চড়া দাম দিয়েই জয় কিনল রিয়াল

66

03-realক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ঘরে ফেরার ম্যাচ। লিসবনের মাঠে রাজার মতোই সংবর্ধনা পেলেন পর্তুগিজ তারকা। কিন্তু পর্তুগালের দল স্পোর্টিং তাদের ঘরের ছেলের ক্লাবকে ছেড়ে কথা বলেনি একটুকুও। তীব্র লড়াইয়ের পর করিম বেনজেমার ৮৭ মিনিটের গোল নিশ্চিত করেছে জিনেদিন জিদানের শিষ্যদের ২-১ গোলের জয়। টানা ২০ বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিলেও এই ম্যাচে রিয়ালের আক্ষেপ-গ্যারেথ বেলের চোট। জয়টা যেন বেলের চোটের বিনিময়েই পেল রিয়াল মাদ্রিদ। বেনজেমা বসেছিলেন ডাগ আউটে। কিন্তু খেলার মাঝপথে পায়ের গোড়ালির চোটে বেল মাঠ ছাড়লে বেনজেমাকেই নামিয়েছিলেন জিদান। শেষ পর্যন্ত ফরাসি স্ট্রাইকারই ত্রাণকর্তা হয়ে উঠলেন রিয়ালের জন্য। বেলের চোট বার্সেলোনার বিপক্ষে মহারণের আগে রিয়ালের জন্য বড় একটা চিন্তার বিষয়ই।  চ্যাম্পিয়নস লিগে ১০০ গোলের মাইলফলকের হাতছোঁয়া দূরত্বে দাঁড়িয়ে লিসবনে এসেছিলেন রোনালদো। আর ২ গোল হলেই ইউরোপ-সেরার লড়াইয়ে গোলের সেঞ্চুরি! তাঁর ভক্তরা হয়তো মনে মনে প্রার্থনা করছিলেন শৈশব-কৈশোরে বেড়ে ওঠার জায়গা লিসবনেই সেই কীর্তিটা গড়ে যান রোনালদো। কিন্তু সেটি হয়নি। তবে নিজে গোল করতে না পারলেও রিয়ালের প্রথম গোলে অবদান রেখেছেন তিনি। লিসবনের স্তাদিও হোসে আলভালাদেতে ম্যাচের ২৯ মিনিটেই ১-০ গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল। রোনালদোর পাস থেকে গোলটি করেন রাফায়েল ভারানে। পিছিয়ে পড়ে গোল শোধে মরিয়া হয়ে উঠলেও হুয়াও পাহেইরার লালকার্ড বড় ধাক্কা হয়েই আসে তাদের জন্য। মাতেও কোভাচিচের সঙ্গে বিবাদের জড়িয়ে লালকার্ড দেখলেও অনেকের মনে হয়েছে রেফারি একটু বেশিই শাস্তি দিয়ে ফেলেছেন তাঁকে। তবে জোর লড়াইয়ের ফল স্পোর্টিং পেয়ে যায় রিয়ালের ফাবিও কোয়েন্ত্রাওয়ের ভুলে। স্পোর্টিংয়ের একটি আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে বক্সের মধ্যে বলে হাত লাগিয়ে ফেলেন কোয়েন্ত্রাও। পেনাল্টি থেকে স্পোর্টিংকে সমতায় ফেরান আদ্রিয়েন সিলভা।  ১-১ স্কোরলাইনটাকেই যখন ম্যাচের পরিণতি মনে হচ্ছিল, ঠিক সেই সময় নায়ক হয়ে উঠলেন করিম বেনজেমা। সার্জিও রামোস ৮৭ মিনিটে দারুণ এক ক্রস ফেললেন স্পোর্টিংয়ের গোলমুখে। সেই ক্রস থেকে রিয়ালকে জয় এনে দেন চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরা বেনজেমা।  কষ্টের এই জয়ে ম্যাচ শেষে স্বস্তিই ছিল রিয়াল কোচ জিদানের চোখে-মুখে। তাঁর স্বস্তির জায়গাটা হচ্ছে রিয়ালের খেলোয়াড়দের শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়া, ‘আমার ভালো লাগছে কারণ  এই ম্যাচটায় আমরা শেষ পর্যন্ত লড়ে গেছি। আমরা জায়গা ছেড়ে দিইনি। গোল খেয়ে বসলে অনেকেই মনে করে ম্যাচে ফেরা আর সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা খেলে গেছি। চেষ্টা করে গেছি। শেষ পর্যন্ত আমরা গোল পেয়েছি। আমি দলের জন্য তো বটেই, গোল করায় করিমকে নিয়েও খুশি।’ সূত্র: এএফপি।