জনগণ ভুল করে না, নারায়ণগঞ্জে সেটাই প্রতিভাত হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

8

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পারায় এটিই প্রতীয়মান হয়েছে, জনগণ কখনো ভুল করে না। তিনি বলেন, ‘জনগণ কখনো ভুল করে না, এটা হলো বাস্তবতা। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেটাই প্রতিভাত হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও নবনির্বাচিত কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে নবনির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে শপথবাক্য পাঠ করান।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, গণতন্ত্রে এবং জনগণের ভোটের অধিকারে। জনগণই ভোট দিয়ে তাদের পছন্দমতো প্রার্থী নির্বাচন করবে, যারা তাদের জন্য কাজ করবে। কারণ, জনগণ কখনো ভুল করে না, এটা হলো বাস্তবতা। কাজেই জনগণের ওপর আস্থা রেখেই আমরা সব রকম কাজ করি।’
নারায়ণগঞ্জে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মানুষ তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের প্রার্থীদের নির্বাচিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের, বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের সব মানুষকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে একটা বিরাট দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো। নারায়ণগঞ্জবাসী নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দলের প্রার্থীকে জয়যুক্ত করাতেও তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানান।
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিজের ভোগ-বিলাসের কথা না ভেবে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে কাজ করারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। আর বিএনপি আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখে না বলেই সবসময় অপপ্রচার চালায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, জনগণ তাদের ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে ভোট দিয়েছে, তার মূল্যায়ন করতে হবে। আর উন্নয়নের গতিধারাটা অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি বলেন, আপনারা জনগণের কল্যাণে কাজ করবেন বলে যে শপথ নিয়েছেন সেই শপথটা ভুলবেন না। যে ওয়াদা জনগণের কাছে দিয়েছেন তাও ভুলবেন না। মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন। কেননা যতটুকু আপনি দিতে পারবেন, তাতেই আপনার তৃপ্তি। ভোগ-বিলাসে কোনো তৃপ্তি নেই। আর রাজনৈতিক নেতা হতে হলে জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ হয়েই আপনাদের কাজ করতে হবে।
জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তিনি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করার পাশাপাশি তার সরকার জনকল্যাণে যেসব পরিকল্পনা ও প্রকল্প গ্রহণ করেছে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়নেও তিনি জনপ্রতিনিধিদের লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, মানুষ কিন্তু খুব সচেতন। কাজেই সেটা মাথায় রেখেই আপনারা আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে একটানা ১৩ বছর রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকার সুযোগ পাওয়াতেই দেশকে আজ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নিয়ে যেতে সমর্থ হয়েছেন। করোনার মধ্যেও জিডিপি ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে এবং মাথাপিছু আয় বেড়েছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে দেশের উন্নয়নের খ-চিত্রও বক্তব্যে তুলে আনেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে কাউন্সিলরদের শপথবাক্য পাঠ করান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।