ছাড়া পেলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত খায়রুজ্জামান

4

ছাড়া পেলেন মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান। বুধবার মালয়েশিয়ার একটি আদালত তাকে মুক্তির নির্দেশ দেয়। এর আগে গত সপ্তাহে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। খায়রুজ্জামানের স্ত্রী রিটা রহমানের বরাত দিয়ে ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে অনলাইন জানিয়েছে, মুক্তি পাওয়ার পর খায়রুজ্জামান তার স্ত্রীকে ফোন করে এই খুশির খবর জানান। রিটা রহমান বলেন, তিনি (খায়রুজ্জামান) আমাকে ফোন করে বলেছেন আইনজীবীরা তাকে রিসিভ করে বাড়িতে পৌঁছে দিতে সেখানে রয়েছেন। ফ্রি মালয়েশিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিটা রহমান বলেন, সৃষ্টিকর্তাকে এবং তার মুক্তিতে সহায়তাকারী সবাইকে ধন্যবাদ। এইজন্য মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষকেও ধন্যবাদ জানাই।

খায়রুজ্জামানের আইনজীবী জিও চৌ ইং বলেন, কোনো ধরনের শর্ত ছাড়াই তিনি মুক্তি পেয়েছেন। তিনি এখন একজন স্বাধীন মানুষ। তিনি জানান, স্থানীয় সময় ১টার দিকে খায়রুজ্জামানের মুক্তির ব্যাপারে তাদেরকে অবহিত করে তাকে (খায়রুজ্জামান) রিসিভ করতে যেতে বলা হয়। উল্লেখ্য, এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভোরে খায়রুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে মালয়েশিয়ার অভিবাসন পুলিশ। সেদিন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হামজাহ জাইনুদিন বলেছিলেন, আইন মেনেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে তার নিজের দেশ থেকে অনুরোধ ছিল।

তবে ঠিক কি অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আছে সেই ব্যাপারে তখন কিছু জানাননি তিনি। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর খায়রুজ্জামান ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে চার জাতীয় নেতা হত্যায় অভিযুক্ত ছিলেন। নানা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০০৭ সালে তাকে মালয়েশিয়ায় হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে তাকে ঢাকায় ফিরতে বলা হয়। কিন্তু দেশে ফেরায় ঝুঁকি আছে দাবি করেন তিনি এবং জাতিসংঘের শরণার্থী হিসেবে একটি পরিচয়পত্র নেন। এরপর থেকে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি শরণার্থী হিসেবে দেশটিতে বসবাস করছেন।