ছিনতাইকারীর শিকার হওয়া এড়াতে

82

রাস্তাঘাটে অসাবধান হলেই বিপদ! চোর, ছিনতাইকারী, পকেটমারের পাল্লায় পড়ে যেতে পারেন যেকোনো সময়ে। এই ধরনের বিপদ থেকে সাবধান হওয়ার জন্য কয়েকটি বিষয়ের উপর নজর দিন।
জীবনযাপন-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন অবলম্বনে কয়েকটি পরিস্তিতি এখানে দেওয়া হল, যেগুলো থেকে সাবধানে থাকলে এড়ানো যেতে পারে বিপদ।
কানে হেডফোন গুঁজে জগিং: ভোরবেলা কিংবা রাতে আবাসিক এলাকাগুলোর রাস্তায় কোলাহল কমে যায়। ফলে এই সময় জগিং বা হাঁটাহাঁটির জন্য বেছে নেন অনেকেই। আর এ সময় বেশিরভাই কানে হেডফোন গুঁজে গান শোনেন। ফলে চোখ খোলা থাকলেও আশপাশের পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে আপনার কান। গুরুত্বপূর্ণ এই ইন্দ্রিয়টি বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে পেছনে থেকে কেউ আক্রমণ করতে আসলে আপনি আতœরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবেন না।
অপ্রত্যাশিত ধাক্কা: অপ্রত্যাশিত জায়গায় পরিচিত কারও সঙ্গে দেখা হয়ে গেলে ঘটনার আকস্মিকতায় কিছুক্ষণের জন্য হলেও আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে সতর্কতা কমে যায়। অপরাধীরা এমন সুযোগে অপেক্ষায় থাকে। তাই নিরিবিলি স্থানে পরিচিত কারও সঙ্গে দেখা হলে সেখানেই গল্পে মশগুল না হয়ে লোকজন আছে এমন কিংবা কোনও দোকানের সামনে এসে কুশল বিনিময় করা উচিত।
সন্তানের প্রতি নজর রাখা: পরিবারের সবাইকে নিয়ে বনভোজন মানেই গৃহস্থালী আড্ডার আসর। বড়দের এই আসরে ছোটদের কোনো আগ্রহ নেই, তাই তারা নিজেদের মতো ঘুরে বেড়ায়। তবে সন্তানের উপর আপনার নজর রাখতে হবে।
মা-বাবার অলক্ষ্যে ছেলেধরা আপনার সন্তানের উপর হামলা চালাতে পারে সহজেই। শুধু তাই নয়, আপনার অসাবধানতার কারণে সন্তান দূরে কোথাও চলে যেতে পারে, আশপাশের জলাশয় বা ঝুঁকিপূর্ণ কোন স্থানে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।
ব্যস্ত স্থানে ফোনে কথা বলা: রাস্তায় পার হওয়ার সময় ফোনে কথা বলা সড়ক দুর্ঘটনার একটি অন্যতম কারণ। সিএনজির ছাঁদ কেটে মোবাইল চুরির ঘটনা প্রায়ই শোনা যায় আমাদের দেশে। বাসে জানালার পাশে বসে মোবাইলে কথা বলার সময় ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে প্রায়শই। তাই গণপরিবহনে ফোনে কথা বলার সময় সতর্ক থাকতে হবে, সম্ভব হলে হেডফোনে কথা বলতে পারেন। এসএমএস কিংবা চ্যাট করা নিষিদ্ধ এসময়।
অনেকে আবার রাতে নির্জন রাস্তায় দিয়ে যাওয়ার সময় ভয় কাটাতে ফোনে কথা বলেন। তবে হাতের ফোনটি যদি দামি হয়, তবে তা আবার ছিনতাইকারীকে দাওয়াত দেওয়া হতে পারে।
ব্যাগ সাবধান: রেল স্টেশন, বাস কাউন্টার ইত্যাদি জায়গায় মালামাল নিজ দায়িত্বে রাখার সতর্কবাণী লেখা থাকলেও অনেকেই ব্যাগ পাশে রেখে ফোন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এসব স্থানে ব্যাগ কোলে রাখা উচিত। বড় ব্যাগ হলে দুই পায়ের ফাঁকে রাখতে হবে।
কুলিরুপি ব্যাগ চোর থেকেও সাবধান থাকতে হবে। রিক্সায় যাতায়াতের সময় ব্যাগের বেল্ট গায়ে পেঁচিয়ে রাখতে হবে। বাসে কিংবা ভিড়ের মধ্যে হাঁটার সময় মানিব্যাগ সামনের পকেটে রাখতে হবে।
শপিংয়ের ব্যাগ: বাজার করার সময় প্রতিটি পণ্যের পৃথক ব্যাগ দেওয়া হয় দোকান থেকে। হাতে অনেক ব্যাগ থাকলে কোনো দোকানে ব্যাগ ফেলে আসার সম্ভাবনা বাড়ে, তাই সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
আবার এই অবস্থায় ছিনতাইকারীর আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষাও কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শপিংয়ে যাওয়ার সময় কাঁধে একটি বড় ব্যাকপ্যাক নিয়ে যেতে পারেন।
অথবা কয়েকটি ব্যাগের পণ্য একটি ব্যাগে নিয়ে ব্যাগের সংখ্যা কমাতে হবে। হাতের ব্যাগগুলো শক্ত করে ধরে রাখতে হবে, নইলে হাত থেকে ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
ট্রাকের পাশে গাড়ি পার্ক: বড় পিকআপ ভ্যান বা ট্রাকের পাশে গাড়ি পার্ক করা একেবারেই ঠিক না। কারণ বড় গাড়ির পেছনে অপরাধী সহজেই লুকিয়ে থাকতে পারে। আর বড় গাড়ির আড়ালে আপনি থাকবেন লোকচক্ষুর আড়ালে। আর ছিনতাইকারীর জন্য এটাই উপযুক্ত পরিবেশ।