ট করে গড়ে তুলতে সারাদেশের উদ্ভাবকদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা দেশের প্রয়োজনে কাজে লাগাতে এই মেলা আগামীর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেনÑ এই মেলার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি এবং ২১০০ সালের ডেটা প্ল্যান সফল করার জন্য উদ্যোমী সৃষ্টিশীল ও দেশপ্রেমিক নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলা। সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সংবাদ মাধ্যমকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে মেলাটি সার্থক হবে এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা কর হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আনিছুর রহমান, জেলা প্রশাসনের আইসিটি শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার মো. রুহুল আমিন শরিফ, প্রোগ্রামার নজমুল হক।