জমে উঠেছে শিবগঞ্জের ১৩ ইউপির নির্বাচন

45

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় জমে উঠেছে ৩য় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। পোস্টার, ব্যানারে ছেয়ে গেছে অলি-গলি, পাড়া-মহল্লা, হাটবাজার, রাস্তাঘাট। চায়ের দোকানে শুরু হয়েছে প্রার্থীদের জয়-পরাজয় নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আলোচনা। ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। গণসংযোগ, মিছিল চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইকে চলছে জমজমাট প্রচারণা।
জানা যায়, শিবগঞ্জ উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে মোট ১৫টি। এর মধ্যে কানসাট ইউনিয়নের মেয়াদ উত্তীর্ণ না হওয়ায় এবং দুর্লভপুর ইউনিয়নের নির্বাচন বাতিল হওয়ায় ভোট হচ্ছে ১৩টি ইউনিয়নে। এই ১৩ ইউনিয়নে প্রার্থীদের গণসংযোগ, মিছিল, মাইকিং, পোস্টার ব্যানার, চায়ের কাপে ভোটযুদ্ধ সব মিলিয়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে গোটা উপজেলাজুড়ে।
তবে নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থী মোস্তাকুল ইসলাম পিন্টু ও মনাকষা ইউনিয়নে মির্জা শাহাদাৎ হোসেন খুররম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ওই ২টি ইউনিয়নে ভোটের আমেজে কিছুটা ভাটা পড়েছে। তবে চেয়ারম্যান পদে প্রচারণা না থাকলেও বসে নেই সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনের সদস্য পদ প্রার্থীদের প্রচারণা।
গত ১৪ অক্টোবর ৩য় ধাপে দেশের ১ হাজার ৭টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন রয়েছে। তবে গত শনিবার হঠাৎ করেই ভোটার সংক্রান্ত বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন থাকায় দুর্লভপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন বাতিল করা হয়। ফলে ১৩টি ইউনিয়নে নির্বাচন হবে। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে- শাহাবাজপুর, দাইপুকুরিয়া, মোবারকপুর, চককীর্তি, শ্যামপুর, বিনোদপুর, মনাকষা, উজিরপুর, পাঁকা, ঘোড়াপাখিয়া, ধাইনগর, নায়লাভাঙ্গা ও ছত্রাজিতপুর। এর মধ্যে নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ভোট হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন-ইভিএমে।
চেয়ারম্যান পদ প্রার্থীদের মধ্যে ধাইনগর ইউনিয়নে দলীয় প্রতীকে লড়াই করছেন দুজন। এরা হলেন- আওয়ামী লীগের আ ক ম তাবারিয়া চৌধুরী নৌকা এবং জাতীয় পার্টির মোহা. জুয়েল আলী লাঙল। অন্য তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন- একে আসগার মোটরসাইকেল, আবদুল লতিফ চশমা ও সাদিকুল ইসলাম আনারস।
চককীর্তি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মো. আনোয়ার হাসান নৌকা এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএফের মোহা. আবদুল হালিম সিংহ প্রতীকে ভোট করছেন। স্বতন্ত্র হিসেবে মু. হামিদুজ্জামান অটোরিকশা, মোহা. সাদেকুল ইসলাম আনারস ও মো. সারোয়ার-য়ে-আলম চশমা।
শাহবাজপুর ইউনিয়নে মোহাম্মদ নিজামুল হক নৌকা, মোহা. তোজাম্মেল হক আনারস, মো. ফারুক হোসেন চশমা ও মো. শফিকুল ইসলাম মোটরসাইকেল প্রতীকে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন।
শ্যামপুর ইউনিয়নে লড়াই করছেন নৌকা প্রতীকে মোহা. আসাদুজ্জামান, চশমা প্রতীকে নবাব মোহা. শামসুল হোদা, আনারস প্রতীকে মো. জুবায়ের আলম, মোটরসাইকেল প্রতীকে মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম ও ঘোড়া প্রতীকে মো. আবুল কালাম।
বিনোদপুর ইউনিয়নে লড়াইয়ে নেমেছেন ৭ জন। এরা হলেন- মোহা. খাইরুল ইসলাম নৌকা, মো. আজিজুল হক ঘোড়া, মোহা. আবু সাঈদ আনারস, মোহা. আবু সাঈম চশমা, মোহা. আহসান হাবিব টেলিফোন, মোহা. বদিউজ্জামান অটোরিকশা ও মোহা. রুহুল আমিন মোটরসাইকেল।
মোবারকপুর ইউনিয়নে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন ৩ জন। তাদের মধ্যে দলীয় প্রতীকে ভোট করছেন নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের মো. কামাল উদ্দিন ও মশাল নিয়ে জাসদের মো. ময়জুল ইসলাম। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে ভোট করছেন মো. মাহমুদুল হক হায়দারী।
দাইপুকুরিয়া ইউনিয়নে ৪ জন নেমেছেন ভোটের লড়াইয়ে। এরা হলেন- মোহা. আলমগীর নৌকা, মোহা. আশরাফুল আলম আনারস, মোহা. ইসমাইল হোসেন চশমা ও মোহা. আতিকুল ইসলাম অটোরিকশা।
উজিরপুর ইউনিয়নে মো. দুরুল হোদা নৌকা, মো. শরিফ উদ্দিন মোটরসাইকেল, মোসা. জাইদা নাহার টেলিফোন ও মোহা. ফয়েজ উদ্দিন ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।
পাঁকা ইউনিয়নে মো. আতাউর রহমান নৌকা, মোহা. আবদুল মালেক চশমা, মোহা. ইসমাইল হোসেন আনারস ও মো. জালাল উদ্দিন মোটরসাইকেল প্রতীকে লড়াইয়ে নেমেছেন।
ছত্রাজিতপুর ইউনিয়নে লড়াইয়ে নেমেছেন ৪ জন। এরা হলেনÑ মো. গোলাম রব্বানী নৌকা, মো. গোলাম মোস্তফা মোটরসাইকেল, মো. তফিকুল ইসলাম আনারস ও মাহবুব আলম ঘোড়া।
ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নে মো. মামুন-অর রশিদ নৌকা এবং মোহা. আখতার বারী আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।