জাতিসংঘে ফের চীন-ভারতের নীরবতা

4

ইউক্রেনে চলমান রুশ আগ্রাসনের মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকে যুদ্ধ থামাতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ১৪১ দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। বিপক্ষে পড়েছে মাত্র পাঁচ ভোট। ৩৫ দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। ভোট না দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত ও চীন। প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে: রাশিয়া, বেলারুশ, সিরিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং ইরিত্রিয়া। ভোটাভুটির আগে প্রস্তাবক দেশগুলো আশা করেছিল, প্রস্তাবের পক্ষে অন্তত ১০০ ভোট পড়বে।

কিন্তু, শেষপর্যন্ত ১৪১ দেশ প্রস্তাব সমর্থন করায় তারাও কিছুটা অবাক হয়েছে। এ ব্যাপারে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেয়ারবক বলেছেন, এই ফল থেকে স্পষ্ট; যখন শান্তির ওপর আঘাত আসে, তখন সকলে একসঙ্গে দাঁড়ায়। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রাশিয়া যেন অবিলম্বে ইউক্রেনে হামলা বন্ধ করে এবং সেনা ফিরিয়ে নেয়। তারা বেআইনিভাবে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করছে। শুধু তাই নয় রাশিয়া বসতবাড়ি, স্কুল, হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় আক্রমণ করছে। প্রচুর সাধারণ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।

তার মধ্যে নারী, বৃদ্ধ এবং শিশুরাও রয়েছেন। এ ব্যাপারে জাতিসংঘে রুশ দূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেছেন, এই প্রস্তাব গৃহীত হলেও রাশিয়া তার সামরিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। তার দাবি, কিয়েভে বিদ্রোহী বাহিনী এবং রুশ ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদীদের তারা উৎসাহ দেবেন। এদিকে, ইউক্রেন সরকারকে রাশিয়া বারবার চরমপন্থি বলে উল্লেখ করে জানিয়েছে তাদের লক্ষ্য হলো, ইউক্রেনকে চরমপন্থার হাত থেকে বের করতে জেলেনস্কিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া। এর আগে, সোমবার এই প্রস্তাব সাধারণ পরিষদে পেশ করা হয়।

জাতিসংঘের ৭৭ বছরের ইতিহাসে এই নিয়ে ১১ বার এ ধরনের জরুরি অধিবেশন ডেকে প্রস্তাব তোলা হলো। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও এ প্রস্তাব পাস করানোর চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু রাশিয়া তখন ভেটো দেয়। ইউক্রেনের দূত বলেছেন, ইউক্রেনের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়ে গেছে, রাশিয়ার লক্ষ্য শুধু ইউক্রেন অধিকার নয়, গণহত্যাও। তিনি বলেছেন, রাশিয়া বর্বরোচিত কাজ করছে। তারা জেনেভা কনভেনশনে উল্লিখিত প্রস্তাব ভঙ্গ করছে।একইসঙ্গে, পুতিন যেভাবে পারমাণবিক বাহিনীকে সতর্ক করেছেন, তারও নিন্দাজ্ঞাপন করেছে ইউক্রেন।