জেলায় আমনের বাম্পার ফলন নতুন ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষক

198

4চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার আমন মৌসুমে বাম্পার ফলন হওয়ায় লোকসানে আবর্তে থাকা কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি। আর ভালো ফলনের পিছনে কারন খুজতে গিয়ে দেখা যায় এবার আমন মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। এয়াড়াও সার ও বীজের কোন রকম সংকটও পড়তে হয়নি কৃষককে।
জেলার ৫টি উপজেলায় প্রায় সব মাঠের ধানই কাটা শেষ হয়েছে। এখন শুধু মাড়াই ও ধান ঘরে তোলার কাজে ব্যাস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, এবছর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য্য করা হয়েছিল প্রায় ৪৯ হাজার ১’শ ৯৩ হেক্টর জমি। তবে এবারের আমন চাষের শুরুতে জেলায় সময়মত পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ৩ হাজার ৫’শ ৫২ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। অর্থাৎ এবছর জেলার  ৫২ হাজার ৭’শ ৪৫ হেক্টর জমিতে কৃষকরা ধানের চাষাবাদ করেছে। কৃষি অফিসের দাবী, ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে এবং ৩ লক্ষ ৯৫ হাজার ৫’শ ৮৭ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হবে। তিনি বলেন, সদর উপজেলায় ৯ হাজার ৮’শ ৫০ হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয় ৭৩ হাজার ৮’শ ৭৫ মেঃ টন, নাচোলে ২২ হাজার ৫’শ হেক্টর জমিতে ১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৭’শ ৫০ মেঃ টন, গোমস্তাপুরে ১৫ হাজার ৭’শ ৯৫ হেক্টর জমিতে ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৪’শ ৬২ মেঃ টন, ভোলাহাটে ৪ হাজার ২’শ ১০ হেক্টর জমিতে ৩১ হাজার ৫’শ ৭৫ মেঃ টন ও শিবগঞ্জে ৪’শ ২৫ হেক্টর জমিতে ৩ হাজার ১’শ ৮৭মেঃ টন।
এদিকে, নেজামপুরের কৃষক আব্দুস সালাম জানান, সময়মত বৃষ্টি, সার ও বীজের অভাব না থাকায় ধানের আবাদ ভালো হয়েছে, তিনি আরো জানান, এ বছর ধানের মূল্য সাড়ে ৭’শটাকা। গতবারের চেয়ে ভালো দাম পাওয়ায় খুশি তিনিসহ সব কৃষকই।
নেজামপুর ইউনিয়নের কৃষক ভঞ্জন জানান, আবহাওয়া অনুকলে থাকায় আমন ধানের উৎপাদন ভাল হয়েছে। তিনি জানান প্রতি বিঘাতে ১৬ থেকে ১৮ মন করে ধান পেয়েছেন তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ড. মোহাঃ শামস-ই তাবারিজ জানান, এবছর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য্য করা হয়েছিল প্রায় ৪৯ হাজার ১’শ ৯৩ হেক্টর জমি। তবে এবারের আমন চাষের শুরুতে গত কয়েক বছরের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গোটা জেলার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ৩ হাজার ৫’শ ৫২ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করেছে। তিনি জানান, জেলার প্রায় ৯০ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে।