ছেলেদের সঙ্গে খেলতে ভয় পাই না : নোশিন

7

নোশিন আনজুমের দুরন্ত সাহস। একজন মেয়ে হয়েও দাবার কোর্টে সমানতালে ছেলেদের সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি সাফল্যও ধরা দেওয়ায় অগ্রযাত্রা তার থেমে নেই। এই তো কিছু দিন আগে হওয়া জাতীয় জুনিয়র দাবা চ্যাম্পিয়নশিপের ওপেন বিভাগে রানার আপ হয়েছেন। যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ৮০ জন ছেলে ও ২ জন মেয়ে! মূলত বুদ্ধিদীপ্ত পারফরম্যান্সই তাকে প্রিমিয়ার লিগ দাবায় প্রথমবার খেলার সুযোগ করে দিয়েছে। এখন ছেলেদের সঙ্গে লড়াই করেই এগিয়ে যাওয়ার সংকল্প ১৮ বছর বয়সী দাবাড়ুর। এএসএম নিশাত ও আফরুজা ইশরাত জাহানের কনিষ্ঠ সন্তান নোশিন। তারা একভাই, এক বোন। বাবার মাধ্যমে বড় ভাই ইরশাদ রাফিমের সঙ্গেই তার দাবায় হাতেখড়ি। রাফিম একপর্যায়ে দাবা থেকে দূরে সরে গেলেও নোশিন ছিলেন নাছোড়বান্দা! বিভিন্ন টুর্নামেন্ট খেলার পর একপর্যায়ে ওপেন বিভাগেও (যেখানে ছেলে ও মেয়েরা একই সঙ্গে খেলে থাকে) সুযোগ হয় তার। ২০১৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৬ বিভাগে রানার আপ পজিশনে সমান পয়েন্ট পেয়েও টাইব্রেকিংয়ে চতুর্থ হয়ে আলোচনায় চলে আসেন।

তিন বছর পর তো শিরোপার স্বাদই পেয়েছেন। বলা যায় ২০২২ সাল তার জন্য আরও পয়মন্ত। অনূর্ধ্ব-১৮ ওপেন বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর জুনিয়র দাবাতে হয়েছেন রানার আপ। এমন সাফল্যের পর তো এবার প্রিমিয়ার লিগের দরজাও উন্মুক্ত হয়ে গেছে। নোশিন এখন এই পর্যায়েই থেমে থাকতে চাইছেন না। লক্ষ্য তার এখন বহুদূর।বলেছেন, ‘বড় দাবাড়ু হতে হলে ছেলেদের সঙ্গে অর্থাৎ ওপেন বিভাগে খেলে নিজেকে পরিপক্ক করতে হবে। কেননা দাবাতে ছেলেরা অনেক এগিয়ে রয়েছে। তাদের সঙ্গে খেলতে পারলে অনেক কিছু শেখার আছে। এই যেমন প্রিমিয়ার লিগে অনেক গ্র্যান্ডমাস্টার খেলবে। তাদের সঙ্গে খেলতে পারলে ভালো অভিজ্ঞতা হবে।’ তবে ছেলেদের সঙ্গে খেললেও মনে কোনও ভয়ডর নেই তার। বরং আরও দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ তিনি।

ভিকারুন নিসা কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সোজাসাপ্টা ভঙ্গিতে বলেছেন, ‘ছেলেদের সঙ্গে খেলতে ভয় পাই না। লড়াই করে এগিয়ে যেতে চাই। কেননা আমাকে বড় দাবাড়ু হতে হলে সবার সঙ্গে খেলতে হবে। শুধু মেয়েদের সঙ্গে খেললে হবে না। তা নাহলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবো না।’ ভিনদেশি তারকাদের মধ্যে নোশিনের প্রিয় খেলোয়াড় ম্যাগনাস কার্লসেন। আর দেশে দুই গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান ও এনামুল হোসেন রাজীব। তাদের আদর্শ মেনে নিজেও গ্র্যান্ডমাস্টার হতে চাইছেন। তবে বাংলাদেশের দাবাতে এখনও দীর্ঘমেয়াদে স্পন্সর সংকট রয়েই গেছে।

তাই চলার পথে তাদেরও পাশে চান তিনি, ‘দেখুন এখনও আমাদের এখানে স্পন্সর সংকট রয়ে গেছে। একজন মেয়ে বা ছেলেকে গ্র্যান্ডমাস্টার হতে গেলে অনেক সাধনা করতে হয়। দেশে কিংবা বিদেশে খেলতে হয় নিয়মিত। তাহলে রেটিংয়ের পাশাপাশি নর্মও হয়। এখন আমার যা বয়স, তাতে করে দীর্ঘমেয়াদে স্পন্সর না পেলে এগিয়ে যেতে পারবো না।’ সাফল্য ধরা দেওয়ায় ২১০৩ রেটিংধারী দাবাড়ুর মনে অনেক স্বপ্ন। পড়াশোনার পাশাপাশি দাবাকে ধ্যান-জ্ঞান মনে করে এগিয়ে যেতে চাচ্ছেন। মা আফরুজা চাইতেন ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা চর্চা করুক। তাইতো এখনও লেগে আছেন মেয়ের সঙ্গে। বাবা-মার অনুপ্রেরণা ও নিজের কঠিন পরিশ্রম দিয়ে নোশিনও চাইছেন স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে। এখন সবার সহযোগিতা পেলেই সেই পথটা হবে আরও মসৃণ।