জামানত হারালেন মাহাথির, ঝুলন্ত পার্লামেন্টের পথে মালয়েশিয়া

12

দুই দশকেরও বেশি সময় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা মাহাথির মোহাম্মদ ৫৩ বছরে প্রথমবার নিজের পার্লামেন্টারি আসন খুইয়েছেন। গত শনিবারের ভোটে লংকাউয়ি আসনে তিনি ৫ প্রার্থীর মধ্যে চতুর্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বিভিন্ন আসনের প্রাপ্ত ফল মালয়েশিয়ায় ঝুলন্ত পার্লামেন্টেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আনোয়ার ইব্রাহিমের পাকাতান হারাপান ২২২ আসনের পার্লামেন্টের ৮২টি নিজেদের ব্যাগে ভরতে পেরেছে। তাদের পেছনে রয়েছে মুহিউদ্দিন ইয়াসিনের পারিকাতান ন্যাশনাল, তারা পেয়েছে ৭২টি আসন। প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল সাবরি ইয়াকুবের ক্ষমতাসীন বারিসান ন্যাশনাল জোটের ভরাডুবি হয়েছে; তারা পেয়েছে এখন পর্যন্ত মাত্র ৩০টি আসন।

স্বাধীনতার পর ছয় দশক ধরে মালয়েশিয়া শাসন করা বারিসানের এমন ভরাডুবি মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় ধরনের বদলেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে।ভোটের আগে জনমত জরিপে আনোয়ারকে এগিয়ে রাখা হলেও মুহিউদ্দিনের জোটের অভাবনীয় ফলও অনেককে চমকে দিয়েছে। কট্টরপন্থি বেশ কয়েকটি দলের সমর্থন তাকে বেশ খানিকটা এগিয়ে দিয়েছে বলেও ভাষ্য বিশ্লেষকদের। এসবের পাশাপাশি বিশ্ব গণমাধ্যমের কাছে বড় খবর হয়ে এসেছে মাহাথিরের করুণ পরাজয়ের। স্ট্রেইট টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামানত ধরে রাখতে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেতে হত মাহাথিরের; অথচ তিনি পেয়েছেন ৬ দশমিক ৮ শতাংশ, সাকুল্যে মাত্র ৪ হাজার ৫৬৬ ভোট।

৯৭ বছর বয়সী এ রাজনীতিক দুই দফায় দুই দশকেরও বেশি সময় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীত্ব সামলেছেন। সেই তারই শেষ পর্যন্ত জামানত বাজেয়াপ্ত হল। এর মধ্য দিয়ে এশিয়ার এক সময়ের প্রভাবশালী এ ব্যক্তিত্বের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারেরও ইতি ঘটতে যাচ্ছে বলে অনুমান বিশ্লেষকদের। লংকাউয়ির ওই আসন জিতেছেন আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিনের পারিকাতান অ্যালায়েন্সের প্রার্থী মোহাম্মদ সুহাইমি আবদুল্লাহ। তিনি পেয়েছেন ২৫ হাজার ৪৬৩ ভোট, দ্বিতীয় হওয়া বারিসান ন্যাশনালের আরমিশাহ সিরাজ পেয়েছেন ১১ হাজার ৯৪৫ ভোট। ২০১৮ সালে এই আসনে মাহাথির পেয়েছিলেন ৩৪ হাজার ৫২৭ ভোট, মোট ভোটের ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ। সেবার তার বিরুদ্ধে বারিসান ন্যাশনালের প্রার্থী পেয়েছিল ২৯ দশমিক ১ শতাংশ ভোট। ১৯৬৯ সালের পর এবারই প্রথম মাহাথির কোনো নির্বাচনে হারলেন। চলতি মাসে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাহাথির বলেছিলেন, হেরে গেলে তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন। “১০০ বছর পর্যন্ত রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবো, এমনটা দেখছি না আমি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আমার অভিজ্ঞতা পার্টির তরুণ নেতাদের মধ্যে স্থানান্তর করা,” বলেছিলেন তিনি।