জেলায় গমের ফলন ভালো হওয়ার আশা কৃষকদের : চাষ হচ্ছে ২৬১২৫ হেক্টর জমিতে

11

চাঁপাইনবাবগঞ্জে এখন পুরোদমে চলছে গম কাটা ও মাড়াই। এখন পর্যন্ত ৪০ ভাগ কাটা-মাড়াই শেষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ফলন হচ্ছে ৩ দশমিক ৯ মেট্রিক টন (প্রতি বিঘায় ১৩ মণের উপরে)। জেলায় এবার ২৬ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের গম আবাদ হয়েছে। ৩৩ জাতের গমের ফলন ভালো হচ্ছে বলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন। তিনি জানান, এবার উৎপাদন ভালো হচ্ছে।
জেলার গোমস্তাপুর উপজেলায় এবার গত বছরের তুলনায় বেশি জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে গোমস্তাপুর উপজেলায় ৫ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের গম আবাদ করছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি গম উৎপাদন হবে বলে কৃষক ও উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, রোগ বালাইয়ের তেমন আক্রমণ না থাকায় কৃষকরা গমের ভালো ফলন পাচ্ছেন। খরচ কম হওয়ার কৃষকরা গম চাষাবাদে আগ্রহী হয়েছেন। চলতি মৌসুমে উপজেলার দুই হাজার জনকে গম প্রণোদনার বীজ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রদর্শনীর জন্য সার, বীজ ও বালাইনাশক (বিষ) বিনামূল্যে দেয়া হয়েছে।
গোমস্তাপুর উপজেলায় বারি-৩২ ১৭৬০ হেক্টর, বারি-৩০ ১৫৪০ হেক্টর, বারি-৩৩ ৭৪০ হেক্টর, বারি-২৮ ৭০০ হেক্টর, বারি-২৬ ৪০০ হেক্টর, বারি-২৫ ২৫০ হেক্টর, প্রদীপ ১০০ হেক্টর ও শতাব্দী ৫০ হেক্টর জমিতে কৃষক গম চাষাবাদ করেছেন কৃষকরা। এবার বিঘাপ্রতি গড়ে ১৬ থেকে ২০ মণ ফলন হচ্ছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। কৃষকরা বাজারে ১ হাজার থেকে ১৩০০ টাকা মণ দরে গম বিক্রি করছেন।
কৃষক মনিরুল ইসলাম জানান, এ বছর ১৭ বিঘা জমিতে গম চাষাবাদ করেছেন। উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময় তাকে পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানান, বিঘাপ্রতি ১৫ মণ করে গম উৎপাদন হচ্ছে।
কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ৫ বিঘা জমিতে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি ধারণা করছেন, গমের ফলন ভালো হবে এবং বাজারে গম বিক্রি করে বেশি দাম পাওয়া যাবে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সীমা কর্মকার বলেন, এই উপজেলায় ৫ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমির বিপরীতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৬০ মেট্রিক টন। নতুন জাতের গম বারি-৩০, ৩২ ও ৩৩ জাতের গম আবাদের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় আশা করছি গমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।
গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ সরকার বলেন, শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূল থাকে, তাহলে কৃষকরা গম উৎপাদন ভালো করবে। খরচ কম থাকায় কৃষকরা গম চাষাবাদ আগ্রহী হচ্ছেন। তবে গমের বাজার ভালো থাকলে কৃষকরা লাভবান হবেন। তিনি জানান, উপজেলা কৃষি বিভাগ বিভিন্ন সময় কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করছেন। ২ হাজার কৃষককে কৃষি প্রণোদনার আওতায় বীজ, সার ও বালাইনাশক বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এতে করে উপজেলায় গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি ধারণা করছেন।