জিআই পণ্যস্বত্ব নির্ধারণে চরম অসত্যের স্বীকৃতি লাভ

20

জাহাঙ্গীর সেলিম

ঘটনা ১৯৯৪ সালের। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO) Trade Related Aspects on Intellectual Property Rights এক চুক্তির মাধ্যমে ভৌগোলিক GI পণ্য প্রবর্তন করে। দেশের শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেড মার্কস অধিদপ্তরের দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত। কিন্তু জিআই তালিকা অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে BARC-র নির্দেশে BARI কিছু কৃষিপণ্যের তালিকা প্রদান করে। তার আগে BARC সম্ভাব্য কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে সেমিনার সম্পন্ন এবং সম্মিলিত কমিটি গঠন করে। ২০১৩ ও ২০১৫ সালে যথাক্রমে এতদসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু এতগুলো ধাপ পার হয়ে যখন মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা যে তালিকা প্রেরণ করেন তা যেনতেন গোছের। ধরি মাছ না ছুঁই পানি পর্যায়ের। অর্থাৎ কবিগুরুর ভাষায়… যে নদী মরুপথে হারাল ধারা। কেননা কৃষিপণ্য তালিকা প্রণয়নে অদূরদর্শিতা, অদক্ষতা, অনাগ্রহ এবং যোগ্যতার প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। সে ক্ষেত্রে তালিকা প্রণয়নে চরম ভুল-ভ্রান্তি হয়েছে তা কি ইচ্ছাকৃত? আমার মনে হচ্ছে ইচ্ছাকৃত। এ প্রশ্নের সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার গাইডলাইনে বলা হয়েছে- A Geographical Index, GI a sign used on products that have a specific geographical origin and posses qualities or a reputation that are due to that origin. In order to function GI, a sign must identify a product at originating in a given place. অর্থাৎ একটি দেশের নির্দিষ্ট ভূখ-ের বা সেখানকার জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি যদি কোনো একটি পণ্য উৎপাদনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তাহলে সেটিকেই সেই দেশের জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। ফলে উক্ত নিয়ম অনুসারে জিআই পণ্যের বিবেচনায় ভৌগোলিক অবস্থান, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, উৎপাদনের উপকরণ, এর সহজলভ্যতা, গণমানুষের সম্পৃক্ততা, বিপণন ব্যবস্থা ইত্যাদি অনেক কিছু বিচার-বিবেচনার আওতায় পড়ে। ফলে তালিকা বাছাইয়ের প্রস্তুতির পূর্বে বিষয়গুলোর ওপর যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে হয়। এসব প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন না করে রেশম পণ্যকে রাজশাহীর অনুকূলে প্রস্তাব করা হয়েছে এবং রাজশাহী সিল্ক হিসেবে জিআই পণ্য নিবন্ধন প্রদান করা হয়েছে তা বিস্ময়কর। আরো বিস্ময়কর হলো ফজলি আমের জিআই নিবন্ধন রাজশাহীর নামে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই দুটি পণ্যের ক্ষেত্রে অবাস্তব প্রস্তাব করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কেননা ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং ইতিহাসকে অবমাননা করা এ দুটি পণ্যের একমাত্র দাবিদার হতে পারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পরিচিতি সংকট দেশভাগের পর থেকে শুরু হয় এবং সে অবস্থা আংশিক আজও বিদ্যমান। দেশভাগের পূর্বে এ জেলার তৎকালীন পাঁচটি থানা ভোলাহাট, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, নাচোল ও সদর মালদা জেলার সাথে (১৮১৩-১৯৪৭) সম্পৃক্ত ছিল। ১৯৪৭সালে উক্ত পাঁচটি থানা পূর্ববাংলার সঙ্গে যুক্ত হয় এবং রাজশাহী জেলার সাথে সংযুক্ত হবার পর মহকুমায় উন্নীত করা হয়। ১৯৮৪ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোড়াপত্তন হয়। ফলে দেশভাগের পর নবগঠিত মহকুমা পরিচিতি সংকটে পড়ে। এ সুযোগ রাজশাহীর জন্য শাপেবর হয় এবং কপাল পুড়ে নবাবগঞ্জ মহাকুমার। বর্তমান চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঐতিহাসিক গৌড়ের অংশ এবং অবস্থান ছিল প্রাণকেন্দ্রের সন্নিকটে। ফলে গৌড়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, কালচার এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ কৃষিসম্ভারের গৌরবের অংশীদার। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। গৌড়ের অনেক পুরাকীর্তি জেলার বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
আলোচ্য এ জেলা বৈচিত্র্যপূর্ণ কৃষিসম্ভারে পূর্ণ ছিল। কৃষিজ পণ্যের এক বড় অর্থনৈতিক ভিত ছিল পলু চাষ এবং রেশমের বিভিন্ন পরিধেয় বস্ত্রের উৎপাদন। আর রেশম মানেই আভিজাত্যের প্রতীক দেশ-বিদেশ সবখানে। মালদায় রেশম চাষের ইতিহাস খ্রি.পূ. এক থেকে দেড় হাজার বছরেরও বেশি সময় থেকে। এখানকার রেশম বস্ত্র ভারতবর্ষ ছাড়াও ইউরোপের বড় বড় শহরগুলোতে আকর্ষণীয় পরিধেয় হিসেবে সুনাম অর্জন করে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতবর্ষে ১৬৭৬ সালে মালদায় থিতু হয়ে রেশম ব্যবসা ও উৎপাদনের সাথে জড়িত হয় এবং কুঠি স্থাপন করে। তারও আগে ওলন্দাজ ও ফরাসি বণিকরা এ ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল। প-িতবর হান্টারের এক রিপোর্ট ১৮৭৬ থেকে জানা যায়, এক ফরাসি বণিক ভোলাহাটে যন্ত্রের সাহায্যে রেশম কারখানায় গরম বাষ্প দ্বারা সুতা শুকানোর এক যন্ত্র প্রতিস্থাপন করে। সেই যন্ত্রটি এখনো কারখানায় কালের সাক্ষী হিসেবে অযতেœ, অবহেলায় পড়ে রয়েছে। দেশভাগের পূর্ব পর্যন্ত মালদার প্রধানত তিনটি স্থানে সিংহভাগ রেশম বস্ত্র তৈরি হতো। তার মধ্যে শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট (উপজেলাদ্বয়) এবং সাহাপুর (মালদার অংশে)। কিন্তু তাঁতের বিস্তৃতি ছিল এ জেলার অনেক গ্রামে যেমন- হরিনগর, লাহারপুর, বারঘরিয়া, শিবগঞ্জ-ভোলাহাটের আশপাশে হাজার হাজার তাঁতে বংশপরম্পরায় রেশম উৎপাদন প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিল। সংখ্যায় কম হলেও এখনো রেশম বস্ত্রের উৎপাদন অব্যহত রয়েছে। সেই আদিকাল থেকে বিগত মধ্য সত্তর দশক পর্যন্ত জেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামে বয়স্ক মহিলারা পলু চাষ করে সংসারে বাড়তি আয় করতেন। উল্লেখ্য, ১৯০৮ সালের দিকে তুঁতগাছের বাগানের মূল্য ধানী জমি ও আমবাগানের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ছিল। অবশ্য দেশভাগের পর বাজার সংকটের সৃষ্টি হয় এবং অচিরেই সেই বিপর্যয়ের অবসান ঘটে। এ সময় ঢাকা, করাচি, লাহোরে বাজার সম্প্রসারিত হলে পুনরায় হৃত গৌরব ফিরে আসে।
রাজশাহীতে রেশম উৎপাদন বেশি দিনের নয়। ১৯৬২ সালে সরকারি উদ্যোগে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও রেশম কারখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৭৭ সালে একই স্থানে রেশম বোর্ড গঠন করা হয়। কিন্তু উভয়ই কাগুজে প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। উৎপাদিত রেশম বস্ত্র গুণে-মানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সমকক্ষ ছিল না। উৎপাদন ছিল যৎসামান্য। ভোলাহাট-শিবগঞ্জে উৎপাদিত পণ্য, কিন্তু নামকরণ করা হয় রাজশাহী সিল্ক। সাম্প্রতিক কালে এ জেলার রেশম উৎপাদন রাজশাহীর চেয়ে অনেক বেশি।
বৈচিত্র্যপূর্ণ কৃষি উৎপাদনের মধ্যে লাক্ষার উৎপাদন একমাত্র এ জেলায়। দেশভাগের পূর্ব থেকে প্রচলিত-অপ্রচলিত অনেক পণ্য উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। জেলা সদরের নিকটে মহারাজপুর গ্রামে দেশভাগের বহু আগে থেকে তৈরি হতো বিখ্যাত তিলের খাজা এবং আশপাশের অনেক জেলায় ফেরি করে বাজারজাত করা হতো। ইংল্যান্ডের রাজদরবারে উপঢৌকন হিসেবে পাঠানো হয় খাজা। কিন্তু রাজশাহী দাবি করে বসে এটি তাদের পণ্য। অনুরূপভাবে শিবগঞ্জের বিখ্যাত চমচম হয়ে ওঠে রাজশাহীর চমচম। বেশ কিছু পুরনো নতুন লেখক-বুদ্ধিজীবীদের নাম রাজশাহী জেলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নদ-নদীগুলোর দাবিদার হয়ে উঠে রাজশাহী। ফলে রাজশাহীর মহকুমা হিসেবে নবাবগঞ্জের ঐতিহ্য ও সুনাম যে পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিন্তু সে তুলনায় নওগাঁ ও নাটোরের গায়ে কোনো আঁচড় পড়েনি। এসব হলো সাংস্কৃতিক আগ্রাসন।
এবার এ জেলার প্রধান কৃষিপণ্য আমের প্রসঙ্গে কিছু উল্লেখ করে প্রবন্ধটির ইতি টানছি। বর্তমানে দেশের প্রায় সব জেলায় আমের উৎপাদন হলেও আদি উৎস হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা। ভারতবর্ষজুড়ে মালদা আমের খুব সুনাম ছিল। আম উৎপাদনে প্রায় তিন হাজার বছরের এক গৌরবোজ্জল ইতিহাস রয়েছে মালদা জেলার। মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ যুগেও মালদা আমের খুব কদর ছিল। মালদায় যত্রতত্র আমের বাগান থাকলেও দক্ষিণ মালদা আম উৎপাদনে প্রাধান্য ছিল। উল্লেখ্য, শিবগঞ্জ-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট-নাচোল ও সদর উপজেলাগুলোর অবস্থান ছিল দক্ষিণ মালদায়। ফলে উত্তরাধিকারসূত্রে এ জেলা আম উৎপাদনের সাথে জড়িত এবং সে ধারা আজও বিদ্যমান। জেলার গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাত, ল্যাংড়া, ফজলি, আশ্বিনার মতো বিখ্যাত প্রজাতির সাথে ছিল হাজার হাজার প্রজাতির ভিন্ন স্বাদের-বর্ণের ও গন্ধে লোকজনকে মোহিত করে রাখত। বর্তমানে এ প্রজাতির সংখ্যা কমে গেলেও গৌড়মতি এসব থেকে আবিষ্কৃত হয়। হাঁড়িভাঙ্গার মতো প্রজাতিও খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে না। কিন্তু এসব হাজার হাজার প্রজাতির মধ্যে নিঃসন্দেহে ভালো প্রজাতির আম প্রকৃতি থেকে হারিয়ে গেছে। প্রধান কারণ, দেশ কৃষি অর্থনীতি থেকে ভোগবাদী অর্থনীতিতে প্রবেশ করে। ফলে কৃষিপণ্য আম হয়ে উঠে বাণিজ্যিক পণ্য। বাণিজ্যিক পণ্য মানেই বিপুল টাকার বিনিয়োগ, ব্যবসার সম্প্রসারণ, বহুজাতিক কোম্পানির পাশাপাশি দেশীয় কোম্পানিগুলোর রমরমা কেমিকেল বাণিজ্য, সেচ ও রাসায়নিক সার ইত্যাদি প্রয়োগের ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে বাগান থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভোক্তাদের কাছে আম সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ, দিনাজপুর, রংপুর, নাটোর, মেহেরপুর, সাতক্ষীরায় এরকম অনেক জেলায় আম চাষের সম্প্রসারণ ঘটেছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইন্টারভেনশনের মাধ্যমে নতুন প্রজাতির আম চাষ। কিন্তু গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাত, ল্যাংড়া, ফজলি, আশ্বিনা আমের উৎপাদন রাজশাহী-নওগাঁ-সাতক্ষীরার চেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনেক গুণ বেশি। তাছাড়া ফজলি ও আশ্বিনা আমের প্রায় ৯০ শতাংশ উৎপাদন এ জেলায়। কেননা এ দুটো প্রজাতির আম চাষ অন্য জেলায় তেমনভাবে নেই। শ্রাবণ মাসে ফজলি এবং ভাদ্র মাসেও আশ্বিনা গাছে ঝুলে থাকে। ব্রিটিশ যুগের প্রথম দিকে ফজলি বিবি এক ইংরেজ সাহেবকে যে আম খাইয়ে আতিথেয়তা প্রদান করেন পরবর্তী সময়ে সেইটি ফজলি আম নামে নামকরণ হয়ে পড়ে।
এত সমস্ত তথ্য-উপাত্ত বিরাজমান সত্ত্বেও ফজলি আমের জিআই নিবন্ধন রাজশাহীর অনুকূলে বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে কেমন করে? কেমন করে রেশমের নিবন্ধন রাজশাহী লাভ করে? ইতিহাস, ঐতিহ্য, উৎপাদন এবং বাস্তবতা উপেক্ষা করে জিআই স্বীকৃতি কি ভাবে সম্ভব? এটি কি আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত, না BARI-র মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অদূরদর্শিতা, খামখেয়ালীপনা? আমার মনে হয় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের খামখেয়ালীপনা। এটা প্রমাণ করে যে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে প্রান্তিক কৃষক ভাইদের সাথে যোগাযোগ ক্ষীণ। এ জেলার যে কোনো আমচাষি, আম ব্যবসায়ী কিংবা সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করা হলেও প্রকৃত তথ্য জানার সুযোগ অবারিত ছিল। তাছাড়া ভোলাহাট উপজেলা সদরে ২০০১ সালে আম ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এ বিষয়টি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জানা থাকলেও মতবিনিময়ের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি। কেননা জিআই পণ্য ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে ক্ষিরসাপাত ছাড়া গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি, আশ্বিনা, গৌড়মতি ইত্যাদি আমের নাম সুপারিশ করা হয়েছে বলে মনে হয় না। সম্ভবত এ জেলা থেকে ক্ষিরসাপাত আম নিবন্ধনের জন্য সুপারিশ করা হয় এবং নিবন্ধন লাভ করে। যে কারণে উপযুক্ত কোনো প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও ফজলি আমের নিবন্ধন রাজশাহীর নামে প্রক্রিয়াধীন। কিন্তু এ প্রবন্ধকার ২৪ফেব্রুয়ারি ২০১৭ পণ্যস্বত্ব প্রশ্নে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কিছু পণ্য অন্তর্ভুক্তির দাবিদার এবং ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ জিআই পণ্য হিসেবে গোপালভোগ ও ফজলি বাদ পড়ল কেন প্রবন্ধ দুটি জাতীয় গণমাধ্যমে মুদ্রিত হয়। প্রবন্ধে জেলার সম্ভাব্য পণ্য তালিকা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু কে শোনে কার কথা!
বাস্তবতাকে অস্বীকার করে রাজশাহী সিল্ক এবং প্রক্রিয়াধীন ফজলি আমের পণ্যস্বত্ব রাজশাহীর অনুকূলে বরাদ্দ হলে তা হবে সত্যের চরম বরখেলাপ এবং ডব্লিউটিওর গাইডলাইনকে অস্বীকার করা। চাঁপাইনবাবগঞ্জকে আমের রাজধানী ঘোষণা করার পর ফজলি আমের পণ্যস্বত্ব থেকে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। বরং গোপালভোগ, ল্যাংড়া, আশ্বিনা, গৌড়মতিসহ ফজলি আমের পণ্যস্বত্ব চাঁপাইনবাবগঞ্জের নামে নিবন্ধন দেয়া হোক। রেশমের নিবন্ধন বাতিল করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অনুকূলে বরাদ্দ করা হোক। যদি এসবের প্রতিফলন না ঘটে তবে চরম ধৃষ্টতার দায়ভার BARC নেবে, না BARI-র ওপর বর্তাবে। কিন্তু অসত্য সংশোধনের উপায় কী?

জাহাঙ্গীর সেলিম : লেখক ও গবেষক