জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপে টিকে থাকলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ

7

দুই পেসার আলজারি জোসেফ ও জেসন হোল্ডারের বোলিং দৃঢ়তায় টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপে টিকে রইলো দুইবারের বিশ^ চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ‘বি’ গ্রুপে গতকাল প্রথম রাউন্ডে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩১ রানে হারিয়েছে জিম্বাবুয়েকে। এ ম্যাচ হারলেই বিশ^কাপের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিতে হলো ক্যারিবীয়দের। প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে ম্যাচ সেরা জোসেফের ৪ ও হোল্ডারের ৩ উইকেটে ১২২ রানে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই জয়ে দারুনভাবে জমে উঠেছে ‘বি’ গ্রুপ। এই গ্রুপ থেকে এখন চার দলেরই সুপার টুয়েলভে যাবার সুযোগ আছে। কারণ ২টি করে খেলা শেষে স্কটল্যান্ড-জিম্বাবুয়ে-আয়ারল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্ট সমান ২ করে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি চার দলের জন্য অঘোষিত সেমিফাইনালে রুপ নিয়েছে। যারা জিতবে তারাই সুপার টুয়েলভে খেলবে। হোবার্টে বেলেরিভ ওভালে টস ভাগ্যে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মারমুখী মেজাজে শুরু করে ২০ বলে ২৮ রান তোলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনার কাইল মায়ার্স ও জনসন চালর্স। তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্বোধনী জুটি ভাঙ্গেন ব্লেসিং মুজারাবানি। ১২ বলে ২টি চারে ১৩ রান করে ফিরেন মায়ার্স। মায়ার্সের বিদায়ে উইকেটে আসেন এভিন লুইস। বড় জুটি গড়তে সাবধান ছিলেন তারা। নবম ওভারে মারমুখী হন চালর্স।

রায়ান বার্লের করা ওভারে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৬ রান তুলেন চালর্স। লুইসকে ১৫ রানে থামিয়ে দেন দশম ওভারে জিম্বাবুয়েকে সাফল্য এনে দেন স্পিনার রাজা। ১৩তম ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে বড় ধাক্কা দেন সিন উইলিয়ামস। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক নিকোলাস পুরানকে ৭ রানে বিদায় দেন তিনি। একই ওভারের শেষ বলে রান আউটে থামে সেট ব্যাটার চালর্সের ইনিংস। ৩৬ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪৫ রান করেন চালর্স। এক ওভারে পুরান ও চালর্সকে হারানোর ধাক্কায় চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর ১৪তম ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চাপটা আরও বাড়িয়ে দেন রাজা। ওভারের তৃতীয় বলে শামারাহ ব্রুকসকে শূন্য ও শেষ বলে জেসন হোল্ডারকে ৪ রানে থামিয়ে দেন রাজা। এতে ১৪ ওভার শেষে ২ উইকেটে ৯০ রান থেকে ৬ উইকেটে ১০১ রানে পরিণত হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১১ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে শেষ দিকে লড়াইয়ে ফেরান রোভম্যান পাওয়েল ও আকিল হোসেন। শেষ য ওভারে ২৬সহ ৩৫ বলে ৪৯ রানের জুটি গড়েন তারা।

এরমধ্যে শেষ ওভারে দু’টি ছক্কা মারেন পাওয়েল। পাওয়েল-আকিলের লড়াইয়ে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৩ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১টি চার ও ২টি ছক্কায় ২১ বলে ২৮ রান করেন রোভম্যান। ২টি চারে ১৮ বলে ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন আকিল। ১৯ রানে ৩ উইকেট নেন জিম্বাবুয়ের রাজা। ১৫৪ রানের লক্ষ্যে ঝড়ো গতিতে শুরু করেছিলেন ওপেনার রেগিস চাকাভা। মায়ার্সের করা প্রথম ওভারেই ৩টি চার মারেন তিনি। ২ ওভারে ২৯ রান পায় জিম্বাবুয়ে। তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে ৯ রান করা চাকাভাকে শিকার করেন জোসেফ। ৯ বলে ১৩ রান করেন চাকাভা। আরেক ওপেনার ওয়েসলি মাধভেরে পাওয়ার-প্লে কাজে লাগালেও, অন্যপ্রান্ত দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেন টনি মুনাওয়াঙ্গে ও উইলিয়ামস। টনি ২ ও উইলিয়ামস ১ রান করেন। ৬ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ৫৫ রানে পরিনত হয় জিম্বাবুয়ে।

সপ্তম ওভারে ক্রিজে সেট ব্যাটার মাধভেরেকে শিকার করে ওয়েস্ট ইন্ডিকে লড়াইয়ে রাখেন হোল্ডার। পরের ওভারে জিম্বাবুয়ের প্রধান ভরসা রাজাকে শিকার করে ম্যাচের লাগাম টেনে ধরেন ওডিন স্মিথ। মাধভেরে ১৯ বলে ২৭ ও আগের ম্যাচের হিরো রাজা ৮ বলে ১৪ রান করেন। এমর অবস্থায় ৬৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে লড়াই থেকে ছিটকে পড়ে জিম্বাবুয়ে। জিম্বাবুয়ের লোয়ার-অর্ডারে বার্ল ও লুক জঙ্গে লড়াই করলেও দলের হার এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিলো না। ১০ বল বাকী থাকতে ১২২ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। বার্ল ১৯ বলে ১৭ ও জঙ্গে ২২ বলে ২৯ রান করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জোসেফ ১৬ রানে ৪টি ও হোল্ডার ১২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দলকে দারুন এক জয় উপহার দেন। ম্যাচ সেরা হন জোসেফ। আগামী ২১ অক্টোবর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একই দিন লড়বে জিম্বাবুয়ে-স্কটল্যান্ড। দুই ম্যাচের দুই বিজয়ী দল পরের রাউন্ডে খেলবে।