চুক্তি বাতিলে যুক্তরাষ্ট্রকে মূল্য দিতে হবে : রুহানির হুঁশিয়ারি

134

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ৬ পরাশক্তি এবং তেহরানের মধ্যে সম্পাদিত পারমাণবিক চুক্তি ২০১৬ সালের জুলাই মাসে কার্যকর হয়। চুক্তির আওতায় ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি কমিয়ে আনতে আর পরাশক্তিগুলো তেহরানের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আংশিক প্রত্যাহারে রাজি হয়। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান চুক্তি বাতিল করলে যুক্তরাষ্ট্রকে চড়া মূল্য দিতে হবে। গত সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, এই চুক্তি বাতিলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও লাভ হবে না বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রীতি নষ্ট হবে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয় তারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সময়সীমা আরও বাড়াবে। চুক্তিতে বর্ণিত জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) অনুযায়ী, চুক্তির শর্তগুলো ইরান মেনে চলছে কি না, তা প্রতি ৯০ দিন পর পর কংগ্রেসকে জানানোর কথা পররাষ্ট্র দফতরের। ট্রাম্প অবশ্য দায়িত্ব নেওয়ার শুরু থেকেই বলে আসছে এটি খুবই ‘বাজে চুক্তি’। তার এই মনোভাবের প্রেক্ষিতে রুহানি এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পের এমন প্রতিক্রিয়া ভাবা যায় না। আমরা অনেক চিন্তাভাবনা করে পদক্ষেপ নিয়েছি।’ ২০১৫ সালের চুক্তি অনুসারে, পারমাণবিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার যোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ করতে পারবে না ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ওই কর্মসূচিকে ‘উস্কানিমূলক’ দাবি করলেও তেহরান বলছে, তার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে জাতিসংঘের প্রস্তাব লঙ্ঘিত হচ্ছে না বলে দাবি তেহরানের। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে ইরান নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি রকেট সিমোরগের সফল পরীক্ষা চালিয়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে। আগস্ট মাসে মার্কিন অর্থবিভাগ নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত জানায়। ট্রাম্প চাইছেন এই চুক্তি থেকে বের হয়ে আসতে। সেক্ষেত্রে কংগ্রেস ৬০ দিনের সময় পাবে ভাবার যে চুক্তির আওতায় যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিলো তা পুনবর্হাল করা হবে কিনা। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদ পর্যবেক্ষণের ব্রিটিশ সংস্থা মিডল ইস্ট মনিটর জানায়, ট্রাম্প এমন সিদ্ধান্ত নিলে যুক্তরাষ্ট্রের একা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ আর কোনও দেশ এই চুক্তি বাতিলে আগ্রহী নয়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্ররাও এই চুক্তি রাখার পক্ষে।